প্রযুক্তি

যুক্তরাজ্যের এআই মন্ত্রী বলছেন দেশের সাইবার প্রতিরক্ষা ভাঙা ‘সম্ভাব্য, এমনকি অনিবার্য’—আর নাম বলছেন যে ঘটনাটি তাঁকে উদ্বিগ্ন করে

কনিষ্ক নারায়ণ উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সাইটে ঢুকে পড়া ওপেনএআই এজেন্টের কথা, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলেছেন ঝুঁকি সামলাতে না পারলে সিস্টেম ছাড়বেন না।

যুক্তরাজ্যের এআই মন্ত্রী বলছেন দেশের সাইবার প্রতিরক্ষা ভাঙা ‘সম্ভাব্য, এমনকি অনিবার্য’—আর নাম বলছেন যে ঘটনাটি তাঁকে উদ্বিগ্ন করে

যুক্তরাজ্যের এআই মন্ত্রী বলেছেন, দেশটির সাইবার প্রতিরক্ষা কোনো এক সময়ে ভাঙা ‘সম্ভাব্য, এমনকি অনিবার্য’।

এক সংবাদ সম্মেলনে কনিষ্ক নারায়ণ একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা তুলেছেন: জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়া বেপরোয়া ওপেনএআই এজেন্ট। তিনি বলেছেন, কোনো চিকিৎসা-নথিতে প্রবেশ করা হয়েছে বলে জানা যায়নি, তবু ঘটনাটি ‘আমাদের উদ্বিগ্ন করা উচিত’।

এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে বার্তা

বক্তৃতার সবচেয়ে ধারালো লাইনটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার পেছনের প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে:

‘আপনাদের বিজ্ঞানীরা যখন গুরুতর বিপদের কথা বলেন, শুনুন। অপ্রত্যাশিত আচরণের তদন্ত করুন। আর ঝুঁকি যথেষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সিস্টেমটি ছাড়বেন না।’

নারায়ণ বলেছেন, সরকার এই হুমকির বিরুদ্ধে উন্নত এআই কাজে লাগাবে—দুটি চলমান পরীক্ষামূলক কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে, যেগুলো ইতিমধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় এক হাজারের বেশি দুর্বলতা শনাক্ত ও সারিয়েছে।

যে লড়াইয়ের ঘোষণা কেউ দেয়নি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটিটি সহজেই চোখ এড়ায়। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট (এআইএসআই) ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠার অল্প পর থেকেই প্রকাশের আগে সর্বাধুনিক মডেলগুলো যাচাই করে আসছে।

সেপ্টেম্বরে খবর আসে, হোয়াইট হাউস কয়েকটি শীর্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে বলেছে, নিজেদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন মডেল এআইএসআইকে না দেয়—যে প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্য তার এআই-নিরাপত্তার অবস্থান গড়েছে, তার জন্য এটি বড় ধাক্কা।

সোমবার নারায়ণ বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করেছে ‘প্রকাশের আগে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলে ব্রিটিশ এআইএসআইয়ের প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে’। এটি নীরবে জানিয়ে দেওয়া যে কিছু একটা হারিয়েছিল, আর আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেছে।

সমালোচনা

সবাই মুগ্ধ হননি। অ্যাডা লাভলেস ইনস্টিটিউটের যুক্তরাজ্য পাবলিক পলিসি প্রধান নুয়ালা পোলো বলেছেন, ঘোষণাটি সরকারকে ‘খুব সামান্য’ কিছুতে আবদ্ধ করেছে: শক্তিশালী সুরক্ষা ‘বিবেচনা’ করা হবে, সাইবার বিল জোরদার করা ‘খতিয়ে’ দেখা হবে, অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনা জানানোর বিষয়টি ‘দেখা’ হবে—বিস্তারিত পরে।

ক্রিয়াপদগুলোর এটি ন্যায্য পাঠ। যে মন্ত্রী ভাঙনকে অনিবার্য বলছেন অথচ একটি বিল ‘খতিয়ে দেখার’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তিনি হুমকি আর প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার ফাঁকটিই বর্ণনা করছেন—ইচ্ছে করে হোক বা না হোক।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এখানকার দুটি বিষয় প্রযোজ্য, একটি নয়।

যা প্রযোজ্য নয়, তা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। বাংলাদেশে এআইএসআইয়ের সমতুল্য কিছু নেই, সর্বাধুনিক মডেলে প্রকাশ-পূর্ব প্রবেশাধিকার নেই, আর ওয়াশিংটনের সঙ্গে তা নিয়ে দর-কষাকষির বাস্তব সম্ভাবনাও নেই। এখানে ব্যবহৃত মডেলগুলোর যে নিরাপত্তা পরীক্ষা হবে, তা করবেন অন্য কেউ, অন্য কারও নিয়ন্ত্রকের জন্য।

যা প্রযোজ্য, তা হলো অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার নীতি—আর সেটি সস্তা। নারায়ণের দুটি কর্মসূচি ঘটনার অপেক্ষা না করে ব্যবস্থিতভাবে খুঁজে এক হাজার দুর্বলতা পেয়েছে। এখানকার সরকারি ব্যবস্থায় একই কাজ করতে কোনো ফ্রন্টিয়ার ল্যাবের সহযোগিতা লাগে না—লাগে একটি দায়িত্ব আর প্রতিবেদন গ্রহণ করার মতো কেউ।

দ্বিতীয়টি অপ্রত্যাশিত আচরণ নিয়ে বাক্যটি। অস্ট্রেলিয়ার ঘটনাটি কোনো এআই ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ ছিল না; ছিল একটি এআই ব্যবস্থার এমন কিছু করা, যা কেউ নির্দেশ দেয়নি। নাগরিকের প্রশ্ন সামলাতে এজেন্ট বসানো প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষাটি হলো—এজেন্ট কী করল তার নথি রাখা, আর কাউকে দিয়ে সেটি পড়ানো; বাইরের গবেষক পড়ার আগেই।

নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একই ধাঁচের যুক্তি দিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট, ‘দুধের চেয়েও কম নিয়ন্ত্রিত’ বক্তৃতায়।

‘অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া’ ব্যবস্থাটি আসলে কী

নারায়ণের বক্তৃতার যে ধারণাটি এখানে সবচেয়ে কাজে লাগে, সেটির একটি নাম আছে—নিয়ার-মিস রিপোর্টিং—আর ধারণাটি প্রযুক্তির নয়, উড়োজাহাজ চলাচলের।

বিমান শিল্পে পাইলটরা এমন ঘটনা জানান, যেগুলোয় কিছুই ঘটেনি কিন্তু প্রায় ঘটতে যাচ্ছিল—আর জানানোর জন্য কারও শাস্তি হয় না। ভিত্তিটি এই যে, দুর্ঘটনার আগে সাধারণত বহুবার অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, আর সেগুলো গুনতে পারলে দুর্ঘটনার অপেক্ষা করতে হয় না।

সাইবার নিরাপত্তায় এটি বিরল, কারণ প্রণোদনা উল্টো: যে প্রতিষ্ঠান দুর্বলতা জানায়, সে সমালোচিত হয়; যে চুপ থাকে, তার কিছুই হয় না। বাংলাদেশের সরকারি দপ্তর ও ব্যাংকের জন্য এটিই বদলানোর মতো একটি জিনিস, আর এতে কোনো নতুন প্রযুক্তি লাগে না—লাগে এমন একটি ঠিকানা, যেখানে ঘটনা জানানো যায় আর জানানোর কারণে কেউ বিপদে পড়েন না।

সূত্র: বিবিসি নিউজ।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।