বিশ্ব

১০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টারে থাকে প্রায় ৪০০ টন তামা। শিল্প এখন বাজি ধরছে আলোর ওপর

সাধারণ একটি ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে যায় প্রায় ৪০০ টন তামা, যার ২০ টন সার্ভারের মধ্যে নেটওয়ার্কের তারে। ওই তারের জায়গায় আলো আনাতেই শিল্প দেখছে পরের বিদ্যুৎ সাশ্রয়।

১০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টারে থাকে প্রায় ৪০০ টন তামা। শিল্প এখন বাজি ধরছে আলোর ওপর

ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী ডিজিটাল রিয়েলটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ক্রিস শার্প বলছেন, "আমার মনে হয়, আমরা তামার শেষ প্রান্তে।"

তিনি যা বোঝাচ্ছেন

তিনি বলছেন না যে পৃথিবীতে তামা ফুরিয়ে যাচ্ছে। তিনি ও শিল্পের আরও অনেকে বাজি ধরছেন যে এর ব্যবহার কমবে।

ডেটা সেন্টার ধাতুটির বিপুল ব্যবহার করে: প্রায় ১০০ মেগাওয়াটের সাধারণ একটি কেন্দ্রে যায় প্রায় ৪০০ টন—ডেটা সেন্টারের আকার মাপা হয় মেগাওয়াটে, যা বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক। এর বেশির ভাগ তামা থাকে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ জোগানো অবকাঠামোয় আর শীতলীকরণ ব্যবস্থায়। ৭০ টন পর্যন্ত ব্যবহার হয় সার্ভারগুলোতেই, আর ২০ টন পর্যন্ত ওই সার্ভারগুলো জুড়ে দেওয়া নেটওয়ার্কের তারে।

ভবনের ভেতর দিয়ে সাপের মতো বয়ে যাওয়া সেই তারের জটই এখন বদলে ফেলার নিশানা—আলোক-সংযোগ দিয়ে, যা তথ্য পাঠায় বিদ্যুৎপ্রবাহ নয়, আলো হিসেবে; আর দূরত্বে তাপ হিসেবে অনেক কম শক্তি হারায়।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার গড়ছে—কালিয়াকৈরে, ব্যাংক ও টেলিকমের কেন্দ্রে, আর সরকারের নিজের একীভূতকরণ প্রকল্পে; আর এখানে বাধা জমি বা পুঁজি নয়। বাধা বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ।

পদার্থবিদ্যার একটি কারণেই এ গল্প এখানে নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোর চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। সার্ভার যত ওয়াট টানে তার সবই তাপ হয়, আর ঢাকার গ্রীষ্মে সেই তাপ সরাতে হয় ডাবলিন বা স্টকহোমের চেয়ে অনেক বেশি বাইরের তাপমাত্রার বিরুদ্ধে। তাই মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারে শীতলীকরণের ভাগ বাংলাদেশে বেশি—এই নকশাগুলো যেসব জায়গায় বানানো হয় সেখানকার তুলনায়। যা প্রথমেই তাপ তৈরি কমায়—বৈদ্যুতিক সংযোগের জায়গায় আলোক-সংযোগ আনা ঠিক তা-ই করে—তার দাম এখানে শিরোনামের সংখ্যাটির চেয়ে বেশি।

দ্বিতীয় কথাটি "সার্বভৌম তথ্যের" আসল খরচ নিয়ে। বাংলাদেশের তথ্য বাংলাদেশেই রাখার পক্ষে জোরালো ও যথাযথ দাবি আছে। সৎ হিসাবটি হলো, দেশের ভেতরের ডেটা সেন্টার চলে এমন এক গ্রিডে, যা জ্বালানি-আমদানিনির্ভর আর সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়; অর্থাৎ ডিজেল ব্যাকআপ, অর্থাৎ এ বিভাগেই আলোচিত জ্বালানি-ঝুঁকি। দেশে রাখা রক্ষণীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত; তবে তা বিনা মূল্যের নয়, আর বিলটি আসে বিদ্যুৎ হয়ে।

তৃতীয়টি আরও সরু ও বাণিজ্যিক। তামা দামি, আর টেলিকম ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো থেকে তামা চুরি বাংলাদেশে চলতেই থাকা সমস্যা। তামার সংযোগ থেকে ফাইবারের দিকে শিল্পের সরে আসা—যা দেশের নিজস্ব ব্যাকবোনে ইতিমধ্যেই চলছে—খরচ আর চুরির নিশানা, দুটোই কমায়।

বড় ছকটি—যে নির্ণায়ক অগ্রগতি এখন আকারে নয়, উপকরণে—সেটিই আমরা দেখেছি ব্যাটারিতে ইউরোপের দ্বিতীয় দৌড় লেখায়।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।