চিকিৎসা তথ্য ফাঁস নিয়ে বেশির ভাগ খবরে কেউ না কেউ ভেতরে ঢুকে পড়ে। এটি সে রকম নয়। ইংল্যান্ডের নতুন নিয়মের পেছনের প্রতিটি ঘটনায় ছিলেন এমন একজন কর্মী, যাঁর লগইন থাকারই কথা—আর সেই লগইন দিয়েই তিনি এমন নথি পড়েছেন, যা তাঁর দেখার কথা নয়।
নতুন নিয়মটি
এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী স্যার জিম ম্যাকি প্রতিটি ট্রাস্টকে চিঠি দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর একটি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন: বৈধ কারণ ছাড়া রোগীর নথি দেখার সন্দেহ হলেই কর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে এবং এনএইচএসের কম্পিউটার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে—বাড়ি থেকে প্রবেশের সুযোগসহ। প্রমাণ নয়, সন্দেহই এখন কার্যকর হওয়ার শর্ত; উদ্দেশ্য হলো তদন্ত চলাকালে আর কোনো নথি যেন খোলা না যায়। নিয়ম কী আর তা ভাঙার মূল্য কত, তা মনে করিয়ে দিতে চালু হচ্ছে একটি জাতীয় প্রচারণা।
ম্যাকির বক্তব্যের সারকথা—রোগীর নথিতে থাকে মানুষের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত কিছু তথ্য, অনেকেই সেই আস্থার অপব্যবহার করেছেন, আর কেউ যদি ভাবেন এভাবে কৌতূহল মেটানো যায়, তবে ধরা পড়া, পেশা হারানো এবং সম্ভবত ফৌজদারি রেকর্ড নিয়ে বেরোনোর জন্য তাঁর প্রস্তুত থাকা উচিত।
ঘোষণার পেছনের আকার
হেলথ সার্ভিসেস জার্নালের এ মাসের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাঁচ বছরে রোগীর তথ্যে উঁকি দেওয়ার কারণে অন্তত ২১৪ জন এনএইচএস কর্মীর চাকরি গেছে এবং প্রায় ২ হাজার জন শাস্তি পেয়েছেন। ছকটি প্রচলিত অর্থে অপরাধমূলক নয়, বরং নিতান্তই মানবিক ও সাদামাটা: আলোচিত কোনো রোগীকে নিয়ে কৌতূহল, কিংবা আত্মীয়, পরিচিতজন ও সাবেক সঙ্গীর নথি খুঁজে দেখা। ২০২৩ সালের একটি ঘটনায় কেমব্রিজশায়ারের এক কনসালট্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল, কারণ তিনি এমন এক নারীর স্বাস্থ্য-ইতিহাস দেখেছিলেন যিনি ওই চিকিৎসকের সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
কঠোর হওয়ার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল একের পর এক আলোচিত ঘটনা—নটিংহাম ও সাউথপোর্টের হামলায় নিহতদের নথি, আর কেমব্রিজশায়ারে কুমিরের ঘেরে আহত এক শিশুর নথি। এ সপ্তাহে ব্রিস্টল ফাউন্ডেশন এনএইচএস ট্রাস্ট অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে, কারণ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যুর কয়েক বছর পরও তাঁর নথিতে প্রবেশ করা হয়েছিল। তাঁর মা পলা ম্যাকগোয়ান বিবিসিকে বলেছেন, তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আহত; এনএইচএসকে আরও কিছু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এটি আদৌ সম্ভব হলো কেন
এনএইচএসজুড়ে একটিমাত্র নথিব্যবস্থা নেই যেখানে সবাই ঢুকতে পারে। জিপি প্র্যাকটিস, হাসপাতাল ও বিশেষায়িত ক্লিনিক নিজেদের নথি নিজেরাই রাখে, আর কে কী দেখতে পাবে তা-ও নিজেরাই ঠিক করে—এবং এর প্রতিটি ব্যবস্থাতেই থাকে অডিট ট্রেইল, যা দেখিয়ে দেয় ঠিক কে কখন কোন নথি খুলেছেন। ধরার মতো তথ্য বরাবরই ছিল। ছিল না কেবল সেটি দেখার অভ্যাস, আর যথেষ্ট দ্রুত আসা পরিণতি।
এ সপ্তাহে লেখা এফবিআইয়ের তথ্য ফাঁসের সঙ্গে এখানেই কাজের পার্থক্যটি। সেখানে বাইরের কেউ ক্লাউড সফটওয়্যারের ত্রুটি কাজে লাগিয়েছে। এখানে কিছুই ভাঙা হয়নি—ব্যবস্থাটি ঠিক যেভাবে বানানো সেভাবেই চলেছে, এমন মানুষদের জন্য যাঁদের লগইন করার পূর্ণ অধিকার ছিল, আর দেখার কোনো অধিকার ছিল না।
বাংলাদেশে এর মানে কী
ভেতরের মানুষের অপব্যবহার বেশি কঠিন সমস্যা, আর বাংলাদেশে এর বিরুদ্ধে প্রায় কোনো প্রতিরক্ষাই গড়ে ওঠেনি। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের তথ্যব্যবস্থা, ডিজিএইচএসের ড্যাশবোর্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডেটাবেস আর এনআইডির সঙ্গে জোড়া স্বাস্থ্য তথ্য—সবই চলে ঠিক সেই ধারণার ওপর, এনএইচএস যেটি এইমাত্র ছেড়ে দিল: বৈধ লগইন থাকা কর্মী মানেই বৈধ কারণ থাকা কর্মী। যে দেশে কোনো তারকার রোগনির্ণয় বা রাজনীতিকের পরীক্ষার ফল বিক্রয়যোগ্য পণ্য, সেখানে এই ধারণার দাম অনেক।
তিনটি কাজ করার মতো, আর এর একটিতেও নতুন আইন লাগে না। প্রতিটি হাসপাতাল তথ্যব্যবস্থায় অডিট লগ চালু রাখুন ও সংরক্ষণ করুন—বেশির ভাগ পণ্যেই এটি আছে, হয় বন্ধ করে রাখা, নয়তো জায়গা বাঁচাতে সপ্তাহে সপ্তাহে মুছে ফেলা; আর যে লগ কেউ রাখে না, তা না থাকারই সমান। অভিযোগের অপেক্ষা না করে চালু করুন মাসিক ব্যতিক্রম প্রতিবেদন: কর্মীর নিজের পদবির সঙ্গে মেলা নাম, ওই বিভাগের রোগী-তালিকার বাইরের নথি, কিংবা আলোচিত বলে চিহ্নিত কোনো নথিতে প্রবেশ। আর পরিণতিটি ঘটনার পরে নয়, আগেই সহজ ভাষায় নিয়োগপত্রে লিখে রাখুন—কারণ ইংল্যান্ডে প্রতিরোধকটি প্রযুক্তি নয়, বরং এই যে প্রত্যেক কর্মী এখন জানেন ঠিক কী ঘটবে। বাংলাদেশে একজন রোগীর পক্ষে এখন জানার কোনো উপায়ই নেই যে তাঁর নথি কে কে পড়েছেন; আর যত দিন তা না থাকে, সৎ অবস্থানটি হলো—কেউ নজর রাখছে না।




