প্রযুক্তি

আটকে যাওয়া ৫ কোটি পাউন্ডের মেট পুলিশ চুক্তি নিয়ে আদালতের লড়াই তুলে নিল পালান্তির, আর মীমাংসা বলছে নীতিনৈতিকতা কখনো কারণ ছিল না

মোপ্যাকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের মামলা তুলে নিয়েছে পালান্তির। সিদ্ধান্ত বহাল, কেউ কাউকে টাকা দেয়নি, আর চুক্তিটি নতুন করে ডাকা হবে।

আটকে যাওয়া ৫ কোটি পাউন্ডের মেট পুলিশ চুক্তি নিয়ে আদালতের লড়াই তুলে নিল পালান্তির, আর মীমাংসা বলছে নীতিনৈতিকতা কখনো কারণ ছিল না

মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ৫ কোটি পাউন্ডের আটকে যাওয়া একটি চুক্তি নিয়ে লন্ডনের মেয়রের পুলিশিং দপ্তরের বিরুদ্ধে করা হাইকোর্টের মামলা তুলে নিয়েছে পালান্তির।

মেয়রস অফিস ফর পুলিশিং অ্যান্ড ক্রাইম (মোপ্যাক) নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়নি। বরং চুক্তিটি নতুন করে ডাকা হবে, আর তাতে অংশ নিতে পালান্তির ‘স্বাধীন ও স্বাগত’।

৫ কোটি পাউন্ডের চুক্তি, কারও টাকা দিতে হয়নি, আর চুক্তিটি নতুন করে ডাকা হবে
যৌথ বিবৃতির শর্তগুলো। গ্রাফিক: টেক বিডি।

যা মীমাংসা হলো

বুধবারের যৌথ বিবৃতিতে মোপ্যাক বলেছে, সিদ্ধান্তটি ‘পালান্তিরের মূল্যবোধ বা নীতিনৈতিকতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি’। কেউ কাউকে কোনো টাকা দেয়নি, আর দুই পক্ষই নিজেদের আইনি খরচ বহন করবে।

মোপ্যাক স্বীকার করেছে, মেয়রের মুখপাত্রের একটি বক্তব্য ‘ভুলভাবে এমন ধারণা তৈরি করে থাকতে পারে’ যে মূল্যবোধ একটি বিবেচনা ছিল, আর জানিয়েছে তাদের ‘পালান্তিরের সঙ্গে চুক্তি না করার কোনো নীতি নেই এবং কখনো ছিল না’। সংস্থাটি বলেছে, ব্যয়ের প্রস্তাব পরীক্ষা করে অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করার আইনি দায়িত্বের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তটি হয়েছিল।

লর্ড সাদিক খান বলেছেন, পালান্তির ‘রাজধানীর কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে, বিপুলসংখ্যক লন্ডনবাসীকে চাকরি দেয়, যাঁদের সেবা যুক্তরাজ্য ও তার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো আইনসম্মতভাবেই নিয়েছে’।

মামলাটি কী নিয়ে ছিল

অপরাধ তদন্তে গোয়েন্দা বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয় করার এআই সরঞ্জামের ওই চুক্তিটি মোপ্যাক আটকে দেয় মে মাসে। উপমেয়র কায়া কোমার-শোয়ার্টজ কমিশনারকে লেখেন, মেট কেবল একটি সরবরাহকারীকেই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে, আর ক্রয়কৌশলের জন্য মোপ্যাকের অনুমোদন না নেওয়া নিয়মের ‘স্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন’।

জুনে পালান্তির মামলা করে, যুক্তি দেয় যে ‘মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতা’ ভুলভাবে বিবেচনায় নিয়ে মোপ্যাক ‘বেআইনি ভেটো’ দিয়েছে। মোপ্যাক তা অস্বীকার করে। জানুয়ারিতে মামলাটি বিচারে যাওয়ার কথা ছিল, আর লর্ড খান এর অংশ হিসেবে নিজের খুদে বার্তা ও ই-মেইল তল্লাশিতে সম্মত হয়েছিলেন।

ফলাফলটি মন দিয়ে পড়ুন

এটি পালান্তিরের পিছু হটা হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে, আর একদিক থেকে তা-ই। তবে দেখুন কে কী ধরে রাখল।

মোপ্যাক ধরে রাখল সিদ্ধান্তটি আর এই নীতিটি যে তারা ক্রয়প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে পারে। পালান্তির পেল এমন কিছু, যা বিচারে জেতা যেত না: একটি সরকারি সংস্থার লিখিত বক্তব্য যে তাদের নীতিনৈতিকতা কখনো কারণ ছিল না—যা ঠিক সেই নজিরটি সরিয়ে দিল, যেটি এড়ানো তাদের সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল। সরকারি কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারীর মূল্যবোধ বিবেচনা করতে পারে—এমন রায় ব্রিটেনের প্রতিটি চুক্তিতে পালান্তিরের পিছু নিত।

দুটির কোনোটিই পরাজয় নয়। মামলাটি শেষ হলো, কারণ থেমে যাওয়ার চেয়ে জানুয়ারিতে দুই পক্ষেরই হারানোর ছিল বেশি।

বাংলাদেশে এর মানে কী

প্রযোজ্য অংশটি ক্রয়ের নিয়ম, প্রতিষ্ঠানটি নয়।

মোপ্যাকের আপত্তি ছিল, মেট কেবল একটি সরবরাহকারীকেই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে আর কীভাবে কিনছে তার অনুমোদন নেয়নি। সরকারি প্রযুক্তি কেনাকাটায় এটিই সবচেয়ে সাধারণ ব্যর্থতা—সব দেশেই—আর এখানেও পুরোপুরি চেনা: একটি নির্দিষ্ট পণ্যকে ঘিরে লেখা স্পেসিফিকেশন, একটিমাত্র বিশ্বাসযোগ্য দরদাতা, আর সিদ্ধান্তের আগে নয়, পরে চাওয়া অনুমোদন।

লন্ডনের ঘটনাটি শিক্ষণীয় এ কারণে যে তদারকি সংস্থাটির ৫ কোটি পাউন্ডের একটি চুক্তি প্রক্রিয়াগত কারণে আটকে দেওয়ার মতো অবস্থান ও আগ্রহ দুটোই ছিল, আর তার জন্য মামলা খেয়েও টিকে গেছে। প্রযোজ্য প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রহণযোগ্য কি না তা নয়। প্রশ্নটি হলো, অনানুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হয়ে যাওয়া কোনো কেনাকাটাকে ‘না’ বলার মতো অবস্থানে শৃঙ্খলের কেউ আছেন কি না।

একই প্রতিষ্ঠান ভিন্ন কারণে পুলিশের কাজ হারিয়েছে ইস্ট মিডল্যান্ডসের যে পরীক্ষা আর চালানো হয়নি তাতে।

যে নজিরটি তৈরি হলো না

মামলা মীমাংসা হলে সাধারণত যা আলোচনায় আসে তা হলো কে জিতল। এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কী নির্ধারিত হলো না।

বিচার হলে আদালতকে সিদ্ধান্ত দিতে হতো একটি সরকারি কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারীর মূল্যবোধ বিবেচনায় নিতে পারে কি না। যেদিকেই রায় যেত, সেটি ব্রিটেনের প্রতিটি সরকারি ক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য হতো—আর ধরনটি রপ্তানি হতো অন্য দেশের আদালতেও, যেখানে একই প্রশ্ন সামনে আসছে।

মীমাংসায় ওই প্রশ্নটি অমীমাংসিতই থেকে গেল। অর্থাৎ পরের বার কোনো কর্তৃপক্ষ একই কারণে কোনো চুক্তি আটকালে তাঁকে আবার শুরু থেকে লড়তে হবে, আর সরবরাহকারীকেও। আইন এগোয়নি; কেবল একটি নির্দিষ্ট চুক্তি সরে গেছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশে সরকারি ক্রয়ে বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাদের জন্য এটি মনে রাখার মতো: বড় মামলাগুলো প্রায়ই নীতি স্থির না করেই শেষ হয়।

সূত্র: বিবিসি নিউজ।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।