প্রযুক্তি

হাতুড়ি নিয়ে ঢুকে মুখোশধারীরা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হুমকি দিল, যতক্ষণ না তিনি ক্রিপ্টো সরিয়ে দিলেন

এক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয় আর তাঁর পূর্ণ গর্ভবতী স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়, যতক্ষণ না তিনি কয়েক লাখ পাউন্ডের ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে দেন। পরিচয় গোপন রাখতে চাওয়া দম্পতি একে বলেছেন ভয়াবহ।

হাতুড়ি নিয়ে ঢুকে মুখোশধারীরা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হুমকি দিল, যতক্ষণ না তিনি ক্রিপ্টো সরিয়ে দিলেন

সতর্কতা: এ প্রতিবেদনে বিচলিত করার মতো বর্ণনা আছে।

বাড়িতে ঢুকে মুখোশধারীরা এক ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটায় এবং কয়েক লাখ পাউন্ডের ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তর না করলে তাঁর পূর্ণ গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়।

যা ঘটেছিল

পরিচয় গোপন রাখতে চাওয়া দম্পতি বিবিসিকে হামলাটিকে "ভয়াবহ" বলে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁরা অনাগত সন্তানের জীবন নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। লোকটি ক্রিপ্টো সঞ্চয় সরিয়ে দেওয়ার পর হামলাকারীরা অপেক্ষমাণ চালকের গাড়িতে চলে যায়।

নিরাপত্তা-সাহিত্যে এই ধরনের অপরাধের একটি নাম আছে: রেঞ্চ অ্যাটাক—পুরোনো এক কার্টুন থেকে, যাতে দেখানো হয়েছিল কেউ যদি আপনাকে পিটিয়ে নিজেই তালা খোলাতে রাজি থাকে, তবে যত এনক্রিপশনই থাকুক কাজে আসে না।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন বৈধ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার তা বলেছে, আর আইন বদলায়নি। যেকোনো বাংলাদেশি পাঠকের জন্য এটিই প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—আর ঠিক এ কারণেই এ খবরটি এড়িয়ে না গিয়ে জানানো দরকার।

অবৈধতা এটি থামায়নি। পিয়ার-টু-পিয়ার লেনদেন, কৌশলে ব্যবহার করা বিদেশি এক্সচেঞ্জ আর টেলিগ্রাম গ্রুপের মধ্য দিয়ে চলছে বড়সড়, একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত এক বাংলাদেশি ক্রিপ্টো বাজার। বিশেষত তরুণদের মধ্যে অংশগ্রহণ ব্যাপক, আর তা বাড়ছে।

অবৈধতার নিরাপত্তাগত পরিণতিটিই মূল কথা। ক্রিপ্টো ছিনতাইয়ের শিকার বাংলাদেশি পুলিশের কাছে যেতে পারেন না—অবৈধ সম্পদ থাকার কথা না জানিয়ে। বিমা নেই, অ্যাকাউন্ট জব্দ করার মতো এক্সচেঞ্জ নেই, আবেদন করার মতো নিয়ন্ত্রক নেই, দেওয়ানি প্রতিকারও নেই। ব্রিটেনে এই অপরাধকে আকর্ষণীয় করে তোলা কাঠামোটি—অপরিবর্তনীয় হস্তান্তর, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ না থাকা—এখানেও হুবহু একই; শুধু ভুক্তভোগীর প্রতিকারটুকু পুরোপুরি সরানো।

কারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তা নিয়ে সোজাসুজি বলা দরকার। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষেরা দক্ষ লেনদেনকারী নন; তাঁরা তরুণ, যাঁরা মুনাফার কথা শুনেছেন, নিজেদের চাবি ফোনে রাখেন আর বন্ধুদের বলে ফেলেছেন। আক্রমণের পথটি প্রায় কখনোই ক্রিপ্টোগ্রাফিক নয়। পথটি হলো—কেউ জানে যে আপনার কাছে এটি আছে।

তাই আইন যা-ই হোক, যাঁরা রাখছেন তাঁদের জন্য কাজের পরামর্শ: কী আছে তা নিয়ে আলোচনা করবেন না, অনলাইনে বা বাইরে; লাভের কথা পোস্ট করবেন না; বুঝে রাখুন যে ফোনের ওয়ালেট মানে পকেটে রাখা এমন একটি ওয়ালেট, আপনাকে অনুসরণ করা সবাই যার কথা জানে। আর মেনে নিন, বাংলাদেশে আপনাকে রক্ষা করছে এনক্রিপশন নয়। রক্ষা করছে এই যে, এখনো কেউ ঠিক করেনি আপনার কাছে যাওয়াটা পোষাবে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Rakin M

টেক বিডির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিভাগ লেখেন রাকিন এম — তথ্য ফাঁস, প্রতারণা, নজরদারি আর অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা। দুর্বলতাটির নাম কী, তার চেয়ে পাঠক আজ সন্ধ্যায় কোন পদক্ষেপটি নিতে পারেন—তাতেই তাঁর আগ্রহ বেশি, আর লেখাতেও তা বলে দেন।