প্রযুক্তি বিশ্ব

স্মল ওয়ার্ল্ডের বিজয়ীকে বাতিল করল নিকন: সিলিয়ার ভিডিওটি জেনারেটিভ এআই নিয়ম ভেঙেছে

নিকন বলছে, বিজয়ী ভিডিওটি জেনারেটিভ এআই নিয়ম মানেনি। যিনি প্রথম আপত্তি তোলেন, তিনি বিশ বছর ধরে চোখে দেখেই এই রোগ নির্ণয় করে আসছেন।

স্মল ওয়ার্ল্ডের বিজয়ীকে বাতিল করল নিকন: সিলিয়ার ভিডিওটি জেনারেটিভ এআই নিয়ম ভেঙেছে

নিজেদের স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন প্রতিযোগিতার বিজয়ীকে বাতিল করেছে নিকন; তাদের রায়, ভিডিওটি তৈরিতে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার প্রতিযোগিতার নিয়ম ভেঙেছে। ১৫ বছর ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তোলা স্থিরচিত্র ও ভিডিও জমা নেওয়া হয়।

জমাটি দিয়েছিলেন চীনের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নিং শু, আর তাতে দেখা যাচ্ছিল শ্বাসতন্ত্রের রোগ পিসিডিতে আক্রান্ত এক শিশুর শ্বাসনালিতে সিলিয়া নামের সূক্ষ্ম চুলের মতো গঠনগুলোর নড়াচড়া। শু এআই ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন, তবে বলেছিলেন তিনি নিয়মের মধ্যেই থেকেছেন বলে মনে করেন, আর নিকনের তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।

নিকন জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি এসেছে “ভিডিও ও সহায়ক উপকরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্মূল্যায়ন এবং বিচারক প্যানেলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর”, আর ভিডিওটি “জেনারেটিভ এআই-সংক্রান্ত প্রতিযোগিতার নিয়ম মানেনি”। তারা যোগ করেছে, এটি অংশগ্রহণকারীর পেশাগত সুনাম বা বৈজ্ঞানিক অবদানের বিচার নয়, আর তারা এখন প্রতিযোগিতার নিয়ম ও পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে।

অভিযোগটি এবং তা নিয়ে বিতর্ক আছে আগের লেখাটিতে। এটি তার পরিণতি।

এটি ধরা পড়ল যেভাবে, আর তা কেন গুরুত্বপূর্ণ

কোনো শনাক্তকারী সফটওয়্যার এটি ধরেনি। ধরেছেন বিজ্ঞানীরা—প্রতিযোগিতার সাবেক বিচারকসহ, যাঁরা নিকনের লিংকডইন পাতায় অভিযোগ করেন যে ভিডিওটি আসল মনে হচ্ছে না।

সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট আপত্তিটি এসেছে ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের ড. রবার্ট হার্স্টের কাছ থেকে, যিনি এনএইচএসের একটি পিসিডি কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী। তিনি বলেছেন, তিনি “অবাক হননি” আর “সঙ্গে সঙ্গেই বুঝেছিলেন ভিডিওটি বানানো”। তাঁর কারণটিই গুরুত্বপূর্ণ অংশ: “সিলিয়ার তরঙ্গরূপ, দৈর্ঘ্য, কোষের আকার ও আকৃতি দেখে আমি ২০ বছর ধরে পিসিডি নির্ণয় করে আসছি।”

তিনি এআই শনাক্ত করছিলেন না। তিনি শনাক্ত করছিলেন ভুল সিলিয়া—এমন নড়াচড়া ও অনুপাত, যা তিনি দুই দশক ধরে দেখে আসা রোগটিতে ঘটে না। এটি জেনারেটিভ উপজাত চেনার চেয়ে আলাদা ও অনেক বেশি টেকসই দক্ষতা, কারণ মডেল উন্নত হলেও এটি ক্ষয়ে যায় না।

এটি আরও দেখায় কে এটি পারেন। সংকীর্ণ কোনো বিষয়ে বিশ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বিশেষজ্ঞ কয়েক সেকেন্ডে বিশ্বাসযোগ্য নকল ধরতে পারেন; সর্বজনীন কোনো শনাক্তকারী পারে না, আর ক্রমে আরও পারবে না। অর্থাৎ এআইয়ের যুগে বৈজ্ঞানিক সততা নির্ভর করছে বিষয়-বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞেস করার ওপর, আর প্রতিযোগিতাগুলো ঘোষণার ওপর ভরসা না করে বিচারপ্রক্রিয়ায় সেটি যুক্ত করার ওপর।

নিকন যা ঠিক করেছে, আর যা করেনি

রায়টি সংকীর্ণ ও সতর্ক। নিকন নিয়ম ভাঙার জন্য জমাটি বাতিল করেছে, অংশগ্রহণকারীর বৃহত্তর কাজ নিয়ে প্রশ্ন না তুলেই—প্রতিযোগিতার আয়োজকের জন্য সঠিক পরিধি এটিই; কারও গবেষণা-রেকর্ডের বিচার করার অবস্থানে তারা নেই, আর তারা চেষ্টাও করেনি।

তবে নিয়ম নিয়ে ঘটনাটি যা দেখায় তা হলো, ঘোষণানির্ভর ব্যবস্থা নীরবে ব্যর্থ হয়। শু এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছিলেন এবং নিজেকে নিয়মসম্মত ভেবেছিলেন; বিচারকেরা জমাটি পাস করিয়েছিলেন; আপত্তি এসেছে বাইরে থেকে, পুরস্কারের পর। “উন্নয়ন” কোথায় শেষ আর “তৈরি” কোথায় শুরু—এই ব্যাখ্যা অংশগ্রহণকারীর ওপর ছেড়ে দেওয়া নিয়ম বারবার এই ফলই দেবে, আর পর্যালোচনাই এর সঠিক জবাব।

এটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চেয়ে দূরে পৌঁছায় কেন

বৈজ্ঞানিক চিত্র প্রমাণ। সেগুলো থাকে গবেষণাপত্রে, রোগনির্ণয়ে, পাঠ্য উপকরণে ও অনুদানের আবেদনে—আর এর প্রায় কোনোটিতেই বিচারক প্যানেল বা লিংকডইনের মন্তব্যের সারি নেই।

বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা জার্নালের জন্য ব্যবহারিক প্রশ্নটি তৈরি করা ছবি কীভাবে শনাক্ত করা যায় তা নয়—সেটি বাস্তবে জেতার মতো লড়াই নয়। প্রশ্নটি হলো, জমা দেওয়ার নিয়মে চূড়ান্ত চিত্রের পাশাপাশি মূল ধারণকৃত ছবি ও ধারণের মেটাডেটা চাওয়া হয় কি না—যাতে প্রশ্ন উঠলে পিক্সেল নিয়ে তর্ক না করে মূলটি চেয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা যায়।

ফাইলের সঙ্গে উৎসের তথ্য জুড়ে দেওয়ার সমান্তরাল শিল্প-উদ্যোগ হলো টিকটকে আসা সিটুপিএ মান, আর লেখার জন্য ওপেনএআইয়ের জলছাপ।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।