প্রযুক্তি

২০১৮ সালে অনলাইন বাজি বৈধ করেছিল ব্রাজিল, আট বছর পর তা নিষিদ্ধ করে প্রেসিডেন্ট বলছেন এটি ক্যানসার

সব ধরনের ক্রীড়া বাজি ও অনলাইন ক্যাসিনো নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশে সই করেছেন লুলা—এমন এক নির্বাচনের কয়েক দিন আগে, যেখানে তিনি প্রায় সমানে সমান। প্রায় ৬০ শতাংশ ব্রাজিলীয় নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। কৌতূহলের জায়গা রাজনীতি নয়, বরং একটি অনলাইন কারবার বন্ধ করতে গেলে কী হয়।

২০১৮ সালে অনলাইন বাজি বৈধ করেছিল ব্রাজিল, আট বছর পর তা নিষিদ্ধ করে প্রেসিডেন্ট বলছেন এটি ক্যানসার

২০১৮ সালে অনলাইন বাজি বৈধ করেছিল ব্রাজিল। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা সই করেছেন এমন এক অধ্যাদেশে, যা সব ধরনের ক্রীড়া বাজি ও অনলাইন ক্যাসিনো নিষিদ্ধ করছে—জাতীয় নীতির উল্টো দিকে হাঁটা এই ঘোষণা এল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার সপ্তাহখানেক আগে, যে নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদ চাইছেন।

কী সই হলো, আর কী এখনো বাকি

অধ্যাদেশটি এখনই কার্যকর, তবে স্থায়ী নয়: বলবৎ থাকতে হলে ১২০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। আলাদা করে লুলা সই করেছেন নির্দিষ্ট-অনুপাতের বাজিসংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধের শাস্তির একটি বিলেও। শিল্পটিকে তিনি বলেছেন ক্যানসার—হয় টিউমার কেটে ফেলতে হবে, নয়তো তা আমাদের মেরে ফেলবে; আর বলেছেন সেসব পরিবারের কথা, জুয়ার আসক্তিতে যারা ঘরের সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এ সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি অভিযোগ করেন, শিল্পটি আসক্তিকে মুনাফায় রূপ দিচ্ছে।

এটি কীভাবে বেড়ে উঠল, সে বিষয়ে তাঁর বর্ণনা তির্যক: অনলাইন বাজির জন্ম মিশেল তেমেরের আমলে, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে বলসোনারোর আমলে—শিশু-কিশোরদের নাগাল পাওয়া ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য কোনো বাধা ছাড়াই।

রাজনীতিটা, সোজা কথায়

সময় নির্বাচনটি আকস্মিক নয়। ৮০ বছর বয়সী লুলা লড়ছেন কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে, আর সাম্প্রতিক জরিপে দুজন প্রায় সমানে সমান। ফ্লাভিও বলসোনারো এই কঠোরতাকে বলেছেন জনতুষ্টিবাদী, ভণ্ডামিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে জরিপ সেই খারিজকে জটিল করে দেয়। অ্যাটলাস ও ব্লুমবার্গের এ সপ্তাহে প্রকাশিত জরিপ বলছে, ৫৯.৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্রাজিলীয় ইন্টারনেট বাজি নিষিদ্ধের পক্ষে। কোনো পদক্ষেপ একই সঙ্গে নির্বাচনী হিসাব মেনে নেওয়া এবং সত্যিকারের জনপ্রিয় হতে পারে—এটি দুটোই বলে মনে হচ্ছে।

যে অংশটি সব দেশেই খাটে

ব্রাজিলকে সরিয়ে রাখলে যা থাকে, তা প্রতিটি সরকারের সামনে থাকা একটি প্রশ্নের জীবন্ত পরীক্ষা: একটি অনলাইন কারবার কি সুইচ টিপে বন্ধ করা যায়? ব্রাজিলে জুয়ার বেশির ভাগ রূপ—ক্যাসিনো, স্লট মেশিন—বরাবরই অবৈধ ছিল, তাতে ২০১৮-এর পর অনলাইন বাজির বিস্ফোরণ থামেনি; কারণ নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে দুর্বল ছিল অনলাইনেই।

নিষেধাজ্ঞা চাপ ফেলে তিনটি সরু পথে, আর সত্যিকার অর্থে কাজ করে তার একটিই। ডোমেইন ব্লক করা সবচেয়ে দৃশ্যমান আর সবচেয়ে অকার্যকর ব্যবস্থা, কারণ নতুন ডোমেইনের দাম কয়েক ডলার। গুগল ও অ্যাপলের স্টোর থেকে অ্যাপ সরানো কিছুটা কাজে দেয়, যত দিন না সাইটগুলো ওয়েব অ্যাপ হয়ে যায়। যেটি সত্যিই কামড় বসায় তা হলো পেমেন্ট: যে অপারেটর জমা নিতে বা জেতা টাকা দিতে পারে না, তার সাইট খুলুক বা না খুলুক, ব্যবসা নেই। এক বছর পর ব্রাজিলের নিষেধাজ্ঞার কোনো অর্থ থাকবে কি না, তা ঠিক করবে দেশটির ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান, সেন্সর নয়।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশে অনলাইন বাজি কখনোই বৈধ ছিল না—১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইন ইন্টারনেটের চেয়ে শতাব্দীর বেশি পুরোনো—তবু তা সর্বত্র। বিটিআরসি দফায় দফায় বাজির ডোমেইন বন্ধ করে, আর সেগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন নামে ফিরে আসে। বিজ্ঞাপন সরে গেছে এমন জায়গায়, যেখানে প্রয়োগ পৌঁছায় না: টেলিগ্রাম গ্রুপ, ক্রিকেট মৌসুমের ফেসবুক পেজ, আর ফুটবল স্ট্রিমিং সাইটের স্পনসরশিপ। লোক জোগাড় হয় স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে, যাঁরা নগদে বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবায় জমা নেন আর খাতায় হিসাব মেলান—এ কারণেই ডোমেইন বন্ধ করে আসল ব্যবসায় খুব কমই হাত পড়ে।

ব্রাজিলের পদক্ষেপ লক্ষ করার মতো ঠিক এ কারণেই যে, বাংলাদেশের আলোচনা সাধারণত থেমে যায় নিষিদ্ধ করা হবে কি না—সেখানে; অথচ প্রশ্নটি কখনোই তা ছিল না, ১৮৬৭ সাল থেকেই তা নিষিদ্ধ। প্রশ্নটি প্রয়োগের, আর উত্তরটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবাদাতাদের হাতে, বিটিআরসির হাতে নয়। ইউআরএলে প্রয়োগ করা নিষেধাজ্ঞা লোকদেখানো; পেমেন্টের পথে প্রয়োগ করা নিষেধাজ্ঞাই নীতি। দেশের ক্ষতিটিও ব্রাজিলের মতোই: পরিবারের আয় উবে যাওয়া, আর কিশোরদের সামনে কোনো বাধা ছাড়াই পণ্যটির হাজির থাকা। এর আচরণগত দিকটি আমরা দেখেছি অতিরিক্ত অ্যাপ ব্যবহার আসক্তি না অভ্যাস লেখায়, আর কারিগরি দিকটি মেটার কিশোর সময়সীমা নিয়ে লেখায়—দুটোই আসলে একই তর্ক, হাত থেকে না নামার মতো করে বানানো পণ্যের দায় কার।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।