ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্যারামেডিকরা এমন একটি এআই সহকারী পরীক্ষা করছেন, যা রোগীর সঙ্গে তাঁদের কথাবার্তা শুনে নোট লিখে দেয়।
নর্থ ইস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস (এনইএএস) বলছে, রোগীর সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড, প্রতিলিপি ও সারসংক্ষেপ করার প্রযুক্তিটির আট সপ্তাহের পরীক্ষা অর্ধেক পথে, আর এতে অংশ নিচ্ছেন ৩৮ জন—প্যারামেডিক ও পরিচালন কর্মী। পরীক্ষা শেষ হবে নভেম্বরে, এরপর যন্ত্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত।
যেভাবে কাজ করে
সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের সঙ্গে আগে থেকেই থাকা আইপ্যাডের অন্তর্নির্মিত মাইক্রোফোন, আর এটি চলছে রোগীর সঙ্গে সত্যিকারের কথোপকথনে, মহড়ায় নয়।
সুরক্ষার অংশটিই লক্ষণীয়: অ্যাম্বিয়েন্ট ভয়েস প্রযুক্তির তৈরি সব নোট রোগীর নথিতে যোগ হওয়ার আগে একজন চিকিৎসক দেখে সম্পাদনা করেন।
সংস্থাটির ডিজিটাল ক্লিনিক্যাল লিড জর্জিনা ক্যাম্পবেল বলেছেন, পরীক্ষাটি বুঝতে সাহায্য করবে উদীয়মান প্রযুক্তি কীভাবে ‘নিরাপদে ও কার্যকরভাবে’ ব্যবহার করা যায়, ‘আমাদের রোগী ও সম্প্রদায় সেবা ও নথি রাখার যে উঁচু মান আশা করেন তা বজায় রেখে’।
এনইএএস বলছে, তারা আশা করছে যন্ত্রটি কর্মীদের কাজের চাপ কমাতে পারে এবং নথি রাখার ধারাবাহিকতা ও নির্ভুলতা বাড়াতে পারে।
বেশির ভাগের চেয়ে এই নকশাটি কেন ভালো
স্বাস্থ্যসেবায় এআই নিয়ে সাধারণ কোলাহল থেকে এখানকার তিনটি সিদ্ধান্ত আলাদা করে দেখার মতো।
এটি ছোট ও সীমিত: আট সপ্তাহ, ৩৮ জন, একটি কাজ। কাজটি নিয়ে এটি সৎ—প্রতিলিপি ও সারসংক্ষেপ, রোগনির্ণয় বা ট্রায়াজ নয়। আর মানুষের যাচাই নথি লেখার আগে, কোনো অভিযোগের পরে নয়।
শেষ কথাটিই সাধারণত গোলমাল হয়। যে ব্যবস্থায় চিকিৎসক পরে অনুমোদন দেন, সেটি এমন ব্যবস্থায় পরিণত হয় যেখানে তিনি না পড়েই অনুমোদন দেন—কারণ নোটটি ফাইলে ঢুকেই গেছে আর পড়া বাড়তি কাজ। যাচাইকে পথের মধ্যে বসালে ওটিই নোট সংরক্ষণের একমাত্র উপায় হয়ে যায়।
পরীক্ষাটিকে যে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তা নির্ভুলতা নয়। প্রশ্নটি হলো—টাইপ করায় বাঁচানো সময় সংশোধনে ব্যয় হওয়া সময়ের চেয়ে বেশি কি না, আর শিফটের শেষে ক্লান্ত কর্মী শুরুর সতেজ কর্মীর মতো যত্ন নিয়ে সংশোধন করেন কি না।
বাংলাদেশে এর মানে কী
অ্যাম্বিয়েন্ট নোট লেখা সেই অল্প কয়েকটি স্বাস্থ্য-এআই প্রয়োগের একটি, যা নিয়ন্ত্রক কাঠামো ছাড়াই এখানে আসতে পারে—কারণ এটি কোনো চিকিৎসা-সিদ্ধান্ত নেয় না। যা বলা হয়েছে, তা লিখে রাখে।
তবে আসবে কেবল তখনই, যদি এটি বাংলায় কাজ করে—আর সতর্কবার্তাটি ছোট নয়। বাংলায় প্রতিলিপি ইংরেজির তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে, আঞ্চলিক উচ্চারণে আরও খারাপ, আর ঢাকার অ্যাম্বুলেন্স শব্দে ভরা পরিবেশ। ইংরেজিতে প্রশিক্ষিত যন্ত্র বাংলাদেশি অ্যাম্বুলেন্সে কিছুটা খারাপ নোট দেবে না; দেবে অব্যবহারযোগ্য নোট।
নিকট ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত ব্যবহার বরং শান্ত পরিবেশে—জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগের কক্ষে, যেখানে একজন চিকিৎসক দিনে শ-খানেক রোগী দেখেন আর লিখিত নথি বলতে যা দুজনের মাঝে সামলানো যায় ততটুকুই। এটি এআইয়ের সমস্যা হওয়ার অনেক আগে নথিপত্রের সমস্যা, আর এখানেই অসম্পূর্ণ প্রতিলিপিও কিছু না থাকার চেয়ে উন্নতি।
রোগীকে জানানো হচ্ছে কি না
প্রতিবেদনে একটি প্রশ্নের উত্তর নেই, আর প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাম্বুলেন্সে কথা রেকর্ড হচ্ছে, তা রোগীকে কীভাবে জানানো হয়?
সম্মতির প্রচলিত ধারণা এখানে কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি অবস্থায় থাকা একজন মানুষ অর্থপূর্ণভাবে ‘না’ বলতে পারেন কি না, সেটিই প্রশ্ন—আর না বলার কোনো সহজ উপায় না থাকলে সম্মতি চাওয়াটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে এই প্রশ্নটি আরও আগে আসে, কারণ এখানে চিকিৎসা-তথ্য সুরক্ষার আলাদা আইন নেই। কোনো হাসপাতাল বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা এমন প্রযুক্তি আনলে ঠিক করতে হবে—রেকর্ডিং কোথায় জমা থাকবে, কতদিন থাকবে, আর কে শুনতে পারবেন। প্রযুক্তিটি আনার চেয়ে এই তিনটি উত্তর লিখে রাখা কঠিন, আর সেটিই আসল কাজ।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, নর্থ ইস্ট অ্যান্ড কাম্ব্রিয়া।




