সিলিকন ভ্যালি মার্কিন নির্বাচনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খোলাখুলি পক্ষ নিল, আর একটি পক্ষ হারল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের এক মাস পর নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, রিড হফম্যান—লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা, ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান গ্রেলকের অংশীদার, আর প্রযুক্তিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বৃহত্তম দাতাদের একজন—বন্ধুদের বলেছেন তিনি ভয় পান আসন্ন প্রশাসন রাজনৈতিক শত্রুদের তাড়া করবে আর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার কথা ভাবছেন।
বিশেষ করে হফম্যান কেন
হফম্যান কমলা হ্যারিসকে চেক লেখার চেয়ে বেশি করেছেন। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লেখক ই. জিন ক্যারলের মানহানি মামলায় অর্থ দেন, যা সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রায়ে শেষ হয়। জুলাইয়ে ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টার পর তিনি এক ব্যক্তিগত সমাবেশে বলেন, তিনি চাইতেন গুলিবর্ষণকারীকে ‘শহীদ’ বানাতে—যে মন্তব্যের জন্য তিনি তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চান আর যা ট্রাম্পের মিত্ররা তারপর থেকে বারবার তুলেছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ও প্রায়ই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাঁদের নিপীড়ক মনে করেন তাঁদের পেছনে লাগবেন। হফম্যান, রেকর্ড অনুযায়ী, তা আক্ষরিক নেওয়ার সবচেয়ে বেশি কারণ থাকা মানুষদের একজন। পরে তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন তিনি যাচ্ছেন না; প্রতিবেদনটি বর্ণনা করে নির্বাচনের পরের সপ্তাহগুলোয় তিনি বন্ধুদের কী বলেছেন।
অল্টম্যানের ভিন্ন সমস্যা
ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানও হ্যারিসকে সমর্থন করেন, যদিও অনেক কম দৃশ্যমানভাবে। তাঁর মুশকিল প্রেসিডেন্ট নন, তাঁর পাশের মানুষটি। ইলন মাস্ক, যিনি ২০১৫ সালে অল্টম্যানের সঙ্গে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন, ২০১৮ সালে ছাড়েন, আর ২০২৪ কাটিয়েছেন এর বিরুদ্ধে মামলা ও প্রতিদ্বন্দ্বী গড়ায়, ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে ২৫ কোটি ডলার খরচ করেছেন আর এখন ট্রানজিশনে দপ্তর ও সরকার ছাঁটার ম্যান্ডেট পেয়েছেন। যে প্রশাসনে মাস্ক এআই নীতি গড়েন, তাতে ওপেনএআইয়ের নিয়ন্ত্রক জীবন কঠিন হয়, আর অল্টম্যান তা জানেন: ফলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান।
কে কাকে সমর্থন করলেন
হ্যারিসের পক্ষে: হফম্যান, অল্টম্যান, বিল গেটস (সমর্থক গোষ্ঠীকে নাকি ৫ কোটি ডলার), বিনোদ খোসলা, মার্ক কিউবান ও পুরোনো প্রহরীদের বেশির ভাগ। ট্রাম্পের পক্ষে: মাস্ক, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেন হরোউইৎস, পিটার থিল ও তাঁর নেটওয়ার্ক—নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্টসহ—আর তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের একটি ঢেউ। বাইরে থাকা: মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস ও সুন্দর পিচাই, যাঁরা সবাই ট্রাম্পকে ফোনে অভিনন্দন জানান আর যাঁদের কোম্পানি সবাই তারপর অভিষেকে অনুদান দিয়েছে।
ভ্যালির বাইরে কেন জরুরি
এই মানুষদের চালানো কোম্পানিগুলো ঠিক করে বাংলাদেশিরা ফেসবুকে কী দেখেন, কোন এআই মডেল কোন শর্তে ব্যবহার করতে পারেন, আর দেশের রপ্তানিকারকেরা যে ক্লাউড সেবায় নির্ভর করেন তা তাদের জন্য খোলা থাকে কি না। বন্ধু কোম্পানিকে পুরস্কৃত আর বৈরীকে শাস্তি দেওয়া মার্কিন প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তগুলো বদলায়, আর কোম্পানিগুলো তা জানে—তাই ফোন কল ও অনুদান। প্রযুক্তিশিল্প ২০২৪ কাটাল তা শিখতে, যা বাংলাদেশের প্রতিটি শিল্প ইতিমধ্যে জানে: সরকারের সঙ্গে সম্পর্কই ব্যবসা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, প্রথম আলোর বরাতে।




