শত শত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান প্রকাশ করে গণিতবিদদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছে ওপেনএআই। অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকস গণিতবিদদের প্রতিষ্ঠানটি বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে; তাদের বক্তব্য, এ কাজ ক্ষেত্রটির কেউ চায়নি, আর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ উপকরণ প্রকাশের ধরন নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।
গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি ৩৭৭টি গাণিতিক সমস্যার সমাধান প্রকাশ করে আর গিটহাবে ৭০০টির বেশি ফাইলের একটি সংগ্রহশালা উন্মুক্ত করে। সংগঠনটির অবস্থান হলো, নির্ভরযোগ্যতা, নৈতিকতা ও জনস্বার্থের জন্য নীতিমালা দরকার; বিপুলসংখ্যক ফাইল প্রকাশ করলেই তা গণিতে অবদান হয় না; আর উদ্যোগটিকে গবেষণার দক্ষতার চেয়ে ক্ষমতার প্রদর্শনী বলেই মনে হয়।
ওপেনএআই গণিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি উপদেষ্টা দলের পরামর্শের কথা উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি মনে করিয়ে দিচ্ছে, ওই উপদেষ্টা দলই এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ মডেল দিয়ে উন্নত গাণিতিক সমস্যায় পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।
অভিযোগটি সক্ষমতা নিয়ে নয়, যাচাই নিয়ে
এটিকে সহজেই পড়া যায় যন্ত্র নিজেদের কাজ করে ফেলায় গণিতবিদদের ক্ষোভ হিসেবে। ঘোষিত আপত্তিটি আরও সংকীর্ণ ও বাস্তব।
প্রমাণ কোনো ফলাফল নয়; এটি একটি যুক্তি, যা অন্য গণিতবিদেরা পড়েন, যাচাই করেন আর হয় মেনে নেন, নয় ভেঙে দেন। প্রক্রিয়াটি ধীর, কারণ ওটিই গোটা ব্যাপার—শাখাটির নির্ভরযোগ্যতা আসে যাচাই থেকে, দাবি থেকে নয়। একটি কঠিন প্রমাণ বিশেষজ্ঞদের মাসের পর মাস আটকে রাখতে পারে।
একসঙ্গে ৩৭৭টি ছাড়া সেটিকে উল্টে দেয়। যাচাইয়ের ভার অযাচিতভাবে এসে পড়ে বাড়তি সম্পদহীন ছোট একটি সম্প্রদায়ের ওপর, আর যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কেউ জানে না ৩৭৭টির কোনগুলো সঠিক, কোনগুলো সাধারণ কথার পুনরাবৃত্তি আর কোনগুলো সূক্ষ্মভাবে ভুল। কেউ ওই কাজটি না করা পর্যন্ত সংগ্রহশালাটি অবদান নয়—আর যাঁরা কাজটি করতেন, তাঁরা এটি চাননি।
উপদেষ্টা দলের বিষয়টিই সবচেয়ে ধারালো অংশ কেন
যে উপদেষ্টা দল এ ধরনের পরীক্ষায় আপত্তি জানিয়েছিল তাদেরই উল্লেখ করা—এ অংশটি লক্ষণীয়, কারণ এটি মতামতের বিষয় নয়, যাচাইযোগ্য।
পরামর্শ তখনই অর্থবহ, যখন সেই পরামর্শ ফল বদলাতে পারে। যে উপদেষ্টা দলের আপত্তি টুকে রেখে উপেক্ষা করা হয়, অথচ তাদের অস্তিত্বকেই সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়—তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি, ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনটি শিল্পজুড়েই ফিরে আসে: বাইরের মতামতকে অনুমোদন হিসেবে দেখানো হয়, আর উপদেষ্টারা আসলে কী বলেছেন তা ঘোষণা থেকে বাদ পড়ে।
এটি একই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে বিরোধের মতোই গঠনগত সমস্যা, যা আছে বরখাস্ত তিন গবেষকের খোলা চিঠিতে। যে তদারকি “না” বলতে পারে না, তা তদারকি নয়।
বয়কটই তাঁদের হাতে থাকা উপায় কেন
এই আকারের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গণিত সংগঠনের বয়কটের ডাক দুর্বল শোনায়, আর বাণিজ্যিক অর্থে তা দুর্বলই। এটি আয়ের দিকে তাক করা নয়।
ক্ষেত্রটির নিয়ন্ত্রণে আছে অংশগ্রহণ: কে উপদেষ্টা দলে বসতে রাজি হবেন, কে কোনো মডেলের গাণিতিক দাবি পর্যালোচনা করবেন, কে কোনো বেঞ্চমার্কে নিজের নাম দেবেন। এসব অবদান অবৈতনিক, আর এগুলোই কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনকে শাখাটির স্বীকৃত কিছুতে বদলে দেয়। এগুলো তুলে নিলে ওপেনএআইয়ের টাকা যায় না; যায় সেই বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রকাশিত সমাধানগুলো যা অর্জনের জন্যই ছিল।
উপায়টি সংকীর্ণ, আর একাডেমিক সংগঠনের হাতে এটিই একমাত্র। এখানে তা সমানুপাতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন ন্যায্য—সংগঠনটি এমন নীতিমালাও চাইছে, যা লিখতে তারা নিজেরাই সাহায্য করবে; চাওয়াটি যুক্তিসংগত, আবার স্বার্থসংশ্লিষ্টও।
এখানেসহ সর্বত্র গবেষণার জন্য এর মানে
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই বিরোধের মীমাংসা করতে যাচ্ছে না। তারা পাবে এর পরিণতি—যাচাইয়ের সক্ষমতার চেয়ে দ্রুত এসে পড়া যাচাইয়ের সমস্যা।
কোনো মডেল যদি বিপুল পরিমাণে যুক্তিসংগত প্রমাণ, সাহিত্য পর্যালোচনা ও উপপাদন তৈরি করতে পারে, তবে গবেষণার সীমাবদ্ধতা আর উৎপাদন থাকে না, হয়ে যায় যাচাই। যে বিভাগ দুই সপ্তাহে একটি অভিসন্দর্ভ পর্যালোচনা করে, সে একই দুই সপ্তাহে দশ গুণ উৎপাদন পর্যালোচনা করতে পারে না—আর প্রলোভনটি হয় ধীরে নয়, কম যাচাই করার।
ব্যবহারিক উত্তর শনাক্তকরণ নয়। উত্তর হলো তত্ত্বাবধায়কেরা যুক্তিটি সামনাসামনি রক্ষা করতে বলবেন—একটি ধাপ কেন আগেরটি থেকে আসে, তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত মৌখিক পরীক্ষা সস্তা, দ্রুত, আর ঘরে উপস্থিত না থাকা কোনো মডেলের পক্ষে তা তৈরি করা সম্ভব নয়।
গণিতের বদলে লেখায় একই টানাপোড়েন আছে উপন্যাস বাদ দেওয়া সাহিত্য পুরস্কারে আর টার্নিটিন নিয়ে বিতর্কে।




