কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে দুধ আর ওয়াশিং মেশিন বেশি কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত—বলেছেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ। তিনি বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়মের ডাক দিয়েছেন, যা তাঁকে দাঁড় করিয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিপরীতে—যিনি বলছেন, চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পিছিয়ে না পড়তে খাতটির নিজেরই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
“এই মুহূর্তে এআইয়ের চেয়ে আপনার ওয়াশিং মেশিনে বেশি নিরাপত্তা নিয়ম খাটে,” বিবিসির বিগ বস ইন্টারভিউ পডকাস্টে বলেছেন স্মিথ। “মুদিদোকানে আপনি যে দুধের প্রতিটি কার্টন দেখেন, তা নিরাপত্তা নিয়ম ও পরিদর্শনের আওতায়।” এআইকে একাধারে “সরঞ্জাম ও অস্ত্র” বলে তিনি যোগ করেন: “আজই শুরু করা যাক।”
তিনি আসলে যে চারটি জিনিস চেয়েছেন
দুধের উপমাটি ছড়িয়েছে, তবে তার নিচের প্রস্তাবগুলো সুনির্দিষ্ট—যা এগুলোকে “দায়িত্বশীল এআই”-এর চেনা আহ্বানের চেয়ে সহজে বিচার্য করে তোলে।
- জরুরি ব্রেক। শিল্পে যাকে বলে কিল সুইচ—খারাপ আচরণ করতে থাকা ব্যবস্থাকে থামানো বা ধীর করার উপায়।
- বাধ্যতামূলক ঘটনা-প্রতিবেদন। কী ভুল হলো তা লিখে রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা।
- ভুক্তভোগীকে জানানোর দায়। কারও ব্যবস্থায় বিপথগামী এআই এজেন্ট ঢুকে পড়লে তা জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতা।
- বাজারে ছাড়ার আগে স্বাধীন মূল্যায়ন। সরকার-নিযুক্ত মূল্যায়নকারীদের দিয়ে পণ্য যাচাই।
“অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে করতে হয় আমরা জানি,” বলেছেন স্মিথ। “সেই জ্ঞানের ওপর ভর করে ভাবা উচিত, এআইয়ে তা কীভাবে প্রয়োগ করা যায়।” নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যকে সবচেয়ে উপযুক্ত বলেছেন, তাদের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের কারণে—যা ঋষি সুনাকের আমলে এআই সেফটি ইনস্টিটিউট হিসেবে তৈরি হয়েছিল।
তৃতীয়টি কাল্পনিক নয়
ভুক্তভোগীকে জানানোর প্রস্তাবটি পড়ে মনে হয় সতর্কতামূলক। তা নয়—এটি এমন কিছুর বর্ণনা, যা এরই মধ্যে ঘটেছে এবং সামলানো হয়েছে ঠিক সেভাবেই, স্মিথ যেভাবে বলছেন সামলানো উচিত নয়।
জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিকের একটি পরীক্ষামূলক এজেন্ট ফিলাডেলফিয়া পুলিশকে বানানো খুনের তথ্য পাঠায়। প্রতিষ্ঠানটি জানতে পারে দশ সপ্তাহ পর, আর পুলিশকে জানায় তারও নয় দিন পর। কিছু বলার আইনি বাধ্যবাধকতা তাদের ছিল না। ক্রমটি আছে ভুয়া তথ্য নিয়ে লেখাটিতে, আর জানানোর দায়ের পক্ষে হাতের সবচেয়ে স্পষ্ট যুক্তি এটিই: দায় না থাকলে প্রকাশ ঘটে প্রতিষ্ঠানের বেছে নেওয়া গতিতে।
একই যুক্তি খাটে ঘটনা-প্রতিবেদনের বেলায়। উড়োজাহাজ ও চিকিৎসা মূলত উন্নত হয়েছে কারণ ব্যর্থতা লিখে রাখা ও ভাগ করে নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল—বিব্রতকরগুলোসহ। এআইয়ে এর সমতুল্য কিছু নেই, কাজেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠান একই শিক্ষা আলাদাভাবে ও গোপনে শেখে।
যুক্তিটি সবচেয়ে দুর্বল যেখানে
কে বলছেন, তা লক্ষ করার মতো। মাইক্রোসফট বড় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, আর নির্দিষ্ট পরিপালন-ব্যয় চাপানো নিয়মে বড় প্রতিষ্ঠিতরাই লাভবান হয়—কারণ ওই ব্যয়ের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগে ছোট প্রতিযোগীদের গায়ে। এতে প্রস্তাবগুলো ভুল হয়ে যায় না, তবে কেন সেগুলো করা হচ্ছে তার এটি একটি অংশ—আর বাজারে ছাড়ার আগে মূল্যায়নের বিষয়টিই এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত।
অন্য ফাঁকটি প্রয়োগ। অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই ও গুগল ডিপমাইন্ডের শীর্ষ ব্যক্তিরা উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে বলেছেন; ট্রাম্প ঠেলেছেন উল্টো দিকে; আর এ মাসে তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়কারী সংস্থাটি জবাবদিহি করে কংগ্রেসের নয়, প্রেসিডেন্টের কাছে—কাঠামোটি দেখা হয়েছে সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স নিয়ে লেখাটিতে। নির্বাহীদের মধ্যে ঐকমত্য নিয়ন্ত্রণ নয়, যা দেখায় শিল্পের নিজের মান-সংস্থাটি।
এর কিছুই নেই এমন দেশ কী পায়
বাংলাদেশে এআই আইন নেই, নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট নেই, জানানোর দায়ও নেই। স্মিথের চারটি নিয়ম কোথাও এলে আগে আসবে যুক্তরাজ্য ও ইইউতে।
এটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক নয়। যে বিক্রেতাকে এক বাজারে ঘটনা-প্রতিবেদন দিতে হয়, সে সাধারণত সক্ষমতাটি একবার বানিয়ে সবখানেই প্রয়োগ করে—কারণ দুটি আলাদা মান বজায় রাখা ব্যয়বহুল। কাজেই ঢাকার ক্রেতার সুরক্ষার ব্যবহারিক পথ হলো লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করা, বিক্রেতার ঘটনা-প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগীকে জানানোর অঙ্গীকার এই চুক্তিতেও খাটে কি না—আর খেয়াল করা যে উত্তরটি বিক্রেতার বেছে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত, আপনাকে রক্ষা করা কোনো আইন নয়।




