প্রযুক্তি

যাচাইয়ের জন্য জমা দেওয়া অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েই এআই তৈরি হবে কি না, শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় যে টার্নইটইন দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট যাচাই করে, তার লাইসেন্স বদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইয়র্কের শিক্ষার্থীরা। সাউদাম্পটন সফটওয়্যারটি বাদ দিচ্ছে। টার্নইটইন বলছে, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের আগে কিছু বদলাচ্ছে না।

যাচাইয়ের জন্য জমা দেওয়া অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েই এআই তৈরি হবে কি না, শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা প্রায় প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট একই সফটওয়্যারের ভেতর দিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা লেখা জমা দেন টার্নইটইনে, আগের জমা দেওয়া লেখা ও প্রকাশিত রচনার এক বিশাল সংগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, আর ফিরে আসে সাদৃশ্যের একটি স্কোর। ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন এমন একটি প্রশ্ন তুলেছেন, যার উত্তর দেখতে যত সহজ মনে হয় তত নয়: আপনার লেখা ওই সংগ্রহে ঢোকার পর আর কী কাজে লাগানো যায়?

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কোথায়

উদ্বেগটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে লাইসেন্সে সেবাটি কেনে তার শর্ত বদল নিয়ে—আর ওই শর্ত শিক্ষার্থীদের লেখা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহারের সুযোগ দেয় কি না তা নিয়ে। ইয়র্ক স্টুডেন্টস ইউনিয়নের স্যাম ডিকিনসন বিষয়টিকে দেখছেন সম্মতির প্রশ্ন হিসেবে: শিক্ষার্থীরা নিজেদের লেখা তুলে দেন বাধ্য হয়ে, মূল্যায়িত হওয়ার শর্ত হিসেবে—কোনো পণ্য পছন্দ করে তার শর্তে রাজি হয়ে নয়। অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার এমন কোনো রূপ নেই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী রাজি না হয়েও ডিগ্রি নিয়ে বেরোতে পারেন।

ডিকিনসন এর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন আরও বিবর্ণ একটি প্রেক্ষাপট—স্নাতকদের জন্য চাকরির সংখ্যা কমছে, আর শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে বিনা পারিশ্রমিকে, বিনা পছন্দে এমন ব্যবস্থায় অবদান রাখতে, যা তাঁদেরই ঢুকতে যাওয়া চাকরির বাজারকে আরও সংকুচিত করতে পারে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় টার্নইটইন ধাপে ধাপে বাদ দিচ্ছে—অর্থাৎ অস্বস্তিটা কেবল ছাত্র সংসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

টার্নইটইন কী বলছে

কোম্পানির অবস্থানের দুটি অংশ, আর পুরো তর্কটা দাঁড়িয়ে আছে এ দুইয়ের পার্থক্যের ওপর। তারা বলছে, ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরের আগে কোনো হালনাগাদ কার্যকর হবে না; আর স্পষ্টভাবেই বলছে, তাদের ক্ল্যারিটি পণ্যের ভেতরের এআই সহকারীটি প্রশিক্ষণ দিতে গ্রাহক বা শিক্ষার্থীর লেখা তারা ব্যবহার করে না।

কিন্তু তারা এ-ও বলছে, শনাক্তকরণ ও মূল্যায়নের সরঞ্জাম উন্নত করতে নাম-পরিচয় মুছে ফেলা শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া লেখা তারা ব্যবহার করতে পারে। দ্বিতীয় বাক্যটিই দুবার পড়ার মতো। নাম-পরিচয় মুছে ফেলা মানে আপনার নামটি সরানো হয়েছে; আপনার লেখাটি নয়। আর "শনাক্তকরণের সরঞ্জাম উন্নত করা" বাস্তবে মানে শিক্ষার্থীদের লেখার সংগ্রহের ওপর মেশিন লার্নিং—কোম্পানি যে পার্থক্যটি টানছে তা চ্যাটবট প্রশিক্ষণ আর শ্রেণিবিন্যাসকারী প্রশিক্ষণের মধ্যে, যা কারিগরিভাবে সত্যিকারের পার্থক্য হলেও লেখাটি যিনি লিখেছেন তাঁর কাছে তেমন ঠেকবে না।

বড় সমস্যাটির ভেতরে এটি কোথায়

নকল শনাক্তকরণের বন্দোবস্তটি বরাবরই কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল: যে সংগ্রহের জোরে পণ্যটি কাজ করে, তা জোগান দেন শিক্ষার্থীরাই, আর পণ্যটি বিক্রি হয় তাঁদেরই প্রতিষ্ঠানের কাছে। সংগ্রহটি যত দিন একটিই কাজ করত, তত দিন তা সহনীয় ছিল। কিন্তু লাখ লাখ মানুষের লেখা, নম্বর পাওয়া, তারিখ-চিহ্নিত অ্যাসাইনমেন্টের ভান্ডার এখন পৃথিবীর বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে মূল্যবান ডেটাসেটগুলোর একটি—ঠিক এ কারণেই যে তা যন্ত্রের লেখার আগেকার, এবং যন্ত্রের লেখা চিনতে কাজে লাগে। ফলে বন্দোবস্তটি আবার দেখার সময় হয়েছে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও একই সফটওয়্যার ব্যবহার করে। ইউজিসির ব্যবস্থাপনায় টার্নইটইন পৌঁছায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর ঢাবি, বুয়েট, এনএসইউ, ব্র্যাক ও আইইউবির মতো প্রতিষ্ঠানে থিসিস-ডিসার্টেশনের জন্য এটি বাঁধা শর্ত—সাধারণত সাদৃশ্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা পেরোলে থিসিস উপস্থাপনই করা যায় না। ওই প্রতিটি নথি—বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণা, ইংরেজিতে ও বাংলায়—একই সংগ্রহে আছে, এমন এক লাইসেন্সের আওতায় যা শিক্ষার্থীরা কখনো পড়েননি এবং প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন না।

এখনই করা যায় এমন তিনটি কাজ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরবর্তী নবায়নের আগেই লিখিতভাবে ভেন্ডরের কাছে জানতে চাক, সাদৃশ্য যাচাইয়ের বাইরে জমা দেওয়া লেখা দিয়ে আর কী করা যাবে—আর উত্তরটি নথিতে রাখুক। জাতীয় লাইসেন্সে আদৌ গৌণ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে কি না, ইউজিসি তা ঠিক করুক; কারণ জাতীয় পর্যায়ে একবার দরকষাকষি করা ৪০টি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা দুর্বল দরকষাকষির চেয়ে অনেক বেশি কাজের। আর বিভাগগুলো জমা দেওয়ার সময়েই শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার করে বলুক, তাঁদের লেখা কোথায় যাচ্ছে এবং কত দিন থাকছে। আমরা আগেও লিখেছি, এ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এআইয়ের জন্য প্রস্তুত নয়; অপ্রস্তুতিটা শ্রেণিকক্ষে নয়, চুক্তিপত্রে দেখতে ঠিক এ রকমই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।