টেক্সাসের টেইলরে—অস্টিন থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে ১৮ হাজার মানুষের ছোট শহর—অবসরপ্রাপ্ত এক লার্নিং সেন্টার পরিচালক লড়ছেন এমন একটি জমিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ঠেকাতে, যেটিকে তাঁর পাড়ার জন্য পার্ক বানানোর কথা ছিল।
হারিয়ে যাওয়া বাক্যটি
বিরোধের কেন্দ্রে ১৯৯৯ সালের একটি দলিলের ১৪টি শব্দ, যেগুলো জমিটির ভবিষ্যৎ পার্ক হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য লেখা হয়েছিল—কিন্তু হাতবদলের সময় পরের দলিলে সেগুলো ওঠেনি। সেগুলো ছাড়া জমিটি এখন সম্পূর্ণ অন্য কিছু হওয়ার পথে। ৫৮ বছর বয়সী পামেলা গ্রিফিন পরিকল্পনাটির কথা জানেন দরজায় সাঁটা এক লিফলেট থেকে: ৪৫ হাজার বর্গফুটের তিনটি ডেটা সেন্টার আসছে তাঁর বাড়ির পেছনে।
তাঁর অভিযোগ এখন বিবেচনা করছেন টেক্সাসের আপিল আদালত; আর অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন তদন্ত শুরু করেছেন—জমির ব্যবহার নিয়ে মূল শর্তটি আইনসম্মতভাবে বদলানো বা বাদ দেওয়া হয়েছিল কি না, আর আজও তার আইনি জোর আছে কি না।
জমিটি তাঁর কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইতিহাসটিকে আইনি প্রশ্ন থেকে আলাদা করা যায় না। গ্রিফিনের দাদি টেইলরে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন, তুলা তুলতেন; ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্ট বাসস্থানে বৈষম্য নিষিদ্ধ করার পর তিনি শহরের দক্ষিণ পাশে আট সন্তানের প্রত্যেকের জন্য জমি কেনেন। গ্রিফিন এখন থাকেন তাঁর বাবার তোলা বাড়িতেই।
সত্তরের দশকে শিশু বয়সে তাঁদের কাছের ফ্যানি রবিনসন পার্কে যেতে দেওয়া হতো না—একসময়ের শহরের ভাগাড়, যা ১৯৫৫ সালে কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দাদের জন্য শহরের প্রথম পার্ক হয়—কারণ কয়েকজনের গায়ে র্যাশ উঠেছিল, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বদলে তাঁদের অনানুষ্ঠানিক খেলার মাঠ হয়ে ওঠে বাবার কেনা একটি খালি জমি। সেটির লাগোয়া ছিল ঊনবিংশ শতকের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী হাওয়ার্ড ব্ল্যান্ড সিনিয়রের উত্তরসূরিদের ৮৭ একর জমি—যাঁদের পরিবার গ্রিফিনের বাবাকে বলেছিল, একদিন তাঁরা জমিটিকে সত্যিকারের পার্ক বানাতে চান।
"আমার বাবা এই জমি আমাদের দিয়ে গেছেন, আর বলে গেছেন এটি পাহারা দিতে," বলেন গ্রিফিন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে তিনি টেইলরে ফিরে আসেন।
এর পেছনের ছকটি
প্রথমবার ডেটা সেন্টারের মুখোমুখি হওয়া অন্য শহরগুলোর মতোই এখানকার বাসিন্দারাও উদ্বিগ্ন শব্দ, পানির ব্যবহার ও বিদ্যুতের ঘাটতি নিয়ে। এআই অবকাঠামো নির্মাণের পেছনে পেছনে এই তিন অভিযোগ এখন সর্বত্রই যাচ্ছে—আর সাধারণত সামনে আসে জমি বরাদ্দ হয়ে যাওয়ার পর।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশ এই পথের শুরুতে। ঢাকার আশপাশে ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা হচ্ছে, আর ওই তিন চাপ এখানে আরও জোরে লাগে—শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা এমনিতেই বাঁধা, আর এ জলবায়ুতে শীতলীকরণ মানে পানি।
নেওয়ার মতো শিক্ষাটি প্রতিবাদ নিয়ে নয়, কাগজপত্র নিয়ে। বাংলাদেশে গ্রিফিনের ওই ১৪ শব্দের সমতুল্য হলো ভূমির রেকর্ড: নামজারির এন্ট্রি, খতিয়ান সংশোধন, হস্তান্তরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া শর্ত—যা পরের দলিলে নীরবে টেকে না। প্রস্তাবিত কোনো প্রকল্পের কাছাকাছি যাঁর জমি, তিনি নোটিশ আসার পরে নয়, এখনই বর্তমান রেকর্ড তুলে দেখে নিন—আপনি যে শর্তটিকে সুরক্ষা ভাবছেন, সেটি আদৌ চালু দলিলে লেখা আছে কি না।
বাকি অর্ধেক তথ্য প্রকাশ। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই কত মেগাওয়াট টানবে আর কত পানি লাগবে—সংখ্যাগুলো প্রকাশ্য হওয়া উচিত, কারণ এই খরচ পাড়াকেই দিতে হয় আর সিদ্ধান্ত হয়ে যায় কারও সঙ্গে আলোচনার অনেক আগে। এই নির্মাণযজ্ঞের আকার আমরা দেখেছি ভেতরের মঙ্গোলিয়ার সমতলে এআইয়ের দৌড় লেখায়; টেইলর সেই একই গল্প, পাড়ার রাস্তা থেকে দেখা।




