গুগল এআই স্টুডিওতে প্রোগ্রামিং ছাড়াই বিনা মূল্যে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানানো আগেও যেত। ঝামেলার অংশটি ছিল সেটিকে নিজের ফোনে তোলা: হ্যান্ডসেটকে ইউএসবি দিয়ে কম্পিউটারে যুক্ত করা, ইউএসবি ডিবাগিং চালু করা আর কয়েকটি কারিগরি ধাপ পেরোনো।
গুগল সেটি সরিয়ে দিয়েছে। এআই স্টুডিওতে বানানো অ্যাপ এখন গুগল প্লের মাধ্যমেই সরাসরি নিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইনস্টল করা যাবে।
যেভাবে কাজ করে
আপনি সাধারণ ভাষায় লিখবেন কী চান—অ্যাপটি কী করবে আর তাতে কী কী সুবিধা থাকবে—আর এআই বানানো শুরু করবে। দরকারি কিছু বাদ পড়লে তা যোগ করার পরামর্শ পাওয়া যাবে। তৈরি হয়ে গেলে সম্পাদনা করা যাবে, কিংবা বাদ দিয়ে নতুন করে শুরু করা যাবে।
অ্যাপগুলো থাকবে গুগল প্লের ব্যক্তিগত সংগ্রহে। প্রকাশ্য স্টোরের তালিকা বা অনুসন্ধানের ফলাফলে সেগুলো দেখা যাবে না। এর জন্য দরকার কেবল একটি সাধারণ গুগল অ্যাকাউন্ট।
শুরুতে সুবিধাটি সীমিত: যুক্তরাষ্ট্রসহ নির্বাচিত কয়েকটি দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যবহারকারীরা পাবেন। পরে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে অ্যাপ শেয়ার করার সুবিধা আনার পরিকল্পনা আছে গুগলের।
এটি আসলে যা খুলে দেয়
তাৎপর্যটি এই নয় যে এআই অ্যাপ লিখতে পারে—সেটি আগেও পারত। তাৎপর্য এই যে ব্যবহারকারী কেবল আপনি নিজে হলে বিতরণের সমস্যাটির সমাধান হয়ে গেছে।
কাজে লাগার মতো প্রায় প্রতিটি ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ওই ধাপেই মারা যায়। কেউ এমন একটি অ্যাপ চান যা নির্দিষ্ট একটি জিনিস নির্দিষ্ট একভাবে হিসাব রাখবে, সেটি বানান, তারপর ডেভেলপারের সরঞ্জাম ছাড়া ফোনে তুলতে পারেন না। প্লের ব্যক্তিগত সংগ্রহ মানে নিজের জন্য বানানো জিনিসটি সত্যিকারের ইনস্টল করা অ্যাপের মতোই আচরণ করে।
যা এটি করে না, তা হলো আপনাকে ডেভেলপার বানানো। ব্যক্তিগত সংগ্রহের অ্যাপে ব্যবহারকারী নেই, রিভিউ নেই, আয় নেই, বিতরণ নেই। গুগল বলছে জনপ্রিয় অ্যাপ পরে বৃহত্তর প্রকাশের দিকে নেওয়া যেতে পারে—আর ওই দুই অবস্থার মাঝের ফাঁকেই পড়ে থাকে কঠিন কাজগুলো: নিরাপত্তা, সহায়তা, সামঞ্জস্য, নীতিমালা মানা।
বাংলাদেশে এর মানে কী
সীমাবদ্ধতা দিয়েই শুরু করা যাক, কারণ কার্যকর তথ্যটি সেটিই: সুবিধাটি শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও নির্বাচিত কয়েকটি দেশে, আর বাংলাদেশ তাতে থাকার সম্ভাবনা কম। আপাতত এটি ব্যবহারের নয়, বোঝার বিষয়।
যখন আসবে, এখানে বাস্তব ব্যবহারটি সংকীর্ণ কিন্তু সত্যিকারের। ছোট ব্যবসা চলে কাগজের খাতা আর ভাগ করা স্প্রেডশিটে—দোকানের মজুত, গৃহশিক্ষকের হাজিরা, ডেলিভারির রুট। এগুলো ঠিক সেই সমস্যা, যা তৈরি অ্যাপের জন্য বড্ড নির্দিষ্ট আর ডেভেলপারকে টাকা দেওয়ার জন্য বড্ড ছোট। বর্ণনা দিয়ে বানানো ব্যক্তিগত অ্যাপ এখানে মানানসই।
দুটি সতর্কতা। গ্রাহকের নাম, ফোন নম্বর বা লেনদেন থাকে এমন কিছু বানানোর আগে ভাবা দরকার, পরে নয়—আর বর্ণনা দিয়ে জোড়া অ্যাপ ওই কথা মাথায় রেখে নকশা করা হবে না। আর ব্যক্তিগত অ্যাপের কোনো সহায়তা নেই: নষ্ট হলে যিনি বর্ণনা দিয়েছিলেন তাঁকেই সারাতে হবে, যা বর্ণনা দেওয়ার চেয়ে আলাদা দক্ষতা।
গেমের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি নিয়ে আছে গুগল ল্যাবসের টেক্সট-টু-গেম প্ল্যাটফর্মের খবর।
‘প্রোগ্রামিং ছাড়াই’ কথাটির সীমা
প্রতিশ্রুতিটি সত্যি, তবে সীমা আছে—আর সেটি জেনে রাখলে হতাশা কম হয়।
বর্ণনা দিয়ে বানানো অ্যাপ ভালো কাজ করে যখন কাজটি সরল আর তথ্য থাকে ফোনের ভেতরেই: একটি তালিকা, একটি হিসাব, একটি টাইমার, একটি নোট। সমস্যা শুরু হয় যখন অ্যাপটিকে বাইরের কিছুর সঙ্গে কথা বলতে হয়—ব্যাংকের এপিআই, এসএমএস গেটওয়ে, অন্য কারও ডেটাবেজ। ওখানে প্রতিটি ধাপে অনুমতি, কি আর ত্রুটি সামলানোর প্রশ্ন আসে, যেগুলো বর্ণনা করে পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয় সীমাটি রক্ষণাবেক্ষণের। অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ এলে পুরোনো অ্যাপ ভাঙতে পারে, আর তখন ‘আবার বর্ণনা দিন’ সব সময় কাজ করে না—কারণ এআই আগেরবার ঠিক কী বানিয়েছিল তা আপনার কাছে লেখা নেই। যাঁরা এ পথে কিছু বানাবেন, তাঁদের জন্য সহজ পরামর্শ: যে নির্দেশনাগুলো দিয়ে অ্যাপটি তৈরি হয়েছে, সেগুলো একটি ফাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন। ওটিই আপনার সোর্স কোড।
সূত্র: গুগল, প্রথম আলোর বরাতে।




