প্রযুক্তি

পেন্টাগনকে না বলেছিল একটি এআই কোম্পানি, সে কারণে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা বৈধ বলল আপিল আদালত

স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও নাগরিক নজরদারিতে নিজেদের সীমারেখার কথা বলে "সব বৈধ কাজে" ক্লদ ব্যবহারে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে রাজি হয়নি অ্যানথ্রপিক। এরপর তাদের গায়ে সাঁটা হয় সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকির তকমা—যা সাধারণত বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য। ডিসি সার্কিট বলছে, কাজটি বৈধ।

পেন্টাগনকে না বলেছিল একটি এআই কোম্পানি, সে কারণে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা বৈধ বলল আপিল আদালত

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে—শুক্রবার এমন রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। যে তকমা নিয়ে এই মামলা, তার শুরু হয়েছিল কোম্পানিটি "সব বৈধ কাজে" নিজেদের ক্লদ মডেল পেন্টাগনকে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করার পর।

অস্বীকৃতি যেভাবে নিরাপত্তার তকমা হলো

অ্যানথ্রপিকের আপত্তি ছিল পরিধি নিয়ে, প্রতিরক্ষার কাজ নিয়ে নয়। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র আর মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারি নিয়ে তাদের সীমারেখা ছিল, আর সেগুলো তারা ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি। এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন জবাবে কোম্পানিটির গায়ে "সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি" তকমা সেঁটে দেয়, আর ফেডারেল সংস্থা ও সামরিক ঠিকাদারদের নির্দেশ দেয় তাদের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করতে।

এই তকমার ওজনটা সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। এটি সাধারণত ব্যবহার হয় বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, আর কোনো মার্কিন কোম্পানির ওপর এর আগে কখনো প্রয়োগ হয়নি। বাস্তবে এর অর্থ দাঁড়ায়, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা কোনো ঠিকাদার, সরবরাহকারী বা অংশীদার অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কোনো লেনদেনই করতে পারবে না—এমনকি ক্লদের টাকার সংস্করণ ব্যবহারও নয়। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ট্রিলিয়ন ডলারের শেয়ারবাজারে আসার আগে যে কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক আয়ের ওপর বাজি ধরেছে, তার জন্য এটি প্রতীকী কোনো শাস্তি নয়।

দুই আদালত, দুই উত্তর

অ্যানথ্রপিক মামলা করে, যুক্তি দেয় যে তকমাটি প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন এবং আইনগতভাবে অসার। আগস্টে ক্যালিফোর্নিয়ায় তারা আংশিক জেতে, আদালত তকমার একটি অংশ বাতিল করেন; সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি। শুক্রবার ডিসি সার্কিট গেলেন উল্টো পথে—তাঁদের পর্যবেক্ষণ, নিজেদের ব্যবস্থায় ক্লদ যুক্ত করলে তা জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হতে পারে বলে পেন্টাগনের সিদ্ধান্তের পেছনে "যথেষ্ট ভিত্তি" ছিল। তিন বিচারকের একজন ভিন্নমত দেন; তাঁর মতে, কোম্পানিটি ঝুঁকি তৈরি করতে নিজের প্রযুক্তি কারসাজি করবে—এমন যৌক্তিক আশঙ্কা নেই।

রায় দুটি আসলে সংঘর্ষে যায় না, কারণ পেন্টাগন একাধিক তকমা ব্যবহার করেছিল আর দুই আদালত রায় দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন আইনি কর্তৃত্বের আওতায়। ফলাফল একটি বিভাজন: পেন্টাগনের ভেতরে ক্লদ নিষিদ্ধই থাকছে, আর অন্য ফেডারেল সংস্থা ও ঠিকাদারেরা অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। কোম্পানিটি বলছে, তারা একমত নয় এবং সব বিকল্প ভাবছে—অর্থাৎ হয় পূর্ণ এগারো বিচারকের ডিসি আদালতে পুনঃশুনানি চাওয়া, নয়তো সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া।

মামলাটি আসলে কী নিয়ে, পেন্টাগনের ভঙ্গিতে তা নিয়ে সংশয় থাকে না। আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এক্সে লিখেছেন, কমান্ডের ধারায় কোনো বেসরকারি কোম্পানি নিজের মতামত ঢোকাবে না জেনে যোদ্ধারা এখন ভালো ঘুমোতে পারবেন।

নিচে চাপা পড়া নজিরটি

পক্ষগুলোর নাম সরিয়ে দিলে যে নিয়মটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তা হলো: কোনো এআই সরবরাহকারীর কাছ থেকে চাওয়া শর্ত আদায় করতে না পারলে সরকার সেই সরবরাহকারীকে নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সীমারেখা নিয়ে আপনার মত যা-ই হোক, হাতিয়ারটি এখন আছে, আপিলেও টিকেছে, আর যেকোনো প্রশাসনের হাতে যেকোনো সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে তা ব্যবহারযোগ্য। জাতিসংঘে শিল্পটি যে যুক্তি দিচ্ছিল—কোম্পানিগুলো বাইরে থেকে বাধ্যতামূলক সীমা চায়—এই ঘটনা তার উল্টো দিকেই কাটে; কারণ এখানে সীমা ধরে রাখা একটি কোম্পানিই শাস্তি পেল, আর তা অল্টম্যান ও আমোদেই নিরাপত্তা পরিষদে ঠিক এ ধরনের নিয়ম চাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এখানকার শিক্ষাটা মার্কিন রাজনীতি নিয়ে নয়; সরবরাহকারী আর সরকারের বিরোধ বাধলে নিচের সারির সবার কী হয়, তা নিয়ে। বাংলাদেশের ব্যাংক, মুঠোফোন অপারেটর, বিপিও প্রতিষ্ঠান আর সরকারি প্রকল্প ক্রমেই একটি বিদেশি এআই সরবরাহকারীর ওপর দাঁড়াচ্ছে; আর এই মামলা দেখাচ্ছে তা ভাঙতে পারে দুইভাবে: সরবরাহকারী নৈতিক কারণে আপনার দরকারি কোনো ব্যবহারে রাজি না-ও হতে পারে, কিংবা আপনার চুক্তি যা-ই বলুক, সরবরাহকারীর নিজের সরকারই তাকে নাগালের বাইরে করে দিতে পারে। এ দেশের সাধারণ ক্রয়-তালিকায় এ দুটি ঝুঁকির কোনোটিই লেখা থাকে না।

পরের এআই চুক্তিতে সই করার আগে তিনটি ধারা রাখা দরকার। এক, লিখিত প্রস্থানের পথ—প্রম্পট, ফাইন-টিউনিংয়ের তথ্য ও মূল্যায়নের সেট বহনযোগ্য ফরম্যাটে রপ্তানির শর্ত, যাতে সরবরাহকারী বদলানো প্রকৌশলের কাজ হয়, পুরো নতুন করে লেখা নয়। দুই, অনুমোদিত ব্যবহারে যেকোনো পরিবর্তনের আগাম নোটিশ, কারণ যে শর্ত আপনার কাজের জন্য ব্যবস্থাটিকে বৈধ করেছিল, তা আপনাকে ছাড়াই বদলে যেতে পারে। তিন, প্রতিরক্ষা, পুলিশি কাজ বা নাগরিক নথি ছোঁয় এমন কিছুতে অন্তত একটি কাজ এমন মডেলে চালু রাখুন যেটি আপনি নিজে হোস্ট করতে পারেন—যাতে অন্য দেশে নেওয়া সিদ্ধান্তেও সক্ষমতাটি টিকে থাকে। সার্বভৌম সক্ষমতার এই একই যুক্তি চলছে উন্মুক্ত বনাম মালিকানাধীন বিভাজনেও, যা এখন বাকি বিশ্বকে ভাগ করে দিচ্ছে।

সূত্র: CNN

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।