প্রযুক্তি

চলে গেলেন শহীদলিপির নির্মাতা সাইফুদ্দাহার শহীদ, ম্যাকিনটশে বাংলা এনেছিলেন যিনি

প্রথম বাণিজ্যিক বাংলা সফটওয়্যার শহীদলিপির (১৯৮৫) নির্মাতা এবং বাংলাদেশে অ্যামেচার রেডিওর প্রবর্তক সাইফুদ্দাহার শহীদ ৯ জানুয়ারি ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রের আলবুকার্কে মারা গেছেন।

চলে গেলেন শহীদলিপির নির্মাতা সাইফুদ্দাহার শহীদ, ম্যাকিনটশে বাংলা এনেছিলেন যিনি

কম্পিউটারে বাংলা লেখার প্রথম বাণিজ্যিক সফটওয়্যার যিনি তৈরি করেছিলেন, সেই প্রকৌশলী সাইফুদ্দাহার শহীদ ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আলবুকার্কে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর; কয়েক বছর ধরে তিনি আলঝেইমারে ভুগছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পদার্থবিজ্ঞানী মুনিম হোসেন প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেন।

শহীদলিপি, ১৯৮৫

ব্যক্তিগত কম্পিউটারের একেবারে শুরুর দিনে লন্ডনে বসে একাই প্রোগ্রামিং করে তিনি অ্যাপল ম্যাকিনটশে বাংলা লেখার পথ বের করেন এবং ১৯৮৫ সালে সেটি বাজারে আনেন শহীদলিপি নামে। প্রথম ফন্টগুলো ছিল বিটম্যাপ, পর্দায় চলত কিন্তু ছাপার কাজে নয়। এরপর তিনি লেজার প্রিন্টারের ফন্ট বানান; সেই ফন্টে ছাপা হয় পাক্ষিক তারকালোক, দৈনিক আজাদসহ কয়েকটি পত্রিকা। ম্যাকের মেনু ও নির্দেশনাও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন—ঢাকার একজন ব্যবহারকারী তখনই মনিটরে নিজের ভাষায় অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পেতেন।

বেক্সিমকো কম্পিউটারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব ছেড়ে ঢাকায় তিনি গড়েন ন্যাশনাল কম্পিউটারস; সেখান থেকেই শহীদলিপি বিক্রি হতো। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালে শহীদলিপির উন্নয়ন থেমে যায়, বাজার নেয় বিজয়, পরে অভ্র। বিজয়ের নির্মাতা ও ডাক-টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সোমবার বলেন, "যত দিন প্রযুক্তিতে বাংলা ব্যবহৃত হবে, তত দিন সাইফুদ্দাহার শহীদ জাগরূক থাকবেন।"

রেডিও আর সংগঠন

বুয়েটের যন্ত্রকৌশলের স্নাতক ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সাবেক ক্যাডেট শহীদের আরেক নেশা ছিল রেডিও। ১৯৭৯ সালের ২০ মে তাঁর উদ্যোগে গঠিত হয় বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও লিগ, যা ১৯৮২ সালে আন্তর্জাতিক অ্যামেচার রেডিও ইউনিয়নের সদস্য হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল দেশে অ্যামেচার রেডিও উন্মুক্ত হলে প্রথম লাইসেন্সটি পান তিনিই—কল সাইন S21A। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রথম সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতিরও তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সহসভাপতি ছিলেন; সমিতি শোকবার্তা দিয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

আজকের প্রতিটি বাংলা কি-বোর্ড লেআউট, ইউনিকোড ফন্ট আর ফোনের বাংলা ইন্টারফেস দাঁড়িয়ে আছে সেই সমস্যার সমাধানের ওপর, যা তিনি প্রথম করেছিলেন: যুক্তাক্ষর আর কারচিহ্নের এই লিপিকে ল্যাটিন হরফের জন্য বানানো যন্ত্রে চালানো। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। আলবুকার্কের ইসলামিক সেন্টার অব নিউ মেক্সিকোতে তাঁর জানাজা হয়।

যা রেখে গেলেন

শহীদলিপি আজ আর কোথাও চলে না, কিন্তু তার ধারণাগুলো—বাংলা কি-বোর্ড লেআউট, ছাপার মানের বাংলা ফন্ট, মাতৃভাষায় কম্পিউটারের পর্দা—প্রতিটি বাংলাভাষীর ফোনে বেঁচে আছে। যাঁরা কম্পিউটারে বাংলা লেখেন, তাঁরা প্রতিদিন তাঁর কাজের উত্তরাধিকার বহন করছেন।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।