ডেটা সেন্টার নির্মাণের আগে ‘কঠোর পরীক্ষা’ আরোপের সরকারি পরিকল্পনা সতর্ক সমর্থন পেয়েছে এমন একটি এলাকায়, যেখানে শিগগিরই তিনটি এমন স্থাপনা হতে পারে।
বুধবারের বাজেট বক্তৃতায় চ্যান্সেলর জন হিলি বলেছেন, নতুন কেন্দ্রগুলোকে ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ করতে, স্থানীয় চাকরি তৈরি করতে এবং স্থানীয় পানির উৎস রক্ষা করতে’ হবে।
যে দরকষাকষির প্রস্তাব
এটি একটি বিনিময়, আর চ্যান্সেলর দুই দিকের কথাই স্পষ্ট করে বলেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগ করলে, চাকরি তৈরি করলে ও সম্পদ রক্ষা করলে তারা ‘প্রয়োজনীয় গ্রিড সংযোগ পাবে, আর প্রয়োজনে অপেক্ষার সময় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতিও পাবে’।
দ্বিতীয় অংশটিই মূল্যবান। ব্রিটেনে ডেটা সেন্টার নির্মাণের আসল বাধা গ্রিড সংযোগের লাইন—এ মাসেই আমরা লিখেছি, গ্রিডের সময়সীমা ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত গড়ানোয় মাইক্রোসফট দেশটির বৃহত্তম প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার থেকে সরে এসেছে। অপেক্ষার সময়ে নিজের বিদ্যুৎ বানানোর অনুমতি কোনো নির্মাতার কাছে যেকোনো পরিকল্পনাগত ছাড়ের চেয়ে বেশি দামি।
অর্থাৎ এটি নিছক নিষেধাজ্ঞা নয়। এটি স্থানীয় দায়বদ্ধতার বিনিময়ে লাইন টপকানোর সুযোগ—আর ‘কঠোর পরীক্ষা’ কথাটিতে যা মনে হয়, এটি তার চেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক নীতি।
হিলি সার্বভৌমত্বের যুক্তিও দিয়েছেন: ‘এনএইচএস যখন রোগীর চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করে, আমরা চাই সেই তথ্য এখানে থাকুক; আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যখন আমাদের নিরাপদ রাখতে এআই ব্যবহার করে, আমরা চাই সেই তথ্য এখানে থাকুক।’

প্রথম ধাক্কাটি লাগছে যেখানে
নর্থাম্বারল্যান্ড কাউন্টি কাউন্সিল ইতিমধ্যেই ক্যামবয়েসে মার্কিন প্রতিষ্ঠান কিউটিএসকে ১,০০০ কোটি পাউন্ডের একটি স্থাপনার অনুমতি দিয়েছে, আর আরও দুটি আবেদন বিবেচনা করছে।
কাউন্সিলের কনজারভেটিভ নেতা গ্লেন স্যান্ডারসন বলেছেন, অর্থনীতির জন্য খাতটি ‘একেবারেই অপরিহার্য’। কিউটিএসের পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য: ‘ঠিকভাবে ও যত্ন নিয়ে করা হলে নতুন অর্থনীতি ও নতুন প্রজন্মের মানুষের জন্য ডেটা সেন্টার উন্নয়ন একেবারেই জরুরি।’
স্থানীয় লেবার এমপি প্রতিশ্রুতিটিকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছেন, ‘আসল কথা বিস্তারিততে’। গত মাসে ব্লাইথ ও অ্যাশিংটনের এমপি ইয়ান ল্যাভেরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর এলাকার মতো উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছিলেন; তাঁর আশঙ্কা, এগুলো ‘দুর্লভ শিল্পজমি দখল করবে, যা এমন অন্য শিল্পে ব্যবহার করা যেত যারা অনেক বেশি স্থানীয় চাকরি তৈরি করে’।
বাজেটের পর ল্যাভেরি বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত যতটা শুনেছি, বাসিন্দাদের কথা তার চেয়ে অনেক বেশি শুনতে হবে।’ চ্যান্সেলরের প্রতিশ্রুতি উত্থাপিত বিষয়গুলো ‘মোটা দাগে সামলায়’, তবে ‘দুই বর্গমাইলের মধ্যে তিন-চারটি ডেটা সেন্টার থাকার প্রভাব এটি সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন’।
ল্যাভেরি যে ফাঁকটির দিকে আঙুল তুলছেন
ফাঁকটি সত্যিকারের, আর এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে কাজের অংশও এটিই।
এ ধরনের পরীক্ষা প্রয়োগ হয় প্রতিটি আবেদনের ওপর আলাদাভাবে। প্রতিটি স্থাপনা দেখাতে পারে যে সে স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগ করছে, কিছু চাকরি তৈরি করছে, আর একা পানির উৎস নিঃশেষ করছে না। অথচ দুই বর্গমাইলে তিন-চারটি স্থাপনার প্রতিটি সেই পরীক্ষায় উতরেও মিলিতভাবে এমন প্রভাব ফেলতে পারে, যা কোনোটিই এককভাবে ফেলে না—গ্রিডে, পানিতে, আর অন্য কিছুর জন্য অবশিষ্ট শিল্পজমিতে।
ল্যাভেরির আদি আপত্তিটি জমির প্রশ্নটি ধারালোভাবে তোলে। ডেটা সেন্টার মূলধনঘন, কিন্তু কর্মীহালকা: নির্মাণপর্বে কিছুকালের জন্য বহু মানুষের কাজ হয়, আর পরিচালনাপর্বে চিরকালের জন্য কাজ হয় তুলনামূলক কম মানুষের। ফলে ‘স্থানীয় চাকরি তৈরি’ এমন একটি পরীক্ষা, যা ডেটা সেন্টার সহজেই পাস করে—আর একই জমিতে একটি ইলেকট্রনিকস কারখানা পাস করত অনেক ভালোভাবে।
এখান থেকে এটি লক্ষ রাখার মতো কেন
কারণ একই প্রস্তাব এ অঞ্চলেও আসবে, সম্ভবত শিগগিরই। আমরা যেসব দেশ নিয়ে লিখেছি, ধরনটি সর্বত্রই এক—স্কটল্যান্ডের ২৩টি হাইপারস্কেল প্রস্তাবের পেছনের গ্রিড-হিসাব, আর বাটামে ডেটা সেন্টার চত্বরে পানির দাবিতে বিক্ষোভ—আর প্রতিটি সরকারের সামনে প্রশ্নটিও এক: জমি, বিদ্যুৎ ও পানির বিনিময়ে আদায় করা হচ্ছে কী।
ব্রিটেন এখন একটি উত্তর লিখে ফেলেছে। সেটি টিকবে কি না তা বিস্তারিতর ব্যাপার, আর বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি। এমন নীতি এলে যাচাই করার মতো তিনটি জিনিস: পরীক্ষাগুলো সম্মিলিতভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না একটি একটি করে, ‘স্থানীয় চাকরি’ বলতে নির্মাণ বোঝানো হচ্ছে না পরিচালনা, আর ভবন চালু হওয়ার পর পানির প্রতিশ্রুতি নিরীক্ষা করবে কে।




