বুধবার কিশোর-কিশোরীরা চ্যাটজিপিটি কীভাবে ব্যবহার করে, তা নিয়ে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। একই দিনে অলাভজনক সংস্থা কমন সেন্স মিডিয়া প্রকাশ করেছে গবেষণা, যাতে বলা হয়েছে—চ্যাটজিপিটি ফর টিনস তরুণদের জন্য “অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি”, আর নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ১৮ বছরের কমবয়সীদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে রাখা উচিত।
খবরে দুটিকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন একটি অন্যটিকে খণ্ডন করছে। করছে না—কারণ দুটি আলাদা জিনিস মাপছে।
ওপেনএআই যা মেপেছে
প্রতিষ্ঠানটির সংখ্যাগুলো বলে কতটা আর কী কাজে। কিশোরদের গড় ব্যবহার দিনে ১৫ মিনিটের কম। বিরতির স্বয়ংক্রিয় মনে করিয়ে দেওয়া কাজ করে: প্রায় অর্ধেক কিশোর তার পরপরই ব্যবহার থামিয়েছে। আর টানা তিন ঘণ্টা বা তার বেশি ব্যবহার করা কিশোরদের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের বেশি প্রম্পট ছিল শেখার সঙ্গে সম্পর্কিত—পড়া বুঝে নেওয়া, স্কুলের কাজ।
এগুলো ব্যবহারের পরিসংখ্যান, আর আক্ষরিকভাবে দেখলে আশ্বস্ত করার মতো। আগস্টে চালু হওয়া চ্যাটজিপিটি ফর টিনসে আছে প্রেমঘটিত বা নির্ভরতা তৈরি করে এমন ভাষায় নিয়ন্ত্রণ, যৌনতাধর্মী ছবিতে বাধা, মডেল নিজেকে সচেতন বলে ইঙ্গিত দিতে না পারা, আর যুক্ত করা অভিভাবক অ্যাকাউন্টে আত্মক্ষতি বা খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা নিয়ে আলাপের সতর্কবার্তা।
কমন সেন্স মিডিয়া যা মেপেছে
গবেষণাটি ভিন্ন প্রশ্ন করেছে: আলাপ যখন বিপজ্জনক দিকে যায়, নিরাপত্তাজালটি কি সত্যিই ধরে?
কিশোর হিসেবে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যৌন ভূমিকা-অভিনয় এড়াতে চ্যাটজিপিটি ভালো। গুরুত্বপূর্ণ ফলটি অন্যটি। নতুন খোলা, অভিভাবকের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে আত্মহননের ভাবনা, আত্মক্ষতি বা খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা ছুঁয়ে এক ঘণ্টার আলাপেও অভিভাবকের কাছে গেছে শূন্যসংখ্যক সতর্কবার্তা। সতর্কবার্তা এসেছে কেবল পুরোনো সেসব অ্যাকাউন্টে, যেগুলোতে স্পর্শকাতর বিষয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহের আলাপ জমা ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংকটে থাকা কিশোরকে হেল্পলাইন বা পেশাদারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিতেও মডেলটি নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
ওপেনএআই কাজটির সঙ্গে দ্বিমত করেছে। প্রতিষ্ঠানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পদ্ধতি পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে—পরীক্ষার বড় অংশ শুরু ও শেষ হয়েছে অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার আগেই, আর ফলাফলগুলো “বাস্তবে চ্যাটজিপিটির কিশোর-সুরক্ষা কীভাবে কাজ করে” তা প্রতিফলিত করে না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা কঠোর স্বাধীন মূল্যায়নকে স্বাগত জানায়।
ব্যবহারের পরিসংখ্যান নিরাপত্তার প্রশ্নের উত্তর দেয় না কেন
পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কটি সরিয়ে রাখলেও একটি গঠনগত কথা থেকে যায়, আর পরীক্ষার সময় নিয়ে কে ঠিক তার ওপর তা নির্ভর করে না।
গড় কিশোরকে নিয়ে পরিসংখ্যান বিরল কিশোরটি সম্পর্কে কিছুই বলে না। দীর্ঘ সেশনের ৮০ শতাংশ প্রম্পট যদি স্কুলের কাজ নিয়ে হয়, তবে বাকি ভগ্নাংশেই ঝুঁকিটি থাকে—আর গড় দিয়ে তার বর্ণনা হয় না। নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে বিন্যাসের প্রান্তের জন্য; ব্যবহারের উপাত্ত বর্ণনা করে তার মাঝখানটা।
বর্ণিত নির্দিষ্ট ব্যর্থতাটি নিজের জায়গায় বোঝা দরকার। সতর্কবার্তা যদি কেবল সপ্তাহের পর সপ্তাহের ইতিহাস জমা থাকা অ্যাকাউন্টেই যায়, তবে মনে হচ্ছে ট্রিগারটি নির্ভর করছে সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি ধরনের ওপর—এখন কী বলা হচ্ছে তার ওপর নয়। বেশির ভাগ পণ্য-সংকেতের জন্য এটি যুক্তিসংগত নকশা, কারণ এতে মিথ্যা সতর্কতা কমে। কিন্তু সংকটের সংকেতের জন্য এটি উল্টো, কারণ বিদ্যমান অ্যাকাউন্টটি কেউ যেন না পড়ে—এমন চাইলে কিশোর ঠিক নতুন একটি অ্যাকাউন্টই খোলে।
এটি একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা নিয়ে করা দাবি, প্রমাণিত ত্রুটি নয়, আর ওপেনএআইয়ের আপত্তি সঠিকও হতে পারে। তবে দাবিটি সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য, আর মীমাংসার উপায় হলো নিয়ন্ত্রণগুলো পুরোপুরি সক্রিয় থাকা অবস্থায় কারও আবার পরীক্ষাটি চালানো।
বাংলাদেশের অভিভাবকের জন্য এর মূল্য কী
এই গোটা বিতর্ক এমন একটি বন্দোবস্ত ধরে নেয়, যা এখানে প্রায় নেই-ই: কিশোরের নিজের অ্যাকাউন্ট, তা অভিভাবকের নিজের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত, আর অভিভাবক ইংরেজিতে আসা বিজ্ঞপ্তি পেয়ে তা পড়ছেন।
বাংলাদেশে কিশোরের ব্যবহার করা ফোনটি বরং অভিভাবক বা বড় ভাইবোনের নামে নিবন্ধিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, প্রায়ই তা ভাগাভাগি করা, আর গোটা পরিবারে একটিই গুগল অ্যাকাউন্ট। সুবিধাটি যে অর্থে “যুক্ত অ্যাকাউন্ট” বোঝায়, তা প্রায়ই থাকে না—অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোয় যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তর্ক চলছে, এখানে সেটি বন্ধ নয়; সেটি কখনো চালুই হয়নি।
তাতে পড়ে থাকে সেই জিনিসটিই, যা সব সময় কাজ করে এসেছে। যে অভিভাবক জিজ্ঞেস করেন তাঁর সন্তান এসব সরঞ্জাম কী কাজে ব্যবহার করে, আর উত্তরটি শোনেন, তাঁর সুরক্ষা যেকোনো বিজ্ঞপ্তির সেটিংয়ের চেয়ে ভালো। এটি সুইচ টেপার চেয়ে ধীর ও কম তৃপ্তিদায়ক, আর এটি নীরবে ব্যর্থ হয় না।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ কঠিন সময় পার করলে বাংলাদেশের আবেগিক সহায়তা হেল্পলাইন কান পেতে রই-এ যোগাযোগ করা যায় ৯৬১২ ১১৯৯১১ নম্বরে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯।
নকশাই ক্ষতি করে কি না, সেই আইনি তর্ক আছে মামলাগুলো নিয়ে লেখাটিতে। তরুণদের এসব সরঞ্জামে অবিশ্বাস করতে শেখানো নিয়ে দেখুন সেই স্কুলটি। অন্য প্ল্যাটফর্মের একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ আছে মেটার কিশোর সীমায় আর হোয়াটসঅ্যাপের অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে।




