প্রযুক্তি বাংলাদেশ

বাংলাদেশে চালু হলো টিকটকের এআই হাব — আর এর পেছনের মানটি কাজ করে কেবল যতক্ষণ কেউ স্ক্রিনশট না নেয়

অ্যাপের ভেতরে এআই হাব যুক্ত করেছে টিকটক, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে চালু হয়েছে, আর দাঁড়িয়ে আছে সিটুপিএ মানের ওপর। তিন মাসে মুছেছে ৮ কোটি ৬০ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট।

বাংলাদেশে চালু হলো টিকটকের এআই হাব — আর এর পেছনের মানটি কাজ করে কেবল যতক্ষণ কেউ স্ক্রিনশট না নেয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আধেয় শনাক্ত করতে ও স্প্যাম এড়াতে সাহায্য করার জন্য অ্যাপের ভেতরে এআই হাব যুক্ত করেছে টিকটক। প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হাবটি বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে চালু করা হয়েছে।

সুবিধাটি তৈরি হয়েছে কোয়ালিশন ফর কনটেন্ট প্রোভেন্যান্স অ্যান্ড অথেন্টিসিটির সঙ্গে, আর টিকটক বলছে এআই সরঞ্জাম নিরাপদে ব্যবহারের নতুন একটি নির্দেশিকাও তৈরি হচ্ছে। গত বছর থেকে ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে নোফিল্টার ও রাসবেরি পাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। তাদের প্রয়োগের সংখ্যাগুলো বড়: শুধু এ বছরের প্রথম তিন মাসেই মুছে ফেলা হয়েছে ৮ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট।

প্রোভেন্যান্স আসলে কী

এর পেছনের জোটটি—সংক্ষেপে সিটুপিএ—কোনো শনাক্তকারী নয়, আর এই পার্থক্যটিই পুরো ব্যাপার।

শনাক্তকারী তৈরি হয়ে যাওয়া ছবি বা ভিডিও দেখে আন্দাজ করে, যন্ত্র এটি বানিয়েছে কি না। কাজটি কঠিন, আর দিন দিন আরও কঠিন হচ্ছে। প্রোভেন্যান্স কাজ করে উল্টো দিক থেকে: যে সরঞ্জাম ফাইলটি বানায় বা সম্পাদনা করে, সেটিই ফাইলের সঙ্গে জুড়ে দেয় কী ঘটেছে তার স্বাক্ষরিত বিবরণ—এই মডেলে তৈরি, এই অ্যাপে সম্পাদিত, এখানে ক্রপ করা। এরপর প্ল্যাটফর্ম সেই বিবরণ পড়ে লেবেল দেখায়।

পদ্ধতিটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, কারণ এখানে কিছুই আন্দাজ করা হচ্ছে না। ফাইলটি নিজের ইতিহাস নিজেই বয়ে নিয়ে চলেছে।

আর যেখানে এটি কাজ করা বন্ধ করে

ওই ইতিহাসটি মেটাডেটা, আর বাংলাদেশে আধেয় যেভাবে ছড়ায়, ঠিক সেভাবেই মেটাডেটা ভঙ্গুর।

লেবেলযুক্ত একটি ভিডিওর স্ক্রিনশট নিন—নতুন ছবিটিতে কোনো বিবরণই নেই, কারণ সেটি বানিয়েছে আপনার ফোনের স্ক্রিনশট সুবিধা, যা মূল ফাইলটি সম্পর্কে কিছুই জানে না। ক্লিপ নামিয়ে এমন কোনো সরঞ্জাম দিয়ে আবার আপলোড করুন, যা ক্ষেত্রটি রাখে না—বিবরণ উধাও। সাধারণ অনেক কাজেই এটি মুছে যায়: পুনরায় এনকোড করা, কিছু বার্তা-অ্যাপ, বহু ডাউনলোড সাইট।

অর্থাৎ লেবেলটি নির্ভরযোগ্য যখন তা থাকে, আর নীরব যখন তা থাকে না—আর নীরবতা কোনো কিছুরই প্রমাণ নয়। এআই লেবেলবিহীন একটি ভিডিও ক্যামেরায় তোলা হতে পারে, আবার আপনার কাছে আসার পথে একবার স্ক্রিনশট নেওয়া কৃত্রিম ক্লিপও হতে পারে। ফেসবুকে শেয়ার, হোয়াটসঅ্যাপে ফরোয়ার্ড আর আবার আপলোড করা টিকটক দিয়ে যে আধেয় মানুষের কাছে পৌঁছায়—এখানে যার পরিমাণই সবচেয়ে বেশি—সেখানে দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি সাধারণ।

এটি মানটির ত্রুটি নয়। প্রোভেন্যান্স বানানো হয়েছিল সৎ সরঞ্জামগুলো যেন নিজেদের বানানো জিনিস প্রমাণ করতে পারে, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জালিয়াতকে ধরার জন্য নয়—আর প্রথম কাজটি এটি ভালোই করে। গলদটি বর্ণনায়, কারণ “এখন থেকে এআই আধেয়তে লেবেল থাকবে” এমন কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়, যা এটি দিতে পারে না।

হাবের চেয়ে বেশি কথা বলে যে সংখ্যাটি

তিন মাসে ৮ কোটি ৬০ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা—এই সংখ্যাটিই ধরে রাখার মতো।

এটি স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট তৈরির এমন একটি পরিমাণের বর্ণনা, যা কোনো লেবেল ব্যবস্থাই ছোঁয় না—কারণ সেখানে সমস্যা ভিডিওটি কৃত্রিম কি না তা নয়। সমস্যা হলো, যে অ্যাকাউন্ট সেটি পোস্ট করছে, সেটি মানুষ নয়। স্প্যাম আর সমন্বিত প্রচার চলে সংখ্যার জোরে, আর প্রতিটি জিনিসে প্রোভেন্যান্স লেবেল বসালে সেই সংখ্যার কিছুই হয় না।

দুটি একসঙ্গে ঘোষণা করা হচ্ছে, যা একটি প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে স্বাভাবিক—তবে দুটি আলাদা সমস্যার সমাধান, আর বেশির ভাগ ব্যবহারকারী যেটির মুখোমুখি হন তা এর একটিই।

লেবেল চোখে পড়লে কী করবেন

এআই হাব সুরক্ষা নয়, বরং শেখার একটি জায়গা—আর সেভাবে ব্যবহার করলে এটি সত্যিই কাজের। তিনটি জিনিস একে আরও কাজের করে।

  1. লেবেলকে কেবল ইতিবাচক প্রমাণ ধরুন। থাকা মানে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত। না থাকা মানে কিছুই নয়—এটি আসল হওয়ার সনদ নয়।
  2. ক্লিপের আগে অ্যাকাউন্টটি দেখুন। বয়স, পোস্টের ইতিহাস আর এ সপ্তাহের আগের কিছু আছে কি না—এগুলো একটি ভিডিওর ব্যাজের চেয়ে বেশি বলবে।
  3. গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো কিছুর জন্য—স্বাস্থ্যের দাবি, দাম, রাজনৈতিক উক্তি—ভিডিও নয় এমন কোথাও তা খুঁজুন। প্রোভেন্যান্স বলে ফাইলটি কীভাবে তৈরি, কখনোই বলে না এতে বলা কথাটি সত্যি কি না।

সম্পর্কিত: এআই অভিযোগ মেটাতে না পারা বিজ্ঞান আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, মেটার এআই ভিডিওর ফিড আর ডোওইনের জন্য চীনের নিয়ম।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।