ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপে প্রায় তিন শ মানুষ খালি প্লাস্টিকের বোতল আর জেরিক্যান হাতে ঢুকে পড়েন ডেটা সেন্টারের একটি চত্বরে, মুখে একটিই শব্দ: ‘পানি!’
তাঁরা এলাকার বাসিন্দা, আর বলছিলেন তাঁদের কল শুকিয়ে গেছে, অথচ ভেতরের যন্ত্রগুলোর অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকানোর মতো পানি আছে।
বাসিন্দারা যা বলছেন
‘গত তিন মাসে আমাদের কল দিয়ে এক ফোঁটা পানিও আসেনি,’ বিবিসিকে বলেছেন বিক্ষোভকারীদের একজন দেবি সুসান্তি। ‘ডেটা সেন্টার আসার আগপর্যন্ত আমাদের পানির সরবরাহ নির্ভরযোগ্য ছিল।’
তাঁর গ্রাম বাকাউ সেরিপ এখন নির্ভর করছে ট্যাংকার ট্রাকে আসা পানির ওপর, যাকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘নোংরা, ঘোলা আর দুর্গন্ধযুক্ত’ বলে।
কর্তৃপক্ষ যা বলছে
বাটামের পানি সংস্থা বলেছে, তারা সরবরাহ উন্নত করতে কাজ করছে—তবে বিঘ্নটি ডেটা সেন্টারের চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা বলেনি।
দ্বীপটির বাণিজ্য ও শিল্প তদারকির সংস্থা বিপি বাটাম দায় দিয়েছে দীর্ঘ খরাকে, আর বাসিন্দাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে যে ঘরের জন্য বরাদ্দ পানি সার্ভারের দিকে সরানো হচ্ছে।
এটিই প্রথম বিক্ষোভ নয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ বাটামে ডেটা সেন্টার খোলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলেছে, দ্বীপের জলাধার থেকে মিঠা পানি না নিয়ে তাদের নিজেদের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বানাতে হবে—যা নিজের মতো করেই এই প্রশ্নের উত্তর যে ভাগ করার মতো যথেষ্ট পানি আদৌ ছিল কি না।
যে সংখ্যাটি কারও কাছে নেই
এই খবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি একটি অনুপস্থিতি। বাটামের ডেটা সেন্টারগুলো কত পানি বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তা জানা নেই।
‘ইন্দোনেশিয়ায় ডেটা সেন্টারের পানি ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য তথ্য দুর্লভ, আংশিকভাবে কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো একে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে দেখে,’ বলেছেন নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক আগুস হাসান। তিনি বলছেন, এগুলো গড়তে হবে ‘যৌক্তিকভাবে, স্বচ্ছভাবে ও দায়িত্বশীলভাবে’, সংখ্যা প্রকাশ করে—আর সতর্ক করছেন, ‘যাঁদের অন্ধকারে রেখে কল শুকিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা ঠেলে ফিরিয়ে দেবেন, আর সেটিই ঠিক’।
যা জানা আছে, তা অন্য জায়গা থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা বলছে, একটি সাধারণ ডেটা সেন্টার দিনে প্রায় তিন লাখ গ্যালন পানি ব্যবহার করে—মোটামুটি এক হাজার মার্কিন পরিবারের সমান। মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, বড় একটি ৫০ মেগাওয়াটের স্থাপনা ২,২০০ পরিবারের সমান পানি আর ২২ হাজার বাড়ির সমান বিদ্যুৎ নিতে পারে।
বাটামের নিজস্ব কোনো মিঠা পানির উৎস নেই, আর সেখানে নিয়মিতই পানির সংকট হয়—এ বছর যা আরও খারাপ, সম্ভবত তীব্র এল নিনোর কারণে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশ একই আলোচনার শুরুর দিকে আছে, আর এ কারণেই বাটামকে বিদেশের খবর হিসেবে সরিয়ে না রেখে মন দিয়ে পড়া দরকার।
নির্দিষ্ট শিক্ষাটি ‘ডেটা সেন্টার খারাপ’ নয়। শিক্ষাটি হলো, বাটাম আগে স্থাপনার অনুমতি দিয়েছে আর পানির প্রশ্ন করেছে পরে—আর ডিস্যালিনেশনের শর্তটি এসেছে মানুষ দুবার রাস্তায় নামার পর। পরিকল্পনার পর্যায়ে এই ক্রম উল্টে দিতে কিছুই খরচ হয় না, আর পরে তা প্রায় অসম্ভব, কারণ ততক্ষণে ভবন দাঁড়িয়ে গেছে আর চাকরিগুলোও সত্যি।
তথ্য প্রকাশের কথাটিই কাজের। এখানে ডেটা সেন্টারের প্রস্তাব এলে—আর জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকায় আসবেই—অনুমোদনের আগে অধ্যাপক হাসানের বলা প্রশ্নটিই করতে হবে: দিনে কত লিটার, কোন শীতলীকরণ নকশায়, কোথা থেকে নেওয়া, আর তা প্রকাশিত কি না। অনুমোদনের সময় যে নির্মাতা এর উত্তর দেবেন না, পরে তিনি দেবেন না।
একই তর্কের বিদ্যুতের দিকটি আছে স্কটল্যান্ডের গ্রিডের হিসাবে।
পানির হিসাবটি নিজে করে দেখা
সংখ্যাগুলো বিমূর্ত শোনায়, তাই স্থানীয় মাপে বসানো যাক।
দিনে তিন লাখ গ্যালন মানে প্রায় ১১ লাখ লিটার। ঢাকা ওয়াসার হিসাবে শহরে মাথাপিছু দৈনিক পানির চাহিদা মোটামুটি ১৫০ লিটার ধরা হয়। অর্থাৎ একটি সাধারণ মাপের ডেটা সেন্টার দিনে প্রায় সাত হাজার মানুষের সমান পানি নেয়। বড় একটি ৫০ মেগাওয়াটের স্থাপনা নিলে সংখ্যাটি কয়েক গুণ বাড়ে।
এই হিসাবটি কোনো প্রকল্পের বিপক্ষে যুক্তি নয়; এটি অনুমোদনের আগে টেবিলে থাকা উচিত এমন একটি সংখ্যা। বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে আর শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার বহু এলাকায় সরবরাহ এমনিতেই অনিয়মিত—এই প্রেক্ষাপটে ‘কত লিটার, কোথা থেকে’ প্রশ্নটি পরিবেশবাদী আপত্তি নয়, বরং সাধারণ পরিকল্পনা।
সূত্র: বাটাম ও সিঙ্গাপুর থেকে বিবিসির প্রতিবেদন।




