প্রযুক্তি

এআই শনাক্তের পোর্টাল সবার জন্য খুলে দিল গুগল, আর এটি আসলে যা যাচাই করে তা শিরোনামের চেয়ে সংকীর্ণ

synthid.com পোর্টালটি এখন ইংরেজিতে বিশ্বজুড়ে উন্মুক্ত, অংশীদার ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও কাকাও, শিগগিরই অ্যাপল। এটি সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক খোঁজে—সাধারণভাবে এআই শনাক্ত করে না।

এআই শনাক্তের পোর্টাল সবার জন্য খুলে দিল গুগল, আর এটি আসলে যা যাচাই করে তা শিরোনামের চেয়ে সংকীর্ণ

নিজেদের যাচাই-পোর্টাল সিন্থআইডি ডিটেক্টর বিশ্বজুড়ে সবার জন্য খুলে দিয়েছে গুগল। synthid.com-এ ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল আপলোড করলে এটি খুঁজে দেখে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না—তৈরির মুহূর্তে বসানো এক অদৃশ্য ডিজিটাল সংকেত, যা চোখে পড়ে না কিন্তু শনাক্তকরণ সফটওয়্যার পড়তে পারে।

সেবাটি ইংরেজিতে বিশ্বজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও কাকাওয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বে, আর শিগগিরই যুক্ত হবে অ্যাপল। গুগল একে উপস্থাপন করছে ডিপফেক ও এআই-নির্ভর অপতথ্যের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে।

ফল বিশ্বাস করার আগে প্রক্রিয়াটি পড়ুন

পোর্টালটি আসলে কতটা কাজের, তা এই অংশই ঠিক করে—আর বেশির ভাগ প্রতিবেদনে এটি থাকবে না।

সিন্থআইডি ডিটেক্টর কোনো কিছু এআই দিয়ে বানানো কি না তা শনাক্ত করে না। এটি শনাক্ত করে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না। দুটি আলাদা দাবি, আর পার্থক্যটি পুরোপুরি একমুখী:

  • ইতিবাচক ফল শক্তিশালী। ওয়াটারমার্ক থাকলে ফাইলটি অংশগ্রহণকারী কোনো যন্ত্র থেকে এসেছে।
  • নেতিবাচক ফলের মানে প্রায় কিছুই নয়। এটি সত্যিকারের আলোকচিত্র হতে পারে। আবার অংশ না নেওয়া কোনো জেনারেটরের এআই ছবিও হতে পারে, কিংবা অংশগ্রহণকারী কোনোটির—যার ওয়াটারমার্ক স্ক্রিনশট, রি-এনকোড, ক্রপ বা ডাউনলোড সাইট নষ্ট করে দিয়েছে।

যিনি ‘শনাক্ত হয়নি’ পড়ে ‘এটি আসল’ বোঝেন, তিনি যন্ত্রটিকে ঠিক উল্টো বুঝেছেন—আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই পাঠটিই হবে।

অন্য চেষ্টাগুলোর পাশে এটি কোথায়

একই সমস্যার তিনটি পথ এক সপ্তাহের মধ্যে এসেছে, আর এগুলো প্রতিযোগী নয়—আলাদা জায়গা ঢাকে।

ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির লেখায় পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়াটারমার্ক লেখার দিকটি দেখে। টিকটকের সিটুপিএ কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়াল একটি স্বাক্ষরিত নথি জুড়ে দেয়, যা প্ল্যাটফর্ম পড়ে। গুগলের সিন্থআইডি পিক্সেল বা তরঙ্গের ভেতরের সংকেত, আর ডিটেক্টর তার প্রকাশ্য পাঠক।

তিনটিরই একই দুর্বলতা: তৈরির মুহূর্তে এগুলো স্বেচ্ছায় নেওয়া। যে যন্ত্র চিহ্ন বসায়নি, তার বানানো ফাইল নিয়ে এগুলোর কিছুই বলার নেই।

বাংলাদেশে এর মানে কী

পোর্টালটি বিনা মূল্যে, অ্যাকাউন্ট লাগে না—ফলে এখানে সত্যিই ব্যবহারযোগ্য। তবে ‘কেবল ইংরেজি’ কথাটি শুনতে যতটা, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ: কারসাজি করা ছবির বাংলা ক্যাপশন যাচাইয়ের বিষয় নয়, ফাইলটিই বিষয়। অর্থাৎ ভাষার সীমা ইন্টারফেসে, সক্ষমতায় নয়—ঢাকার একজন সাংবাদিক আজই যেকোনো ভাষার ছবিতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

বাস্তব ব্যবহারটি সংকীর্ণ, আর তা স্পষ্ট করে বলা দরকার। কোনো সংবাদকক্ষ বা ফ্যাক্টচেকার ‘এই ছবিটি এআইয়ে তৈরি’ লেখার আগে পোর্টালটি কখনো কখনো তা নিশ্চিত করতে পারে। উল্টোটি কখনোই পারে না। বাংলাদেশে অনেক বেশি দেখা ঘটনাটিতে—পুরোনো ছবি নতুন ঘটনা বলে চালানো, বা সত্যিকারের ছবির সঙ্গে মিথ্যা ক্যাপশন—সিন্থআইডি নীরব, কারণ ওই ফাইলগুলোর কিছুই কৃত্রিম নয়।

ওই ক্ষেত্রে পুরোনো পদ্ধতিই সবচেয়ে ভালো: রিভার্স ইমেজ সার্চ, আর ছবিটি প্রথম কবে এসেছিল তা দেখে নেওয়া।

সংবাদকক্ষে এটি দিয়ে যা করার

পোর্টালটি সবচেয়ে কাজে লাগে যখন একে রায় না ভেবে একটি উপাদান ভাবা হয়—আর নিয়মটি দেয়ালে লিখে রাখার মতোই সরল।

ইতিবাচক ফল প্রকাশ করা যায়: ফাইলটিতে নির্দিষ্ট একটি যন্ত্রের ওয়াটারমার্ক আছে, এটি একটি তথ্য। নেতিবাচক ফল দিয়ে কিছুই প্রকাশ করা যায় না, কারণ পরীক্ষাটি সত্যিকারের আলোকচিত্র আর স্ক্রিনশট নেওয়া কৃত্রিম ছবির মধ্যে পার্থক্য করে না। নেতিবাচক ফলের ভিত্তিতে ‘যাচাই করে আসল পাওয়া গেছে’ লেখাই সেই একটি ভুল, যা এই যন্ত্র সহজ করে দেয়।

একটি বাস্তব ফাঁদও আছে। বাংলাদেশের সংবাদকক্ষে ছবি আসে মূল ফাইল হিসেবে নয়, বরং হোয়াটসঅ্যাপ আর ফেসবুকের মধ্য দিয়ে—আর আপলোডের সময় দুটিই ছবিকে নতুন করে এনকোড করে। প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছানোর আগেই ছবিটি সাধারণত অন্তত একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেছে, যা ডিটেক্টর যে সংকেতটি খুঁজছে ঠিক সেটিই মুছে দেয়। তাই ফরোয়ার্ড হয়ে আসা ছবিতে নেতিবাচক ফলের মানে প্রায় শূন্য।

অনুবাদ করা বা ক্যাপশন বদলানো ছবিতেও এটি একইভাবে নীরব—কারণ ওয়াটারমার্ক থাকে পিক্সেলে, লেখায় নয়।

সূত্র: গুগলের ঘোষণা, প্রথম আলোর টেকবার্তার বরাতে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।