চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স মডেলে লেখা বার্তা, ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, ই-মেইল ও গবেষণাপত্র পরে শনাক্ত করা যায়—এমনভাবে লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সুবিধাটি প্রথমে চালু হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ব্যবহারকারীদের জন্য, জোটটির এআই আইন মেনে চলতে। প্রযুক্তিটির নাম টেক্সটগ্রেইন, আর এটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে থাকায় চালু হতে কয়েক সপ্তাহ দেরি হতে পারে।
শব্দ দিয়ে তৈরি জিনিসে জলছাপ বসে কীভাবে
ছবিতে জলছাপ বসানো সহজবোধ্য: দর্শক খেয়াল করবেন না এমনভাবে পিক্সেল বদলে দিন। লেখায় পিক্সেল নেই, কাজেই কৌশলটিকে কাজ করতে হয় অন্য জায়গায়—মডেলের বাছাইয়ের ভেতরে।
প্রতিটি ধাপে ভাষামডেল পরবর্তী শব্দটি বেছে নেয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি ক্রমতালিকা থেকে। সাধারণত কয়েকটি শব্দই প্রায় সমান ভালো। জলছাপ সেই ফাঁকটুকু কাজে লাগায়: একটি গোপন ছক অনুযায়ী মডেলকে ঠেলে দেওয়া হয় গ্রহণযোগ্য শব্দগুলোর নির্দিষ্ট একটি উপসেটের দিকে। যেকোনো একটি বাক্য দেখতে একেবারে স্বাভাবিক, কারণ বেছে নেওয়া প্রতিটি শব্দ এমনিতেও মডেল বেছে নিতে পারত। কিন্তু কয়েক শ শব্দ জুড়ে ওই বাছাইগুলোর বিন্যাস এমন একটি পরিসংখ্যানগত সংকেত বহন করে, চাবি হাতে থাকা সফটওয়্যার যা মাপতে পারে।
এ কারণেই ওপেনএআই একে বর্ণনা করছে শব্দ ও বাক্যের ভেতরের সংকেত হিসেবে, ফাইলের সঙ্গে জোড়া কোনো ট্যাগ হিসেবে নয়। খুলে ফেলার মতো কিছু নেই, কারণ বাইরে থেকে লাগানো কিছু নেই।
তবু যা একে মুছে দেয়
পদ্ধতিটি সুন্দর, আর এর দুর্বলতাটিও সরল: কপি-পেস্টে এটি টেকে, আর নতুন করে লিখলে টেকে না।
যথেষ্টসংখ্যক শব্দ বদলে দিলে পরিসংখ্যানগত ছকটি ধুয়ে যায়, কারণ ছকটিই শব্দগুলো। হাতে ভাষান্তর করলে এটি দুর্বল হয়। অন্য কোনো এআই মডেল দিয়ে নতুন করে লেখালে অনেকটাই দুর্বল হয়, কারণ দ্বিতীয় মডেলটি নিজের শব্দ-বাছাই চাপিয়ে দেয় আর প্রথমটির চাবির কথা কিছুই জানে না। অনুবাদ করলে এটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই ধ্বংস হয়।
দৈর্ঘ্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংকেতটি পরিসংখ্যানগত, কাজেই আকস্মিকতার ওপরে ওঠার মতো যথেষ্ট লেখা দরকার—দীর্ঘ প্রবন্ধ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যাচাই করা যায়, দুই লাইনের ই-মেইল যায় না।
অর্থাৎ এটি বাড়ির কাজের মিথ্যা-শনাক্তকারী যন্ত্র নয়। দীর্ঘ, অসম্পাদিত, যন্ত্রে লেখা পাঠ্যে এটি মোটামুটি শক্ত সংকেত, আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিতীয় কোনো সরঞ্জামে চালিয়ে নিলে প্রায় অকেজো।
ইউরোপে আগে কেন
ক্রমটিই উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাভাবিক প্রশ্নের উত্তর দেয়। এটি করার গবেষণাগত সক্ষমতা ওপেনএআইয়ের বছরের পর বছর ছিল, আর তারা আনেনি। ইইউর এআই আইনে সরবরাহকারীদের এআই-নির্মিত আধেয় যন্ত্রে-পাঠযোগ্য রূপে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, আর সুবিধাটি আসছে ঠিক সেখানেই যেখানে ওই শর্তটি কামড় দেয়।
এতেই বোঝা যায় অন্যত্র কী আশা করা যায়। তুলনীয় নিয়ম আছে এমন বাজার এটি পাবে; নিয়ম নেই এমন বাজার হয়তো পাবে না, কিংবা পাবে পরে ও নীরবে। বাংলাদেশে এমন কোনো নিয়ম নেই, কাজেই এখানকার ব্যবহারকারীর চ্যাটজিপিটি-লেখায় চিহ্নটি থাকবে কি না, তা ঠিক করবে ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলগত সুবিধা—স্থানীয় কোনো নীতি নয়।
এখানকার শিক্ষার্থী বা ফ্রিল্যান্সারের জন্য কী বদলায়
স্বল্প মেয়াদে সামান্যই, আর সৎ পরামর্শটি ফাঁকি দেওয়া নিয়ে নয়।
যে শনাক্তকারী কেবল প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানই চালাতে পারে, ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি ক্লায়েন্ট সেটিতে প্রশ্ন করতে যাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানগুলো তৃতীয় পক্ষের শনাক্তকারীই ব্যবহার করে যাবে, যেগুলো চাবি পড়ে নয়, আন্দাজ করে কাজ করে—আর এত ঘন ঘন ভুল করে যে কারও সপ্তাহটাই নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি সজীব আছে টার্নিটিন নিয়ে বিতর্কে আর অভিযোগের মুখে উপন্যাস বাদ দেওয়া সাহিত্য পুরস্কারে।
যা বদলাচ্ছে তা হলো যাত্রার দিক। যন্ত্রের লেখা চিহ্নিত করা স্বেচ্ছা সৌজন্য থেকে আইনি শর্তে পরিণত হচ্ছে, আর প্ল্যাটফর্মগুলো কাঠামো বানাচ্ছে। ছবি ও ভিডিওর ক্ষেত্রে সমান্তরাল উদ্যোগটি হলো টিকটকে চালু হওয়া সিটুপিএ প্রোভেন্যান্স মান—যার আকৃতি এটির মতোই, এমনকি স্ক্রিনশট দুটোকেই হারিয়ে দেয়।
শনাক্তকরণের ওপর ভরসা না করে এআইয়ের উত্তর সমালোচনামূলকভাবে পড়তে শেখানো নিয়ে দেখুন সেই স্কুলটি।




