প্রযুক্তি

অ্যাপলের পণ্যের নাম ছোট হাতের ‘আই’ দিয়ে শুরু কেন—১৯৯৮ সালের যে স্লাইডে স্টিভ জবস পাঁচটি অর্থ বলে দিয়েছিলেন

আইম্যাক, আইপড, আইফোন, আইপ্যাড: অক্ষরটি তার কারণকে ছাড়িয়ে বেঁচে আছে। ১৯৯৮ সালে আইম্যাক উন্মোচনে জবস একটি স্লাইডে পাঁচটি শব্দ রেখেছিলেন—ইন্টারনেট, ইনডিভিজ্যুয়াল, ইনস্ট্রাক্ট, ইনফর্ম, ইনস্পায়ার—আর সেই থেকে ‘আই’ অ্যাপলের নামকরণের অংশ, যদিও কোম্পানি চুপচাপ এর ব্যবহার থামাচ্ছে।

অ্যাপলের পণ্যের নাম ছোট হাতের ‘আই’ দিয়ে শুরু কেন—১৯৯৮ সালের যে স্লাইডে স্টিভ জবস পাঁচটি অর্থ বলে দিয়েছিলেন

এক ঘর আইফোন মালিককে জিজ্ঞেস করুন ‘আই’ মানে কী—বেশির ভাগ বলবেন ‘ইন্টারনেট’, কেউ কেউ বলবেন ‘আই, মানে আমি’, আর একজন জোর দিয়ে বলবেন এর কোনো মানেই নেই। তিনজনই আংশিক ঠিক, কারণ স্টিভ জবস একে একসঙ্গে পাঁচটি অর্থ দিয়েছিলেন, একটি স্লাইডে, ১৯৯৮ সালের মে মাসে।

স্লাইডটি

পণ্যটি ছিল আদি আইম্যাক—স্বচ্ছ নীল কম্পিউটার, যা অ্যাপলকে দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচিয়েছিল। জবস ব্যাখ্যা করেন, ‘আই’ প্রথমত ইন্টারনেটের জন্য—আইম্যাকের পুরো প্রস্তাবই ছিল বাক্স খুলে দুই ধাপে অনলাইনে যাওয়া, যখন পিসি যুক্ত করা মানে মডেম, ড্রাইভার ডিস্ক আর একটি বিকেল। তারপর বাকিগুলো: ইনডিভিজ্যুয়াল, কারণ এটি ব্যক্তিগত যন্ত্র; ইনস্ট্রাক্ট, শিক্ষার জন্য—নব্বইয়ের দশকে অ্যাপলের সবচেয়ে শক্ত বাজার; ইনফর্ম, তথ্য এনে দেখানোর যন্ত্রের জন্য; আর ইনস্পায়ার—যে শব্দ নিজের সম্পর্কে অ্যাপল কখনো বলা থামায়নি।

একটি অক্ষর যেভাবে ব্র্যান্ড হলো

আইম্যাক সফল হতেই উপসর্গটি বসল সবকিছুতে: ১৯৯৯ সালে আইবুক, সফটওয়্যারে আইটিউনস ও আইমুভি, ২০০১ সালে আইপড, ২০০৭ সালে আইফোন, ২০১০ সালে আইপ্যাড। ছোট হাতের ‘আই’-এর পর বড় হাতের অক্ষর এক নজরে চেনার মতো স্বতন্ত্র আর অনুবাদে টিকে যাওয়ার মতো ছোট—বাংলায় পণ্যগুলো স্রেফ আইফোন আর আইপ্যাড, অক্ষরটির ব্যাখ্যা কারও লাগে না। জবসের পাঁচটি শব্দের প্রতিটি এখনো খাটে: আইফোন ইন্টারনেটের যন্ত্র, মাত্রাতিরিক্ত ব্যক্তিগত, শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত, তথ্য দিতে গড়া, আর বিক্রি হয় অনুপ্রেরণা হিসেবে।

নীরব পিছু হটা

ব্যাখ্যামূলক লেখাগুলো যা কমই বলে: অ্যাপল থেমে গেছে। অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস, অ্যাপল টিভি, হোমপড, ভিশন প্রো ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স—সবই অক্ষরের বদলে কোম্পানির নাম বহন করে। কারণ আংশিক আইনি—‘আই’ নাম ট্রেডমার্ক করা কঠিন, ব্রাজিলে ‘আইফোন’ আর চীনে ‘আইপ্যাড’ নিয়ে লড়াইয়ে অ্যাপল হেরেছে—আর আংশিক কৌশলগত: কোম্পানি এখন পণ্যে ‘অ্যাপল’ চায়, কোনো বিকল্প নয়। আইফোন, আইপ্যাড ও আইম্যাক উপসর্গ রেখেছে, কারণ নামগুলো নীতির চেয়ে দামি। অ্যাপলের পরের বড় পণ্যে প্রায় নিশ্চিতভাবেই ‘আই’ থাকবে না—তাই ১৯৯৮ গল্পটির শুরু আর মাঝখান, শেষটা ইতিমধ্যে দৃষ্টিসীমায়।

বাংলাদেশের দোকানে যা টিকে আছে

মজার ব্যাপার, ঢাকার বাজারে অক্ষরটি অ্যাপলের চেয়েও বেশি টেকসই। মোবাইল মার্কেটের সাইনবোর্ডে ‘আই’ মানেই অ্যাপল—‘আইফোন সার্ভিসিং’, ‘আই-স্টোর’—আর ক্রেতারা এয়ারপডসকেও অনেক সময় ‘আইপড’ বলেন। জবসের পাঁচ শব্দের কোনোটি তাঁরা জানেন না, জানার দরকারও নেই; একটি ছোট হাতের অক্ষর সাতাশ বছরে একটি ব্র্যান্ডের সংক্ষিপ্ত নাম হয়ে গেছে, আর কোম্পানি নিজে ছেড়ে দিলেও বাজার তা সহজে ছাড়বে না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।