প্রযুক্তি

প্যারিশ কাউন্সিলের আপত্তি সত্ত্বেও অনুমোদন পেল এম২৫-এর পাশে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার, আর যুক্তিটিই আকর্ষণীয়

আইভারে ১৭টি শিল্প ও গুদাম ইউনিটের জায়গা নেবে স্থাপনাটি। প্যারিশ কাউন্সিল বাতাসের মান ও যানজট নিয়ে সতর্ক করেছিল; কর্মকর্তারা বলেছেন, ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন ও কর্মসংস্থান তার চেয়ে ভারী।

প্যারিশ কাউন্সিলের আপত্তি সত্ত্বেও অনুমোদন পেল এম২৫-এর পাশে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার, আর যুক্তিটিই আকর্ষণীয়

পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও এম২৫ মহাসড়কের পাশে বড় একটি ডেটা সেন্টার গড়ার অনুমোদন পেয়েছে অ্যামাজন।

সিদ্ধান্তটি

বাকিংহামশায়ারের আইভারে রিজওয়ে ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের ১৭টি শিল্প ও গুদাম ইউনিটের জায়গা নেবে স্থাপনাটি।

আইভারস প্যারিশ কাউন্সিল বলেছিল, ভবনটি বাতাসের মান ও যানজটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সোমবার পরিকল্পনাটি অনুমোদন করে বাকিংহামশায়ার কাউন্সিল।

কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আসেন যে ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন, কর্মসংস্থানের সুফল আর যানবাহন চলাচল কমার প্রত্যাশা অন্য বিবেচনার চেয়ে ভারী।

বাংলাদেশে এর মানে কী

তৃতীয় কারণটিই লক্ষ করার মতো, কারণ সেটিই সৎ। সতেরোটি গুদামের জায়গা নেওয়া ডেটা সেন্টার যা প্রতিস্থাপন করছে তার চেয়ে অনেক কম ট্রাক-যাতায়াত তৈরি করে। যানজটের প্রশ্নে আপত্তিটি স্রেফ ভুল ছিল—আর পরিকল্পনা কর্মকর্তারা তা বলেও দিয়েছেন।

প্রথম কারণটি যেখানেই এ যুক্তি ব্যবহার হয় সেখানেই খতিয়ে দেখা উচিত, এ দেশেও। ওই বাক্যে "ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন" কথাটি অনেক ভার বইছে। কার প্রয়োজন, কিসের জন্য, আর এই জায়গাটি নাকচ করলে কি তা ঠেকত—নাকি কেবল সরে যেত? এসব প্রশ্ন খুব কমই করা হয়, আর উত্তর সাধারণত এই যে সক্ষমতাটি গড়ে ওঠে এমন কোথাও, যেখানে আপত্তি দুর্বল।

বাংলাদেশ একই আলোচনার শুরুতে আছে। কালিয়াকৈরে আর ব্যাংক-টেলিকমের উদ্যোগে ডেটা সেন্টার গড়ে উঠছে, আর বিক্রির কথাগুলোও হুবহু এক: কর্মসংস্থান, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব, জাতীয় প্রয়োজন। কথাগুলোয় সাধারণত যেটি বাদ পড়ে, তা হলো জেনারেটরের ঘর। এ দেশে এ ধরনের কেন্দ্রকে নিশ্চিত বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, আর তা নিশ্চিত করা এখনো মানে পাশে ডিজেল তৈরি রাখা—অর্থাৎ যা সই হয়, তার একটি অংশ ব্যারেলের আমদানি-দামের ওপর দীর্ঘ এক বাজি।

কর্মসংস্থানের দাবিটি এখানে বিশেষভাবে যাচাইয়ের দাবি রাখে। ডেটা সেন্টার পুঁজিনিবিড় আর কর্মী-হালকা; গড়ে ওঠার পর এ ধরনের একটি কেন্দ্রে সাধারণত কাজ করেন কয়েক ডজন মানুষ, কয়েক শ নয়। এটি সেগুলো না গড়ার যুক্তি নয়। এটি মূলত কর্মসংস্থানের যুক্তিতে সেগুলোকে বৈধতা না দেওয়ার যুক্তি—বাংলাদেশে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে বিক্রি করা হয়।

আমদানি করার মতো জিনিসটি ফল নয়, প্রক্রিয়া। একটি প্যারিশ কাউন্সিল আপত্তি জানাতে পেরেছে, আপত্তিটি নথিভুক্ত হয়েছে, কর্মকর্তারা প্রতিটি পয়েন্টের জবাবসহ যুক্তি প্রকাশ করেছেন, আর সিদ্ধান্তটি পড়া ও তা নিয়ে তর্ক করা যায়। শিল্প স্থাপনের জায়গা নিয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা-সিদ্ধান্ত এই মানে খুব কমই নথিভুক্ত হয়—আর প্রকাশিত যুক্তি না থাকাই প্রতিটি সিদ্ধান্তকে খেয়ালখুশির মতো দেখায়, তা আসলে হোক বা না হোক।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tanmay Das

টেক বিডিতে বিজ্ঞান, মহাকাশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে লেখেন তন্ময় দাস — গবেষণার ফল, মহাকাশ অভিযান আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের খবর। কোনো গবেষণা আসলে কী মেপেছে, তিনি তা-ই পড়েন; আর লেখেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য নয়, ঢাকার পাঠকের জন্য তার মানে কী—তা নিয়ে।