প্রযুক্তি স্বাস্থ্য

এআই ব্যবহার করে এক-তৃতীয়াংশ বেশি ত্বক ক্যানসারের রোগী দেখছে এনএইচএসের ক্লিনিক — আর “৯৯.৯% নির্ভুল” দাবিটির অর্থ শোনার চেয়ে সংকীর্ণ

ব্র্যাডফোর্ডের চর্মরোগ বিভাগ এখন সেশনপ্রতি ২৪ জনের বদলে ৩২ জন রোগী দেখে। এআই মেলানোমা বাতিল করায় ৯৯.৯% নির্ভুল—যেটি সহজ দিক, আর যেটি মন দিয়ে পড়া দরকার।

এআই ব্যবহার করে এক-তৃতীয়াংশ বেশি ত্বক ক্যানসারের রোগী দেখছে এনএইচএসের ক্লিনিক — আর “৯৯.৯% নির্ভুল” দাবিটির অর্থ শোনার চেয়ে সংকীর্ণ

সন্দেহজনক ত্বকের ক্ষত পরীক্ষায় গত এপ্রিল থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করেছে ব্র্যাডফোর্ডের সেন্ট লুকস হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগ। ক্লিনিকটি এখন প্রতি সেশনে ৩২ জন রোগী দেখে, আগে দেখত ২৪ জন—একই দরজা দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি মানুষ।

ব্যবস্থাটির নাম ডিইআরএম (ডিপ এনসেম্বল ফর দ্য রিকগনিশন অব ম্যালিগন্যান্সি), বানিয়েছে স্কিন অ্যানালিটিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। একজন স্বাস্থ্যকর্মী আঁচিল বা ক্ষতটির তিনটি ছবি তুলে আপলোড করেন; কয়েক মিনিটে বিশ্লেষণ ফিরে আসে। নিরীহ ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্দেহজনক হলে একই দিনে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়।

কনসালট্যান্ট প্লাস্টিক সার্জন জাকির শরিফ বলেছেন, প্রযুক্তিটি “সব কটি বাধায়” প্রভাব ফেলেছে—“রোগীর অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা আর চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত”। অপ্রয়োজনীয় বায়োপসি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।

“৯৯.৯% নির্ভুল” আসলে কিসের দাবি

স্কিন অ্যানালিটিকস বলছে, মেলানোমা বাতিল করায় এআইটি ৯৯.৯ শতাংশ নির্ভুল। বাক্যটি সুনির্দিষ্ট, আর সুনির্দিষ্টভাবেই পড়া দরকার—কারণ ক্যানসার খুঁজে বের করায় ৯৯.৯ শতাংশ নির্ভুল হওয়া আর এটি এক কথা নয়।

বাতিল করা সহজ দিক। মানুষ যেসব ক্ষত নিয়ে উদ্বিগ্ন হন তার বেশির ভাগই নিরীহ, কাজেই কোনো ব্যবস্থা “এটি ঠিক আছে” বলায় খুব ভালো হতে পারে, আর বিরল বিপজ্জনকটি ধরায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ভালো। দুটি সক্ষমতা আলাদা করে মাপা হয়, আর একটিমাত্র শিরোনামের সংখ্যা সাধারণত এর একটিরই বর্ণনা।

এটি দাবিটির সমালোচনা নয়—যেভাবে বলা হয়েছে, তা সংকীর্ণ ও সৎ। এটি সতর্কতা, এ ধরনের সংখ্যা কীভাবে ছড়ায় তা নিয়ে। বাছাইয়ের সরঞ্জাম কেনা হাসপাতালের অন্য সংখ্যাটিও দরকার—ব্যবস্থাটি কত ঘন ঘন কিছু বাদ দিয়ে যায়—আর সেই সংখ্যাই ঠিক করে একটি বাছাইয়ের ওপর ভর করে কাজ করা নিরাপদ কি না।

ব্র্যাডফোর্ডের উত্তরটি পরিসংখ্যানে নয়, কর্মপ্রবাহে: প্রতিটি ছবি একজন চিকিৎসক আবার মিলিয়ে দেখেন। এআই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না; সে সারিটি সাজিয়ে দিচ্ছে।

খবরের রোগীটিই ব্যবস্থাটির কাজ করার প্রমাণ

পিঠের একটি আঁচিল নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল ৭৩ বছরের লরেন্স প্যাটেনকে। তাঁর মাল্টিপল মায়েলোমা আছে, আর বাহুতে ত্বক ক্যানসারের পূর্ব-ইতিহাস আছে। এআই আঁচিলটিকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করে; এরপর পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞের মনে হয়, এটি সম্ভবত নিরীহ। নিশ্চিত হতে সেটি কেটে পরীক্ষা করা হবে।

দেখতে মনে হয় এআই ভুল করেছে, আর সংকীর্ণ অর্থে করেছেও। আবার বাছাইয়ের সরঞ্জামের ঠিক এটিই করার কথা। বাছাইয়ে আপনি চান ভুলগুলো এমন দিকে পড়ুক যাতে কাউকে আরেকবার দেখিয়ে নেওয়া হয়, বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া না হয়। প্যাটেনের প্রতিক্রিয়া ছিল সত্যিকারের বদলটি নিয়ে: “এটি আর মাথার ভেতর টিকটিক করছে না, ক্যানসারের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে বড় ব্যাপারগুলোর একটি।”

এই ধরনের সরঞ্জাম বাংলাদেশে কেন খাটে, আর কী একে ভেঙে দেবে

জনসংখ্যার তুলনায় বাংলাদেশে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ খুবই কম, আর প্রায় সবাই ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে। ফল হিসেবে লম্বা অপেক্ষার তালিকা তৈরি হয় না; হয় এই যে, সন্দেহজনক বেশির ভাগ ক্ষত যোগ্য কাউকে কখনো দেখানোই হয় না। প্রশিক্ষিত একজন সহকারী ছবি তুলে কয়েক মিনিটে বাছাইয়ের উত্তর পান—এমন সরঞ্জাম ব্র্যাডফোর্ডের ফাঁকের চেয়ে এই ফাঁকটিই বেশি সরাসরি পূরণ করে।

তবে দুটি শর্ত পূরণ হতে হবে, আর তার একটিমাত্র প্রযুক্তির বিষয়।

প্রথমটি প্রশিক্ষণের উপাত্ত। চর্মরোগের এআইয়ের একটি নথিভুক্ত দুর্বলতা আছে: এসব ব্যবস্থা ঐতিহাসিকভাবে প্রধানত হালকা রঙের ত্বকের ছবিতে প্রশিক্ষিত, আর গাঢ় ত্বকে এগুলোর ফল খারাপ—যেখানে কিছু ক্যানসার আবার ভিন্নভাবে প্রকাশ পায় এবং দেরিতে ধরা পড়ে। এক জনগোষ্ঠীতে অর্জিত ৯৯.৯ শতাংশের হিসাব অন্য জনগোষ্ঠীতে চলে যায় না, আর এখানে বিক্রেতাকে করার প্রশ্নটি মডেল কতটা নির্ভুল তা নয়—কার ত্বকে তা মাপা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো, চিহ্নিত হওয়ার পর কী হয়। বাছাইয়ের ব্যবস্থা কাজে লাগে কেবল তখনই, যখন বাছাই করে পাঠানোর জায়গা থাকে। ব্র্যাডফোর্ডে সন্দেহজনক রোগী একই সকালে করিডর ধরে বিশেষজ্ঞের ঘরে যান। প্রত্যন্ত উপজেলায় চিহ্নিত কোনো রোগীর বায়োপসি পর্যন্ত পৌঁছানোর বাস্তব পথ না থাকলে ব্যবস্থাটি একটি অজানা দুশ্চিন্তাকে জানা দুশ্চিন্তায় বদলে দিয়ে আর কিছুই বদলায়নি—যা শুনতে যেমন, তার চেয়ে খারাপ, ভালো নয়।

এসব ফল আদৌ রোগীর নথিতে পৌঁছায় কি না, সেই কাঠামো নিয়ে দেখুন দেশি হাসপাতাল সফটওয়্যার নিয়ে লেখাটি।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।