বাথ শহরের লিলির বয়স ১৯ মাস। চার মাস বয়সে তার হৃদ্রোগের অস্ত্রোপচার হয়, যে রোগের নাম কেউ বলতে পারছিলেন না। জানুয়ারিতে পরীক্ষায় অবশেষে ধরা পড়ে সেটি: মাল্টিসিস্টেমিক স্মুথ মাসল ডিসফাংশন সিনড্রোম বা এমএসএমডিএস, যার কারণ এসিটিএ২ জিনের একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন, আর যা হৃৎপিণ্ড ও কিডনিসহ নানা অঙ্গকে আক্রান্ত করে। বিশ্বে এ রোগ আছে বলে জানা গেছে প্রায় ৭০ জনের, যুক্তরাজ্যে মাত্র ছয়জনের।
পরিবারটি বিবিসিকে বলেছে, উত্তরটিতে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে এআই। লিলির মা রোজি মেয়ের উপসর্গগুলো লিখেছিলেন চ্যাটজিপিটিতে—হৃদ্রোগ, আর এই বিবরণটিও যে লিলির চোখের মণি সব সময় প্রসারিত হয়ে থাকে, যে কারণে তাকে এখন বাইরে রোদচশমা পরতে হয়।
এবার কেন কাজ হলো, আর সাধারণত কেন হবে না
সহজ পাঠটি হলো—এআই ডাক্তারকে হারিয়ে দিয়েছে। তা নয়। এটি আসলে বিরল রোগের একটি নির্দিষ্ট দুর্বলতার গল্প: উপসর্গগুলো আলাদা আলাদাভাবে সাধারণ, সেগুলো নিয়ে যেতে হয় ভিন্ন ভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছে যাঁদের একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা হয় না, আর ছকটি চোখে পড়ে কেবল তখনই যখন কেউ সবগুলো এক জায়গায় রাখেন। ঠিক এই একটি কাজেই ভাষা-মডেল অস্বাভাবিক রকম ভালো, কারণ সে এমন সব কেস রিপোর্ট পড়ে ফেলেছে যেগুলো পড়ার সময় কোনো একজন চিকিৎসকের নেই।
একই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে সাবধান। জেনেটিক অ্যালায়েন্স ইউকের প্রধান নির্বাহী নিক মিড বলেছেন, তিনি সতর্ক থাকতেই বলবেন; আর জোর দিয়ে জানিয়েছেন, এভাবে বহু রোগ শনাক্ত হওয়ার খবর তাঁদের জানা নেই। তাঁর কারিগরি আপত্তিটিই আসল: মেশিন লার্নিং মডেল মূলত শেখে প্রশিক্ষণের তথ্যে যা সবচেয়ে বেশিবার আসে তা থেকে—বিরল রোগ ঠিক যার উল্টোটা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বছরের গবেষণাও একই দিকে নির্দেশ করে। গবেষণার সহলেখক, চিকিৎসক রেবেকা পেইন বলেছেন, এত হইচই সত্ত্বেও "চিকিৎসকের ভূমিকা নেওয়ার জন্য এআই এখনো প্রস্তুত নয়"; আর সতর্ক করেছেন, বড় ভাষা-মডেলের কাছে উপসর্গ নিয়ে জানতে চাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে—ভুল রোগ বলে দিতে পারে, জরুরি সাহায্য দরকার কখন তা ধরতে না-ও পারে।
দুটো কথাই একসঙ্গে সত্যি। লিলির ঘটনাটি সত্যি, আর এটাও সত্যি যে আরও অনেক বেশিসংখ্যক মানুষ চ্যাটবটে উপসর্গ লিখে আত্মবিশ্বাসী ভুল উত্তর পাবেন, আর অপেক্ষা করতে থাকবেন।
পরিবারটি এখন কী করছে
লিলি চিকিৎসাধীন গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল ও ব্রিস্টল রয়্যাল হসপিটাল ফর চিলড্রেনের তত্ত্বাবধানে। তার বাবা-মা রোজি ও জনি গবেষণায় অর্থ জোগাতে গড়েছেন এসিটিএ২ অ্যালায়েন্স ইউকে নামের একটি দাতব্য সংস্থা। চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছে বোস্টন, যুক্তরাজ্যেও কিছু পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে; ইংল্যান্ডে একটি প্রুফ অব কনসেপ্টের জন্য পরিবারটি তুলতে চাইছে ৩০ হাজার পাউন্ড। এ সপ্তাহে তারা আয়োজন করেছে একটি "মুভ-আ-থন"—মানুষ হেঁটে, দৌড়ে, সাঁতরে বা নেচে যত মাইল পাড়ি দেবেন তা হিসাব করে রাখবেন, যতক্ষণ না যোগফল বাথ থেকে বোস্টনের ৩ হাজার ৩০০ মাইল ছুঁয়ে ফেলে। লিলির নানা অ্যান্ডি বলেছেন, তাঁরা আরও রোগী খুঁজে বের করে তথ্য গড়ে তুলতে চান—আর জানিয়েছেন, রোগটি ক্রমবর্ধমান বলে পরিবারটি যেন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে দৌড়াচ্ছে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
এ গল্পের কেন্দ্রে যে রোগনির্ণয়ের ফাঁক, এ দেশে তা আরও অনেক বড়। বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল জিনতত্ত্ববিদের সংখ্যা খুব কম, জিনগত পরীক্ষা মানে সাধারণত বিদেশে নমুনা পাঠানো—যার খরচ বেশির ভাগ পরিবারের সাধ্যের বাইরে—আর বিরল রোগের কোনো জাতীয় নিবন্ধন নেই। ফলে লিলির মতো রোগ নিয়ে জন্মানো শিশুর চিকিৎসা দেশের বেশির ভাগ জেলায় বছরের পর বছর চলবে উপসর্গ ধরে ধরে। এই শূন্যতাতেই চ্যাটবট ঢুকে পড়ে, আর ঠিক এ কারণেই সতর্কতা এখানে কম নয়, বেশি জরুরি: যেখানে ভুল শুধরে দেওয়ার বিশেষজ্ঞ নেই, সেখানে আত্মবিশ্বাসী ভুল উত্তর আরও বিপজ্জনক।
কাজে লাগানোর পথটি সংকীর্ণ, আর তা স্পষ্ট করে বলা দরকার। মডেলকে ব্যবহার করুন গুছিয়ে দেওয়ার কাজে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে নয়—প্রতিটি উপসর্গ, কত বয়সে শুরু, কী পরীক্ষা, কী ফল—সব এক নথিতে সময়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে, আর কী কী প্রশ্ন করা দরকার তার তালিকা বানাতে। এরপর সেই নথি নিয়ে যান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় একটি পরিবার যা নিতে পারে তার মধ্যে সবচেয়ে কাজের জিনিস একটি গোছানো রোগ-ইতিহাস, আর এই একটি কাজেই এআই সত্যিই ভালো। সে যে রোগের নাম বলে দেয়, তাকে যাচাই করার সূত্র ভাবুন—কখনোই সিদ্ধান্ত নয়। বয়স অনুযায়ী শিশু ও এআই নিয়ে লেখার সময়ও আমরা একই সীমারেখা টেনেছিলাম।




