প্রযুক্তি স্বাস্থ্য

ছয় সপ্তাহের জন্য সামাজিক মাধ্যম কমাচ্ছে ব্র্যাডফোর্ডের ৪ হাজার কিশোর, আর ফলাফল গড়ে দেবে একটি জাতীয় নিষেধাজ্ঞা

আইআরএল পরীক্ষায় কিছু শিক্ষার্থী পাচ্ছে সামাজিক মাধ্যম সীমিত করার অ্যাপ, বাকিরা নয়; ছয় সপ্তাহ পর মেলানো হবে উদ্বেগ, ঘুম, দেহভাবনা ও স্কুলজীবন।

ছয় সপ্তাহের জন্য সামাজিক মাধ্যম কমাচ্ছে ব্র্যাডফোর্ডের ৪ হাজার কিশোর, আর ফলাফল গড়ে দেবে একটি জাতীয় নিষেধাজ্ঞা

সামাজিক মাধ্যমে সময় সীমিত করার একটি গবেষণায় যোগ দিয়েছে ব্র্যাডফোর্ডের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী। বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ডের গবেষকেরা মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যম সীমিত করা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে আইআরএল (ইন রিয়েল লাইফ) পরীক্ষাই প্রথম বড় বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ১২ থেকে ১৫ বছরের ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের পর দলটি ব্র্যাডফোর্ডের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে নিয়েছে ৪ হাজার শিক্ষার্থী।

নকশাটি সরল। কিছু শিক্ষার্থী ব্যবহার করবে এমন একটি অ্যাপ, যা তাদের সামাজিক মাধ্যম সীমিত করে; বাকিরা চলবে আগের মতোই। ছয় সপ্তাহের শুরুতে ও শেষে সবাই পূরণ করবে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নপত্র—উদ্বেগ, ঘুম, দেহভাবনা ও স্কুলজীবন নিয়ে।

মে মাসে ঘোষিত ১৬ বছরের কমবয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্য সরকার কীভাবে কার্যকর করবে, ফলাফল তাতে কাজে লাগবে। নিষেধাজ্ঞাটি আসার কথা ২০২৭ সালের বসন্ত নাগাদ।

ফলাফলের চেয়ে নকশাটি কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

কিশোর ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ে প্রকাশিত প্রায় সবকিছুই সহসম্পর্কভিত্তিক: গবেষকেরা মাপেন তরুণেরা কতটা ব্যবহার করে, মাপেন তারা কেমন বোধ করে, আর সম্পর্ক খোঁজেন। এই পদ্ধতি দুটি সম্ভাবনা আলাদা করতে পারে না, যা উপাত্তে দেখতে একই রকম—বেশি ব্যবহার কিশোরদের অসুখী করে, নাকি অসুখী কিশোরেরা ফোন বেশি ব্যবহার করে।

যে পরীক্ষা সীমাটি কে বেছে নিল তা দেখার বদলে নিজেই বরাদ্দ করে, সেটি এই জট খোলে। এ কারণেই ফল যেদিকেই যাক এটি গুরুত্বপূর্ণ, আর আইন করতে যাওয়া সরকার এটি চেয়েছিল।

সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট বলা দরকার। ছয় সপ্তাহ মাপে স্বল্পমেয়াদি প্রভাব, আর অ্যাপে চাপানো সীমা আইনি নিষেধাজ্ঞার মতো একই হস্তক্ষেপ নয়—নিষেধাজ্ঞা বদলে দেয় সবার বন্ধুরা কী করছে, আর সামাজিক মাধ্যম বলতে মূলত সেটিই। পরীক্ষা বলতে পারে একজন কিশোর কম ব্যবহার করলে কী হয়। গোটা একটি শ্রেণি কম ব্যবহার করলে কী হয়, তা বলতে পারে না।

শিক্ষার্থীরা নিজেরা যা বলেছে

অংশগ্রহণকারীরা বিতর্কটির চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ছিল।

১২ বছরের ডসন জানায়, সে দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে কাটায় আর কম কাটানোর অপেক্ষায় আছে: “আমার মনে হয় এতে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে, কারণ আমি ফোনে কম থাকব। মনে হয় আমি এতে বেশি সময় দিই, আর যেসব জিনিসে মন দেওয়া উচিত সেগুলোয় দিই না।” তার বাবা অ্যাডাম চেয়েছেন সহজ কিছু: “হয়তো তাকে নিচতলায় আরেকটু বেশি দেখব, সেটাই ভালো শুরু হবে।”

অ্যাপলটন একাডেমির অন্যরা স্পষ্টই বলেছে, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলাটা তাদের মিস হবে। আপত্তিটি তুচ্ছ নয়—বহু কিশোরের বন্ধুত্ব টিকে থাকে এসব প্ল্যাটফর্মেই, আর সীমা আরোপের আশা করা সুফলের পাশাপাশি সত্যিকারের একটি খরচও আছে। যে পরীক্ষা কেবল সুফলটাই মাপে, সেটি ভুল পরীক্ষা হতো।

বাংলাদেশের নকল নয়, নজর রাখা উচিত কেন

এখানে সমতুল্য কোনো প্রমাণ নেই, আর পরিস্থিতি যথেষ্ট আলাদা যে ফলাফল হুবহু খাটবে না।

বাংলাদেশের কিশোরেরা প্রায়ই ফোন ভাগ করে ব্যবহার করে, অনেক সময় অভিভাবকের নামে নেওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, আর বহু পরিবারে ব্রিটিশ বারো বছরের শিশুর চেয়ে দেরিতে ও কম একান্তে অনলাইনে আসে। অ্যাপভিত্তিক সীমা ধরে নেয় ব্যক্তিগত একটি যন্ত্র আর কিশোরের নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্ট—এই একই ধারণা পশ্চিমা অভিভাবক-নিয়ন্ত্রণকে এখানে অনেকটাই তাত্ত্বিক বানিয়ে রাখে, যা দেখা গেছে কমন সেন্স মিডিয়ার পরীক্ষায়।

যা খাটে তা হলো পদ্ধতিটি। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ে ফোন নিষিদ্ধ করার আগে—কয়েকটি করেছে—জিজ্ঞাস্য প্রশ্নটি হলো, আগে ও পরে কেউ কিছু মেপেছিলেন কি না। মেয়াদের শুরুতে আর শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নপত্র নিতে প্রায় কিছুই খরচ হয় না, আর তাতে স্থানীয় প্রমাণ তৈরি হয়—যা এখন একেবারেই নেই।

সম্পর্কিত: মেটার দুই ঘণ্টার সীমা, গেমিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পর্যবেক্ষণ আর বয়স অনুযায়ী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের নির্দেশিকা।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।