প্রযুক্তি বিশ্ব

এশিয়ার এআই নিয়ম লিখতে জাকার্তায় বসেছে ২৭ দেশ — আর সেখানে বাংলাদেশের একটি আসন আছে, যার কথা এখানে বেশির ভাগ মানুষ জানেন না

৩১ সদস্যদেশের মধ্যে ২৭টি নিয়ে জাকার্তায় শুরু হয়েছে অ্যাসোসিও ডিজিটাল ও এআই সামিট। এ ধরনের আঞ্চলিক সংগঠনেই ঠিক হয় সেই মান, যা পরে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে মানতে বলা হয়।

এশিয়ার এআই নিয়ম লিখতে জাকার্তায় বসেছে ২৭ দেশ — আর সেখানে বাংলাদেশের একটি আসন আছে, যার কথা এখানে বেশির ভাগ মানুষ জানেন না

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর সুইসোটেল জাকার্তা পিআইকে অ্যাভিনিউয়ে সোমবার শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী অ্যাসোসিও ডিজিটাল অ্যান্ড এআই সামিট ২০২৬। এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন—অ্যাসোসিওর সদস্যদেশ ৩১টি, আর অংশ নিচ্ছে ২৭টি। সম্মেলন চলবে বুধবার পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানসূচি চেনা ধাঁচেরই, আর সেই চেনা ধাঁচটিই গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাসোসিওর পরিচালনা পর্ষদ ও সাধারণ সভা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ডিজিটাল রূপান্তর ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে কৌশলগত আলোচনা, এআই গভর্ন্যান্স ও দায়িত্বশীল এআই বিষয়ক অধিবেশন, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামো বিষয়ক অধিবেশন, প্রদর্শনী, অ্যাসোসিও পুরস্কার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা, স্টার্টআপের বিকাশ ও বিনিয়োগ নিয়ে মতবিনিময়।

অ্যাসোসিওর চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ার স্ট্যান সিং-জিৎ প্রথম আলোকে বলেছেন, দ্রুত বদলে যাওয়া ডিজিটাল বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তা হয়ে উঠেছে অর্থনৈতিক স্থিতি, ডিজিটাল আস্থা ও টেকসই উদ্ভাবনের মূল ভিত্তি—আর এশিয়া-ওশেনিয়ার প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলো এআই, ক্লাউড ও সংযুক্ত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গ্রহণ করায় সাইবার নিরাপত্তার সক্ষমতা বাড়ানো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জরুরি। প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার পর্যটনবিষয়ক উপমন্ত্রী নি লুহ পুস্পা।

এ ধরনের সংগঠন আসলে কী করে

সম্মেলনের সূচি দেখে মনে হতে পারে, ধীরগতিতে কিছুই ঘটছে না। এতে আঞ্চলিক শিল্প সংগঠনগুলোর সিদ্ধান্তকে কম মূল্য দেওয়া হয়—আর সেই সিদ্ধান্তগুলোই বছর কয়েক পর ঢাকার কোনো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের কাছে আলোচনা হিসেবে নয়, শর্ত হিসেবে পৌঁছায়।

এ ধরনের ঘরে তিনটি জিনিস ঠিক হয়। পারস্পরিক স্বীকৃতি—এক সদস্যদেশে পাওয়া সনদ অন্য দেশে গ্রহণ করা হবে কি না, যা ঠিক করে দেয় বাংলাদেশি প্রকৌশলীর যোগ্যতা সীমান্ত পেরোবে কি না। ক্রয়ের অভিন্ন ভাষা—সদস্য সরকার ও বড় ক্রেতারা দরপত্রে যেসব ধারা বসাতে শুরু করে: তথ্য কোথায় থাকবে, নিরাপত্তা নিরীক্ষা, আর এখন এআই গভর্ন্যান্স। আর আঞ্চলিক অবস্থান, যা বড় দরকষাকষিতে নিয়ে যাওয়া হয়—যেখানে ছোট বাজারগুলোর প্রতিনিধিত্ব হয় সম্মিলিতভাবে, নয়তো একেবারেই নয়।

এর কোনোটিই সম্মেলনে সই হয় না। সবকিছুর শুরু হয় সেখানেই।

এআই গভর্ন্যান্সের অধিবেশনগুলোই কেন দেখার

এআই নিয়মকানুনের খবর বেশির ভাগই অনুসরণ করে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসকে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের জন্য এশিয়া-ওশেনিয়ার অবস্থান হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর ক্রেতারা এই অঞ্চলেই।

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, জাপান বা অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি করা ঢাকার কোনো প্রতিষ্ঠানকে মানতে বলা হবে ক্রেতার এআই ও তথ্যসংক্রান্ত শর্ত, আমেরিকার নয়। ওই শর্তগুলো অঞ্চলজুড়ে এক হয়ে এলে একবার পরিপালনের খরচেই ২৭টি বাজার খোলে। আলাদা হয়ে গেলে প্রতিটি বাজারের জন্য আলাদা নিরীক্ষা লাগে—আর সাতাশটি কিছুর খরচ বহন করতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে ছোট।

“সমন্বয়” শব্দটির ব্যবহারিক মূল্য এখানেই, আর এ কারণেই টেবিলে একটি আসনের দাম যাতায়াতের খরচের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য প্রশ্নটি

বাংলাদেশের শিল্প সংগঠন সদস্য, আর যে প্রশ্নটি করা দরকার তা এই নয় যে অংশ নেওয়া কাজের কি না। প্রশ্নটি হলো, ফিরে আসে কী।

প্রতিনিধিদল ফেরে তিনটির কোনো একটি নিয়ে: ছবি, যোগাযোগ, কিংবা একটি নথি। কেবল তৃতীয়টিই জমতে থাকে। সম্মেলন থেকে এআই গভর্ন্যান্স নিয়ে কোনো অবস্থান বা সনদের কাঠামো বেরোলে, সফরটি কাজের হয়েছে কি না তার মাপকাঠি হলো—ওই লেখাটি স্থানীয় সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এমন রূপে পৌঁছাল কি না, যা ধরে তারা কাজ করতে পারে: দরকারে অনুবাদ করে, আর কোন ধারাগুলো আগামী বছরের দরপত্রে দেখা যাবে সেই নোটসহ।

মানদণ্ডটি নিচু, আর এখানে-ওখানে প্রায়ই তা ছোঁয়া হয় না। আবার একটি সদস্যদেশ পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে কেবল এই অংশটিই।

ছোট সদস্যের জন্য এতে যা আছে

ক্ষুদ্রতম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এর একটি কাজের রূপ আছে, আর সেটি বাণিজ্য মিশন নয়। জাতীয় সংগঠনের যা নেই, আঞ্চলিক সংগঠনের তা আছে: আরও ৩০টি বাজারে এমন সমকক্ষদের তালিকা, যাঁরা আপনি এখন যে সমস্যায় পড়ছেন তা আগেই সামলেছেন।

জাপানি ক্লায়েন্টের তথ্য-অবস্থানের ধারা কিংবা সিঙ্গাপুরের ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রশ্নপত্রের জবাব দিতে বসা ঢাকার কোনো প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে ওই নির্দিষ্ট নথির মুখোমুখি হওয়া প্রথম প্রতিষ্ঠান কদাচিৎ। গত বছর কে এর উত্তর দিয়েছেন তা যে সংগঠন বলতে পারে, পুরস্কার দেওয়া সংগঠনের চেয়ে তার দাম বেশি।

দেশে শিল্প সংগঠনের সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে দেখুন বিটোপিয়ার ফ্রিল্যান্সিং অভিযোগ, আর খাতটি কোথায় যেতে চায় তা নিয়ে বিপিও সামিট ও মূল্যশৃঙ্খলে ওপরে ওঠার পরামর্শ।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।