প্রযুক্তি

হবস, হুইসলস ও ফেজ এইটের মালিক সাইবার হামলার তদন্ত করছে, আর এফবিআইয়ে হানা দেওয়া দলটির আলাদা দাবি যাচাই করছে এইচঅ্যান্ডএম

রোববার টিএফজি লন্ডন ফেজ এইট, হবস ও হুইসলসে প্রভাব ফেলা একটি ঘটনা শনাক্ত করে। আলাদাভাবে এইচঅ্যান্ডএম যাচাই করছে শাইনিহান্টার্সের দাবি।

হবস, হুইসলস ও ফেজ এইটের মালিক সাইবার হামলার তদন্ত করছে, আর এফবিআইয়ে হানা দেওয়া দলটির আলাদা দাবি যাচাই করছে এইচঅ্যান্ডএম

ফ্যাশন ব্র্যান্ড হবস, হুইসলস ও ফেজ এইটের মালিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার তদন্ত করছে। আলাদাভাবে এইচঅ্যান্ডএম খতিয়ে দেখছে একটি সুপরিচিত হ্যাকার দলের হামলার দাবি।

টিএফজি লন্ডন যা বলেছে

খুচরা বাণিজ্য গোষ্ঠী দ্য ফশিনি গ্রুপের যুক্তরাজ্য শাখা টিএফজি লন্ডন বলছে, রোববার তারা এমন একটি ঘটনা শনাক্ত করেছে, যা কিছু আইটি ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে এবং ‘বিশেষভাবে আমাদের ফেজ এইট, হবস ও হুইসলস ব্র্যান্ডে’ প্রভাব ফেলছে। তারা বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দোকান স্বাভাবিকভাবেই চলছে, তবে ওয়েবসাইটের কিছু সুবিধা না-ও পাওয়া যেতে পারে।

পিএর দেখা এক ই-মেইলে টিএফজি গ্রাহকদের জানিয়েছে, তারা মনে করছে না পেমেন্টের তথ্যে প্রভাব পড়েছে, আর গ্রাহকের কোনো স্পর্শকাতর তথ্য জড়িত কি না তা শনাক্তের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরাসরি জানানো হবে। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে: ‘এই মুহূর্তে আপনার অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য বদলানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি না।’

এইচঅ্যান্ডএমের দাবিটি

সোমবার খবর আসে, এইচঅ্যান্ডএম শাইনিহান্টার্সের হামলার দাবি খতিয়ে দেখছে—যে দলটিকে আগে এফবিআই, রকস্টার গেমস ও টিকেটমাস্টারে হামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

‘সম্ভাব্য একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা নিয়ে অনলাইনে ছড়ানো তথ্য সম্পর্কে আমরা অবগত এবং দাবিগুলো যাচাই করছি,’ বিবিসিকে বলেছে এইচঅ্যান্ডএম। ‘এই মুহূর্তে আমাদের ডেটা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত আমরা পাইনি।’

দুটিই সতর্ক বিবৃতি, আর কোনোটিই কিছু ঘটেনি বলে অস্বীকার নয়।

খুচরা বাণিজ্য কেন, আর এখনই কেন

অ্যাডিডাস থেকে আলেকজান্ডার ম্যাককুইন পর্যন্ত ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলো অপরাধীদের লক্ষ্য হয়েছে, যারা গ্রাহকের তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে।

বাকস নিউ ইউনিভার্সিটির বেভারলি গ্রিফিথস একে বলেছেন ‘বড় ব্র্যান্ডগুলো যে দৃঢ়ভাবে নিশানায় আছে তার স্পষ্ট চিহ্ন’, আর যোগ করেছেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানই সুরক্ষিত নয়, তাই স্থিতিস্থাপকতার আসল পরীক্ষা হলো একটি ব্যবসা কত দ্রুত ঘটনা শনাক্ত করে, সাড়া দেয় ও সামলে ওঠে—আর গ্রাহককে জানিয়ে রাখে।’

চেক পয়েন্টের শার্লট উইলসন বলেছেন অন্যভাবে: খুচরা বিক্রেতাদের ওপর হামলা ‘দেখতে অনেকটা বাসের মতো হয়ে উঠছে… একটির জন্য অপেক্ষা করছেন, হঠাৎ তিনটি একসঙ্গে এল’। তিনি বলেছেন, শিল্পটির ‘ব্যবস্থাগুলো কতটা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে কিছু গুরুতর প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে’।

বাংলাদেশে এর মানে কী

সরাসরি সংযোগটি সরবরাহ শৃঙ্খলে। এখানে নাম আসা ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশি কারখানা থেকে কেনে, আর একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় থাকে ক্রয়াদেশ, দরের হিসাব, সরবরাহের সূচি আর সরবরাহকারীর যোগাযোগ। ক্রেতার ব্যবস্থায় ভাঙন মানে সরবরাহকারীর বাণিজ্যিক তথ্যেও ভাঙন—আর সরবরাহকারীকে তা খুব কমই জানানো হয়।

কথাটি স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ প্রতিবেদনে এটি কখনোই আসে না। ইউরোপীয় কোনো খুচরা প্রতিষ্ঠান ঘটনার ঘোষণা দিলে প্রতিটি বিবৃতি থাকে গ্রাহকের তথ্য নিয়ে। ভেন্ডর পোর্টালে হাত পড়েছে কি না কেউ জিজ্ঞেস করে না, আর গাজীপুরের একটি কারখানার তা জানার কোনো উপায় নেই।

ক্রেতার পোর্টালের মাধ্যমে কাজ করা কারখানার জন্য একটি কাজের পদক্ষেপ আছে: ওই লগইনকে আলাদাভাবে ঝুঁকিতে থাকা ধরে নিন। এমন পাসওয়ার্ড দিন যা আর কোথাও নেই, পোর্টালে দুই স্তরের যাচাই থাকলে চালু রাখুন, আর ধরে নিন সত্যিকারের কোনো ক্রয়াদেশের উল্লেখসহ আসা ই-মেইলটি এমন কেউ লিখতে পারেন, যিনি আসল ক্রয়াদেশটি পড়েছেন।

শাইনিহান্টার্সের নাম এখানে আগেও এসেছে, এফবিআই কর্মীদের তথ্য নিয়ে দাবির খবরে।

গ্রাহক হিসেবে এখন যা করার

এ ধরনের খবরে সবচেয়ে বেশি দেখা পরামর্শ হলো ‘পাসওয়ার্ড বদলান’। টিএফজি নিজেই বলছে সেটি এখন দরকার নেই—আর ওই পরামর্শ আসলে ভুল জায়গাতেও তাক করা।

এ ধরনের ভাঙনে চুরি যাওয়া জিনিস সাধারণত পাসওয়ার্ড নয়; নাম, ই-মেইল, ফোন নম্বর আর কেনাকাটার ইতিহাস। ওই তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্টে ঢোকা যায় না, কিন্তু এমন বার্তা লেখা যায় যা বিশ্বাসযোগ্য শোনায়—কারণ এতে আপনার আসল অর্ডারের উল্লেখ থাকে।

তাই কাজের সতর্কতাটি পাসওয়ার্ড নয়, বার্তা নিয়ে। ভাঙনের খবরের পরের সপ্তাহগুলোয় ওই ব্র্যান্ডের নামে আসা ই-মেইল বা এসএমএসকে সন্দেহের চোখে দেখুন, বিশেষ করে যেগুলোয় ‘ডেলিভারি আটকে আছে’ বা ‘ফেরত পেতে এখানে ক্লিক করুন’ বলা হয়। লিংকে না গিয়ে নিজে ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখাই নিয়ম—আর সেটি বাংলাদেশের ই-কমার্সের ক্ষেত্রেও সমানভাবে খাটে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ, গ্রাহক ই-মেইলের বিবরণ পিএর বরাতে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।