এআই অবকাঠামো গড়ার বৈশ্বিক দৌড়ের একটি সম্মুখভাগ হয়ে উঠেছে স্কটল্যান্ড। সেখানে অন্তত ২৩টি বিশাল ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা আছে, যার কয়েকটি হবে বিশ্বের বৃহত্তমগুলোর কাতারে। সমর্থকেরা বলছেন শত শত কোটি পাউন্ডের বিনিয়োগ আর হাজারো চাকরির কথা। বিরোধীরা দেখাচ্ছেন আকার, বিদ্যুৎ, শীতল রাখতে ব্যবহৃত পানি, আর বিরতিহীন চলা হাজার হাজার সার্ভার ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার শব্দ।
স্কটিশ গ্রিনস ও প্রচারকারী সংগঠনগুলো বড় ডেটা সেন্টারের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে—তাদের যুক্তি, এগুলো জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নষ্ট করতে পারে আর নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহে চাপ ফেলতে পারে। স্কটিশ সরকার তা আরোপ করতে রাজি হয়নি।
একর নয়, মেগাওয়াটে পড়ুন
ডেটা সেন্টারের খবরে সাধারণত জমির আয়তন টানা হয়। স্কটল্যান্ডের প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে এসেছে সেই সংখ্যাটি, যা আসলে সব ঠিক করে দেয়।
আজ স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ধরা হয় এয়ারড্রিতে ডেটাভিটার স্থাপনাকে, যার ক্ষমতা ১২ মেগাওয়াট। ডামফ্রিজ ও গ্যালোওয়ের চ্যাপেলক্রসে প্রস্তাবিতটি হবে ১০০০ মেগাওয়াটের। ফাইফের অখটারটুলে পরিকল্পিত ৬০০ মেগাওয়াটের স্থাপনাটি নেবে ৬০ হেক্টর—প্রায় ৮৪টি ফুটবল মাঠ, যা পাশের গ্রামটির সমান।
বারো থেকে এক হাজার—এটি বৃদ্ধি নয়। এটি ভিন্ন শ্রেণির একটি বস্তু। ১০০০ মেগাওয়াটের নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনের সমান, যা টানছে একজনই গ্রাহক, এক জায়গায়, দিন-রাত। এই আকারের ভবনকে সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় এমন একজন বিদ্যুৎ-গ্রাহক হিসেবে, যে ঘটনাচক্রে হিসাবও করে—আর এরপরের পরিকল্পনা-বিতর্কটি আসলে বিদ্যুৎ কে পাবে তা নিয়েই।
স্কটল্যান্ড কেন
আকর্ষণটি রহস্যময় নয়: শীতল আবহাওয়া শীতলীকরণের খরচ কমায়, নবায়নযোগ্য উৎপাদন যথেষ্ট, আর জমি আছে। সুবিধাগুলো সত্যি, আবার আপত্তির উৎসও সেগুলোই—বিদ্যমান চাহিদা কার্বনমুক্ত করতে বানানো নবায়নযোগ্য গ্রিডে এই আকারের নতুন চাহিদার জায়গা আপনাআপনি থাকে না, আর ডেটা সেন্টারের নেওয়া প্রতিটি মেগাওয়াট এমন একটি মেগাওয়াট, যা অন্য কোথাও জীবাশ্ম বিদ্যুৎ সরাচ্ছে না।
এক বাক্যে এটিই স্থগিতাদেশের যুক্তি, আর তা ডেটা সেন্টার অপছন্দ করার ওপর নির্ভর করে না।
একই হিসাব, এখানে বসিয়ে
বাংলাদেশ এই শিল্প চায়। কালিয়াকৈরে জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা আছে, হাই-টেক পার্ক বানানো হয়েছে আংশিকভাবে এটি টানতেই, আর “এআই কম্পিউট রাখা” একাধিক কৌশলপত্রে আছে।
তাহলে একই এককে হিসাবটি করা যাক। বাংলাদেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২৬ হাজার মেগাওয়াট, আর দেশটি বছরের পর বছর উদ্বৃত্ত নয়, বরং সর্বোচ্চ চাহিদার মৌসুমে ঘাটতি সামলে এসেছে। চ্যাপেলক্রসের মাপের একটিমাত্র স্থাপনা হবে জাতীয় সক্ষমতার প্রায় ৪ শতাংশ, যা একজন গ্রাহক টানবেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।
এই সংখ্যাটি এমন একটি প্রশ্ন মিটিয়ে দেয়, যা সাধারণত খোলা রাখা হয়। হাইপারস্কেল এআই প্রশিক্ষণের সক্ষমতা রাখার অবস্থানে বাংলাদেশ নেই, আর নীতির উৎসাহ যত বেশিই হোক, উৎপাদনের হিসাব বদলায় না। বাস্তবে যা রাখা সম্ভব তা হলো ছোট স্তরটি—কয়েক দশ মেগাওয়াটের স্থাপনা, যা দেশের ব্যাংকিং, সরকারি ও টেলিকম কাজের চাপ সামলায়, যেখানে মূল্যটি বিপুল হিসাবক্ষমতা নয়, বরং তথ্য দেশের ভেতরে থাকা।
কোন স্তরের কথা হচ্ছে তা স্পষ্ট করা জরুরি, কারণ দুটি স্তর আলাদা বিনিয়োগকারী টানে আর সম্পূর্ণ আলাদা অবকাঠামো ব্যয়কে যৌক্তিক করে।
চাকরির সংখ্যাটিও একই সন্দেহ দাবি করে
“হাজারো চাকরি” চেনা প্রতিশ্রুতি—স্কটল্যান্ডে এবং এখানেও। নির্মাণ আর পরিচালনাকে আলাদা করা দরকার। এগুলোর একটি বানাতে কয়েক বছরের জন্য বড় জনবল লাগে। চালাতে লাগে না: হাইপারস্কেল স্থাপনা ইচ্ছে করেই এমনভাবে নকশা করা হয়, যাতে প্রতি মেগাওয়াটে খুব কম মানুষ লাগে—কারণ জনবল খরচ, আর স্বয়ংক্রিয়তাই পণ্য।
ডেটা সেন্টার থেকে স্থায়ী কর্মসংস্থান বেশির ভাগই আসে তার ওপরে যা গড়ে ওঠে তা থেকে, ভেতরে যা চলে তা থেকে নয়—যা সক্ষমতাটি কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে ভাবার যুক্তি, প্রত্যাখ্যান করার নয়।
সম্পর্কিত: এম২৫-এর পাশে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার, টেক্সাসের দলিল নিয়ে লড়াই আর সার্ভারের তাপে উষ্ণ হওয়া ফিনিশ শহর।




