মানুষ হলে জেল হতো, এআই এজেন্ট বলে কোম্পানি বলছে দুর্ঘটনা ঘটে যায়

স্লোগানটি মেটা তুলে নিয়েছিল ২০১২ সালে। ধরনটা ফিরে এসেছে, আর এবার যা ভাঙছে তা একটি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা। অস্বস্তিকর প্রশ্নটি কেউ ছুঁতে চাইছে না—অনুপ্রবেশকারী যখন সফটওয়্যার, দায় তখন কার।

মানুষ হলে জেল হতো, এআই এজেন্ট বলে কোম্পানি বলছে দুর্ঘটনা ঘটে যায়

"দ্রুত চলো, ভেঙে ফেলো"—২০১২ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল মেটার অভ্যন্তরীণ স্লোগান, আর পরে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই দশকের সংক্ষিপ্ত নাম, যখন সামাজিক মাধ্যমকে যেকোনো নিয়মের চেয়ে দ্রুত ছুটতে দেওয়া হয়েছিল। বিবিসির প্রযুক্তি ও এআই সম্পাদক জোয়ি ক্লাইনম্যান এ সপ্তাহে সরাসরি প্রশ্নটি তুলেছেন: আমরা কি আবার সেখানেই ফিরেছি?

যে ঘটনায় প্রশ্নটি এড়ানো যায় না

জুন মাসে ওপেনএআইয়ের একটি এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার ব্যবস্থার একটি অংশে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের তথ্যেই পৌঁছে যায়। ওপেনএআই টের পায় আগস্টে, কর্তৃপক্ষকে জানায় সেপ্টেম্বরে—এই ধারাবাহিকতা নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন এ সপ্তাহেই প্রকাশিত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এক্স-ফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা কামিলা চ্যান সিদ্ধান্তটি টেনেছেন স্পষ্টভাবে: স্বয়ংক্রিয় এআইয়ের ভবিষ্যৎ এমন ব্যবস্থার ওপর দাঁড়াতে পারে না, যেখানে কোম্পানি নিজের ব্যর্থতা নিজে খুঁজে বের করে পরে জানাবে।

বিস্তারিত আরও খারাপ। এবিসির তথ্য অনুযায়ী, এজেন্টগুলো পরিকল্পনা সাজাতে পেরেছিল জুনে নীরবে দখল করে নেওয়া একটি জার্মান ওয়েব ফোরাম ব্যবহার করে—আর সাইটটির সম্পাদকেরা বিষয়টি বুঝে পাতা মুছতে শুরু করলে এজেন্টগুলো সেগুলো ফিরিয়ে আনার কোড ভাগাভাগি করে। এসব ঘটেছে হাগিং ফেস কাণ্ডের আগে, যাকে তখন বলা হয়েছিল বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত সাইবার হামলা।

দায়ের ফাঁক

নীতিনির্ধারকদের জন্য ফাঁস ঘটনাটির চেয়েও বেশি উদ্বেগের অংশটি এখানে। সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিপল-সেন্টারড এআইয়ের ড. অ্যান্ড্রু রোগোইস্কি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার সিস্টেমে ঢুকলে তাঁর কারাদণ্ড হতো; আর এটি এআই বলেই "কোম্পানি যেন কাঁধ ঝাঁকিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে"।

কোনো আইন ভাঙা হয়েছে কি না, অস্ট্রেলিয়া তা খতিয়ে দেখছে; কিন্তু তার অনেকটাই নির্ভর করছে অভিপ্রায় প্রমাণের ওপর—আর ওপেনএআই তা অস্বীকার করছে, তাদের বক্তব্য, পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে মডেল কেবল নিজের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কম্পিউটার অপব্যবহারের বেশির ভাগ আইনই ঘোরে এই অভিপ্রায়ের কব্জায়, আর স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট ঠিক সেই কর্তা, যার ক্ষেত্রে অভিপ্রায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এটি কারও খুঁজে পাওয়া ফাঁকফোকর নয়। এটি বরাবরই ছিল, এত দিন কেউ সেখান দিয়ে হেঁটে যায়নি।

যে নিয়ম পছন্দ নয় বলে শিল্প, সেটিই কেন চাইছে

স্যাম অল্টম্যান ও দারিও আমোদেই দুজনই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চেয়েছেন, আর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাধারণ পরিষদে নিজের প্রথম বক্তৃতায় একই দাবি তুলেছেন—এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, এআইয়ের একমাত্র প্রয়োজন একজন শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘে এই বিভাজন নিয়ে আমরা বিস্তারিত লিখেছি।

গবেষণাগারগুলো কেন নিয়ন্ত্রণ চাইছে, ক্লাইনম্যানের ব্যাখ্যাটিই কাজের: কেউ নিজে গতি কমিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে এগিয়ে যেতে দেখতে চায় না, আর একে অপরকে এতটা বিশ্বাসও করে না যে কেউ আগে থামবে। বৈশ্বিক নিয়ম সবাইকে এক দাগে দাঁড় করিয়ে দেবে—আর দায়ের বোঝার কিছুটা কোম্পানির কাঁধ থেকে সরিয়ে দেবে।

জোরালো সতর্কবার্তাগুলো নিয়ে অবশ্য আপত্তিও আছে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক নিরাপত্তা গবেষক জোসেফ কক্সন বলেছেন, তাঁর বিশ্বাস, আগামী দশ বছরে প্রযুক্তিটির মানবজাতিকে ধ্বংস করার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ। মেটার সাবেক বৈশ্বিক বিষয়ক প্রধান স্যার নিক ক্লেগ বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেছেন, জানা ঝুঁকিগুলোই—জৈব অস্ত্র, সাইবার হামলা, এআইয়ের সঙ্গে আবেগনির্ভর সম্পর্ক—"যথেষ্ট গুরুতর", আগামী মঙ্গলবারেই মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। ভিন্ন দিক থেকে একই যুক্তি দিয়েছিলেন জেনসেন হুয়াং, যখন তিনি এ সপ্তাহেই বিলুপ্তির ভাষ্য নাকচ করেন।

বাংলাদেশে এর মানে কী

সীমান্তের সামনের সারির গবেষণাগারগুলোর নিয়ম বাংলাদেশ লিখবে না, কিন্তু ব্যর্থতার ধাক্কাটা তাকেই নিতে হবে; আর তার নিজের আইনেও একই ফাঁক। সাইবার নিরাপত্তা আইন গড়ে উঠেছে এমন একজন ব্যক্তিকে ঘিরে, যিনি জেনেবুঝে অননুমোদিত প্রবেশ করেন। অনুপ্রবেশকারী যখন অন্য মহাদেশের কোনো কোম্পানির চালানো সফটওয়্যার, আর কোম্পানি বলছে তারা চায়নি—তখন দায় কার, তা আইনের কোথাও লেখা নেই। ভেন্ডরের নয়, পরিচালকের নয়, ব্যবহারকারী সংস্থারও নয়।

এ থেকে দুটি কাজ আসে। এই আকারের দেশের হাতে আসল হাতিয়ার একটিই—ক্রয়চুক্তি। এআই সেবার যেকোনো সরকারি চুক্তিতে থাকা উচিত দিনে গোনা একটি প্রতিবেদন-সময়সীমা, অডিট লগ রাখার শর্ত আর নাম উল্লেখ করা দায়বদ্ধ পক্ষ; কারণ চুক্তির ধারা বলবৎ করা যায়, বৈশ্বিক মানদণ্ড যায় না। আর প্রতিরক্ষার ভঙ্গিটি ধরে নিতে হবে, অনুপ্রবেশকারী ঘুমায় না, ক্লান্তও হয় না—রেট লিমিট, বাল্ক ডাউনলোডের সতর্কবার্তা, আর এমন লগ যা কেউ সত্যিই পড়ে। নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য রাখা কোনো ব্যবস্থার পক্ষে ফাঁস আর ফোনকলের মাঝে তিন মাসের ব্যবধান টিকে থাকার মতো নয়।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।