প্রযুক্তি

অস্ট্রেলিয়ায় ৮ থেকে ১৭ বছরের দশজনের নয়জনই অনলাইনে গেম খেলে। নিয়ন্ত্রক বলছে, চারটি বড় প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষায় "বড় ফাঁক"

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক বলছে, স্টিম, রবলক্স, ফোর্টনাইট ও মাইনক্রাফটে শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা অসংগত; শিশুদের অধিকার আছে শিকারি বা চরমপন্থী কনটেন্টের মুখে না পড়েই খেলার।

অস্ট্রেলিয়ায় ৮ থেকে ১৭ বছরের দশজনের নয়জনই অনলাইনে গেম খেলে। নিয়ন্ত্রক বলছে, চারটি বড় প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষায় "বড় ফাঁক"

জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলো অনলাইনে শিশুদের কীভাবে সুরক্ষা দেয়, তাতে "বড় ফাঁক" পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক।

যা পাওয়া গেছে

নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্টিম, রবলক্স, ফোর্টনাইট ও মাইনক্রাফট শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা প্রয়োগে অসংগত পথ নিয়েছে—এমন সময়ে, যখন গবেষণা বলছে অস্ট্রেলিয়ায় ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি দশজনের নয়জনই অনলাইনে গেম খেলেছে।

ইসেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, "অস্ট্রেলীয় শিশুদের অধিকার আছে অনলাইনে খেলার—শিকারি, যৌন নিপীড়নকারী, সহিংস চরমপন্থী কনটেন্ট বা অন্য ক্ষতিকর উপকরণের মুখে না পড়েই।"

রবলক্স জানিয়েছে, তারা "আমাদের অস্ট্রেলীয় সম্প্রদায়ের, বিশেষত সবচেয়ে কমবয়সী ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়"। অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

ওই তালিকার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মই বাংলাদেশে বিপুলভাবে খেলা হয়, আর কোনোটিই কখনো বাংলাদেশি কোনো নিয়ন্ত্রকের মূল্যায়নে পড়েনি। এটিই বাস্তবতা, আর এর থেকে কী আসে সে বিষয়ে স্পষ্ট থাকা দরকার।

অংশ নিক বা না নিক, বাংলাদেশ অস্ট্রেলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে সুবিধা পায়—কারণ প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা-বদল সাধারণত দেশভিত্তিক নয়, বিশ্বজুড়েই প্রয়োগ হয়। ইসেফটির কোনো সিদ্ধান্ত রবলক্সকে কোনো ডিফল্ট সেটিং বদলাতে বাধ্য করলে তা মিরপুরের শিশুর জন্যও বদলায়। এটি সত্যি, আর এটিই পুরো সমস্যাও: বাংলাদেশি শিশুরা যে সুরক্ষা পায় তা অন্য কারও আইন প্রয়োগের পার্শ্বফল—আর তা থেমে যায় ঠিক সেখানেই, যেখানে ওই প্রয়োগের অগ্রাধিকার থামে।

এ থেকে সরাসরি দুটি ফাঁক। প্রথমটি ভাষা। কনটেন্ট মডারেশন, শিকারি-শনাক্তকরণ আর অভিযোগের প্রবাহ প্রথমে বানানো হয় ইংরেজি ও গুটিকয় বড় ভাষার জন্য। বাংলায় কাজ করা কোনো শিকারি এমন পরিসরে আছেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল, আর অভিযোগটি পর্যালোচনা করতে পারেন এমন কেউ—যিনি কথোপকথনটিই পড়তে পারেন না।

দ্বিতীয়টি বয়স যাচাই। এসব ব্যবস্থার প্রতিটি সুরক্ষা নির্ভর করে প্ল্যাটফর্মটি জানে ব্যবহারকারী শিশু—এর ওপর। জন্মতারিখ জানতে চাওয়া বয়স-ফটক পেরিয়ে যায় উল্টো গুনতে পারা প্রতিটি শিশুই; আর শক্তিশালী বিকল্পগুলো নির্ভর করে পরিচয়পত্রের ওপর, বাংলাদেশের বেশির ভাগ শিশুর যা নেই।

এ দেশের অভিভাবকদের জন্য কাজের পরামর্শটি নীতিগত তর্কের চেয়ে সরু ও একঘেয়ে। এই প্রতিটি প্ল্যাটফর্মেই যে সেটিংগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—কে আপনার সন্তানকে বার্তা পাঠাতে পারবে আর কে তার সেশনে যোগ দিতে পারবে; দুটিরই ডিফল্ট বেশির ভাগ অভিভাবকের ধারণার চেয়ে খোলা, আর দুটিই কয়েক মিনিটে বদলানো যায়। বাংলাদেশি কোনো নিয়ন্ত্রক এই দশকে যা দিতে পারবেন বলে মনে হয়, এটি তার চেয়ে বড় তাৎক্ষণিক সুরক্ষা।

বার্তা আদান-প্রদানে সমান্তরাল পদক্ষেপটি আছে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন অভিভাবক-নিয়ন্ত্রণে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Rakin M

টেক বিডির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিভাগ লেখেন রাকিন এম — তথ্য ফাঁস, প্রতারণা, নজরদারি আর অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা। দুর্বলতাটির নাম কী, তার চেয়ে পাঠক আজ সন্ধ্যায় কোন পদক্ষেপটি নিতে পারেন—তাতেই তাঁর আগ্রহ বেশি, আর লেখাতেও তা বলে দেন।