প্রযুক্তি বিশ্ব

এক সপ্তাহে ইয়ানডেক্সের পাঁচটির মধ্যে তিনটি ডেটা সেন্টারে আঘাত হেনেছে ইউক্রেন — ক্লাউড অবকাঠামো এখন সামরিক লক্ষ্যবস্তু

ড্রোন হামলায় ইয়ানডেক্সের ভ্লাদিমির ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত—এ সপ্তাহে রাশিয়ার বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটিতে তৃতীয় আঘাত। কিয়েভ বলছে, তারা যুদ্ধের আয়ের উৎসে আঘাত করছে।

এক সপ্তাহে ইয়ানডেক্সের পাঁচটির মধ্যে তিনটি ডেটা সেন্টারে আঘাত হেনেছে ইউক্রেন — ক্লাউড অবকাঠামো এখন সামরিক লক্ষ্যবস্তু

মস্কোর পূর্বে ভ্লাদিমিরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করেছে ইয়ানডেক্স—এক সপ্তাহে রুশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনায় এটি তৃতীয় হামলা। প্রায়ই “রাশিয়ার গুগল” বলা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কেউ আহত হননি, তবে কিছু সেবা ব্যবহারকারীদের জন্য বন্ধ ছিল।

সপ্তাহের শুরুতে ইয়ানডেক্স জানায়, পাঁচটির মধ্যে দুটি ডেটা সেন্টারে আঘাতের পর সেবা সচল রাখতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। টেলিগ্রামে তারা নিশ্চিত করে, ভ্লাদিমিরের স্থাপনার কার্যক্রম “সম্পূর্ণ স্থগিত”, আর তারা সংযোগ ফেরানোর কাজ করছে।

কিয়েভ বলেছে, তারা মস্কোর যুদ্ধপ্রচেষ্টার আয়ের উৎসগুলোকে নিশানা করছে, আর এসব হামলা রাশিয়াকে মেরামতে সম্পদ সরাতে বাধ্য করতে পারে। হামলাটি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পর, যাতে তিনি বলেন ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা “বন্ধ করা উচিত”, যাতে মস্কো বিশ্ববাজারে আরও ডিজেল ছাড়তে পারে—যে সমঝোতা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি করেছে।

এখানে নতুন কী

এই যুদ্ধজুড়ে অবকাঠামোয় আঘাত হেনেছে: বিদ্যুৎকেন্দ্র, শোধনাগার, রেলপথ। ডেটা সেন্টার ভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তু, আর একে সামরিক অবকাঠামো হিসেবে গণ্য করার স্পষ্টতম উদাহরণগুলোর একটি এটি।

যুক্তিটি দুর্বোধ্য নয়। রুশ জনসংখ্যার বড় অংশের জন্য ইয়ানডেক্স মানে সার্চ, রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি, মানচিত্র, ক্লাউড হোস্টিং ও পেমেন্ট—আর এই আকারের প্রতিষ্ঠান কেবল একটি ওয়েবসাইট নয়, একই সঙ্গে করের ভিত্তি ও সরবরাহব্যবস্থার একটি স্তর। কিয়েভের ঘোষিত যুক্তি—যুদ্ধের আয়—একে শোধনাগারের একই শ্রেণিতে ফেলে।

এই যুদ্ধের বাইরে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো পরিণতিটি। বেসামরিক ক্লাউড অবকাঠামো সাধারণ জীবনের বিপুল পরিমাণ কাজ ঠেসে রাখে অল্প কয়েকটি ভৌত ভবনে, আর ওই ভবনগুলোর ঠিকানা আছে। তিনটি হামলায় এক সপ্তাহে জাতীয় মাপের একটি প্রদানকারীর সক্ষমতার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বসে গেছে।

পাঁচের পাটিগণিত

পাঁচটি ডেটা সেন্টার শুনতে বাড়তি সুরক্ষার মতো। আসলে তেমন নয়।

বাড়তি সুরক্ষা তখনই কাজ করে, যখন টিকে থাকা কেন্দ্রগুলো বসে যাওয়াগুলোর চাপ নিতে পারে। পাঁচের দুটি গেলে বাকি তিনটিকে প্রত্যেকে ৬৭ শতাংশ বেশি বইতে হয়; তিনটি গেলে টিকে থাকাগুলোকে করতে বলা হয় স্বাভাবিকের আড়াই গুণ কাজ। এ কারণেই ইয়ানডেক্স পরিচ্ছন্নভাবে বিকল্পে সরে না গিয়ে সেবা সচল রাখতে হিমশিম খাওয়ার কথা জানিয়েছে—সক্ষমতার পরিকল্পনা ধরে নেয় একটি কেন্দ্র বসবে, বেশির ভাগ নয়।

এ কারণেই “আমাদের একাধিক ডেটা সেন্টার আছে” কথাটি শোনার চেয়ে দুর্বল আশ্বাস, আর যেকোনো প্রদানকারীকে করার কাজের প্রশ্নটি কতগুলো কেন্দ্র আছে তা নয়—কতগুলো হারালেও চলে।

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের এটি পড়া দরকার কেন

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিটি দূরের। গঠনগত শিক্ষাটি নয়, আর তাতে সাড়া দেওয়া সস্তা।

ক্লাউডে যাওয়া বাংলাদেশি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই বসে আছে একটিমাত্র অঞ্চলে—সাধারণত সিঙ্গাপুর বা মুম্বাই—কারণ সেটিই নিকটতম, সস্তা ও দ্রুততম। এক-অঞ্চলের হোস্টিং হলো এই বাজি যে অঞ্চলটি সচল থাকবে, আর এখানকার বাস্তব ঝুঁকি ড্রোন নয়: সাবমেরিন কেব্‌ল কাটা, আঞ্চলিক প্রদানকারীর বিভ্রাট, বিল বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধে অ্যাকাউন্ট স্থগিত হওয়া, কিংবা জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধ—যার অভিজ্ঞতা এ দেশের আছে।

ব্যবহারিক পদক্ষেপটি বহু-অঞ্চলে হোস্টিং নয়, যা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যুক্তিসংগত নয়। পদক্ষেপটি হলো দরকার পড়ার আগেই একটি প্রশ্নের উত্তর জানা: অঞ্চলটি ৪৮ ঘণ্টা অগম্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের হাতে স্থানীয়ভাবে কী থাকে—তথ্য, পরিচয়-তথ্য, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের উপায়—আর কেউ কি তা পরীক্ষা করে দেখেছেন?

আঘাতে আসলে কী বন্ধ হয়

সেতুর মতো করে ক্ষতিতে ডেটা সেন্টার ধ্বংস হয় না। সার্ভার বদলানো যায় আর সাধারণত বিমা করা থাকে; যা থেমে যায় তা হলো বিদ্যুৎ, শীতলীকরণ আর ভবনে পৌঁছানো সচল নেটওয়ার্ক পথের ওপর নির্ভরশীল সবকিছু।

এ কারণেই ইয়ানডেক্স কার্যক্রম হারিয়ে যাওয়া নয়, স্থগিত বলেছে। কেবল শীতলীকরণ বিকল হলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে স্থাপনা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ যন্ত্রপাতি নিজেকে রক্ষা করতে গতি কমিয়ে তারপর থেমে যায়। সেবা ফেরানো তখন কম্পিউটার বদলানোর নয়, বিদ্যুৎ ও সংযোগের প্রশ্ন।

এক সপ্তাহে তিনবার আঘাতের ধরনটিও এতেই ব্যাখ্যা হয়। কোনো কেন্দ্র বারবার থামিয়ে দেওয়া ধ্বংস করার চেয়ে সস্তা আর প্রায় একই ফল দেয়, কারণ যে স্থাপনা বারবার বসে যায় তার ওপর অন্যের চাপ বহনের ভরসা করা যায় না।

এই শিল্পের ভৌত মাপ নিয়ে দেখুন স্কটল্যান্ডে প্রস্তাবিত ২৩টি ডেটা সেন্টার।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।