প্রযুক্তি

দুটি পরিবার টেসলার বিরুদ্ধে মামলা করেছে একই প্রশ্নে: অন্ধকারে আটকে পড়া যাত্রী কি দরজার ইমার্জেন্সি রিলিজ খুঁজে পাবেন?

সাইবারট্রাকের পেছনের রিলিজ হলো ম্যাটের নিচে একটি তার। দুটি মামলা বলছে এটি বেরোনোর পথ নয়; দরজা নিয়ে এনএইচটিএসএ দেড় লাখের বেশি মডেল ওয়াই পরীক্ষা করছে, টেসলা বলছে নকশা বদলাচ্ছে।

দুটি পরিবার টেসলার বিরুদ্ধে মামলা করেছে একই প্রশ্নে: অন্ধকারে আটকে পড়া যাত্রী কি দরজার ইমার্জেন্সি রিলিজ খুঁজে পাবেন?

২০২৪ সালের নভেম্বরে চারজন কলেজছাত্র বহন করা একটি টেসলা সাইবারট্রাক ক্যালিফোর্নিয়ার পিডমন্টে ঘণ্টায় ৮০ মাইলের বেশি গতিতে রাস্তা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে একটি গাছ ও একটি রিটেইনিং ওয়ালে ধাক্কা খায় এবং আগুন ধরে যায়। চালক ১৯ বছরের সরেন ডিকসন ও ২০ বছরের জ্যাক নেলসন নিহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক বন্ধু গাছের ডাল দিয়ে কাচ ভেঙে একজন যাত্রীকে বের করে আনেন। পেছনের আসনে ১৯ বছরের ক্রিস্টা সুকাহারা সংঘর্ষে বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনি বেরোতে পারেননি, আগুনেই মারা যান।

এখন দুটি মামলা হয়েছে — একটি ক্রিস্টা সুকাহারার বাবা-মা নোয়েল ও কার্ল সুকাহারার, আরেকটি আলাদাভাবে জ্যাক নেলসনের পরিবারের। কোনোটিই মূলত দুর্ঘটনা নিয়ে নয়। দুটিই একটি নকশাগত সিদ্ধান্ত নিয়ে: বিদ্যুৎ চলে গেলে দরজার কী হয়।

ম্যানুয়াল রিলিজে যা করতে হয়

বেশির ভাগ টেসলার মতো সাইবারট্রাকেরও দরজা বৈদ্যুতিক। টেনে খোলার হাতল নেই; পিলারে একটি বোতাম আছে, যা একটি মোটরকে তালা খোলার সংকেত দেয়। আগুনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বোতামগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

টেসলা যান্ত্রিক বিকল্প রাখে, এবং তাদের নিজেদের নির্দেশিকাই পেছনের ব্যবস্থাটি বর্ণনা করে: দরজার পকেট থেকে রাবারের ম্যাট তুলে ফেলুন, নিচে তারটি খুঁজে নিন, তার প্রান্তের ফাঁসটি সামনের দিকে টানুন, তারপর দরজা ঠেলে খুলুন। সামনের রিলিজটি নাগালের মধ্যে। সুকাহারা পরিবারের আরজি বলছে, পেছনের এই প্রক্রিয়া জটিল এবং আপৎকালে অকার্যকর; অন্ধকার, ধোঁয়ায় ভরে ওঠা কেবিনে একজন কিশোরীর কাছ থেকে এটি করার আশা করা যুক্তিসংগত নয়। জ্যাক নেলসনের পরিবারের আইনজীবী ম্যাথু ডেভিস ব্লুমবার্গকে বলেছেন, দুটি কথা একসঙ্গেই সত্যি হতে পারে — দুর্ঘটনার দায় চালকের হতে পারে, আর যাত্রীরা যে বেরোতে পারলেন না তার দায় টেসলার।

তবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি পূর্বজ্ঞান নিয়ে। সুকাহারাদের আরজিতে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক দরজার ওপর নির্ভরতা যে ভেতরে আটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে, সে সম্পর্কে টেসলার কাছে বারবার ও সরাসরি তথ্য ছিল; উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে মালিক, পথচারী ও উদ্ধারকর্মীদের নথিবদ্ধ করা সেই ঘটনাগুলো, যেখানে আরোহীরা সংঘর্ষের ধকল সামলে বেঁচে গিয়েছিলেন কিন্তু বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আগুন লাগার পর বেরোতে পারেননি। সেই তথ্য আদৌ ছিল কি না এবং টেসলা তা নিয়ে কী করেছে — মামলার আসল মোড় ঘুরবে এই প্রশ্নেই। একটি নকশা আইনসম্মত হয়েও অবহেলার দায়ে পড়তে পারে, যদি নির্মাতা জেনে থাকে।

নিয়ন্ত্রক আগেই পৌঁছে গিয়েছিল

মামলাগুলো হয়েছে একটি চলমান কেন্দ্রীয় তদন্তের ওপরে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ২০২১ সালের প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মডেল ওয়াই গাড়ি পরীক্ষা শুরু করে, নিম্ন-ভোল্টেজ ব্যাটারি বিকল হওয়ার পর দরজা খোলা যাচ্ছে না — কয়েকটি ক্ষেত্রে ভেতরে শিশু রেখেই — এমন অভিযোগের পর। সংস্থাটির নথিতে ২০১৮ সাল থেকে টেসলার দরজা নিয়ে ১৪০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

মামলা নিয়ে টেসলা কিছু বলেনি। তবে বাণিজ্যিকভাবে মূল কথাটি তারা স্বীকার করে নিয়েছে: কোম্পানির নকশাপ্রধান ব্লুমবার্গকে বলেছেন, দরজার হাতলের নকশা বদলানোর কাজ চলছে, যাতে আতঙ্কের মুহূর্তে থাকা আরোহীর কাছে রিলিজগুলো সহজবোধ্য হয়। সমস্যা নেই দাবি করতে করতে এ কথা বলা অস্বাভাবিক।

এটি কেবল টেসলার গল্প নয় কেন

বৈদ্যুতিক ল্যাচ আর সমতল হাতল পুরো শিল্পেই ছড়াচ্ছে, এবং কারণগুলো কেবল সৌন্দর্যের নয়, বাস্তব: সমতল পৃষ্ঠ বায়ুর বাধা কমায়, তাই রেঞ্জ বাড়ায়; আর যান্ত্রিক সংযোগবিহীন ল্যাচ বানানো সস্তা, সিল করাও সহজ। এগুলো ব্যবহার করা প্রায় প্রতিটি নির্মাতাই এখন বাংলাদেশসহ বাজারে গাড়ি বিক্রি করে, যেখানে বিওয়াইডি ও অন্য চীনা ব্র্যান্ড সমতল হাতলের নকশা এনেছে এমন সড়কে, যেখানে উদ্ধারকর্মীরা ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে ধীরে পৌঁছান।

ওই গাড়িগুলোর প্রত্যেকটিতেই কোথাও একটি যান্ত্রিক বিকল্প আছে। সুকাহারার মামলা গোটা শিল্পের সামনে প্রশ্নটি রাখছে এভাবে: যে বিকল্প খুঁজে পেতে নির্দেশিকা লাগে, সেটি আদৌ বিকল্প কি না। নিয়ন্ত্রকেরা দশকের পর দশক ধরে নিয়ম লিখেছেন সংঘর্ষের সময় দরজা কত জোরে বন্ধ থাকতে হবে তা নিয়ে, কারণ খুলে যাওয়া দরজা আরোহীকে ছিটকে ফেলে। কিন্তু সংঘর্ষের পর সজ্ঞান, ভীত একজন যাত্রী ওই দরজা কত দ্রুত খুলতে পারবেন, তা নিয়ে সমতুল্য কোনো নিয়ম নেই। বিমান পরিবহন বহু আগেই প্রশ্নটি মিটিয়েছে — বেরোনোর পথ অন্ধকারে অপরিচিত একজনের কাছেও স্পষ্ট করে, আর যাঁরা উড়োজাহাজটি কখনো দেখেননি তাঁদের দিয়েই তা পরীক্ষা করে। গাড়িকে এর ধারেকাছের কোনো মানদণ্ডেও বাঁধা হয়নি।

গাড়ির মালিক এ সপ্তাহেই যা করতে পারেন

এর কোনোটির জন্য রায়ের অপেক্ষা করতে হয় না। আপনার গাড়ির প্রতিটি আসনের ম্যানুয়াল রিলিজ খুঁজে বের করুন, কেবল চালকের নয় — অনেক মডেলে পেছনের রিলিজ ভিন্ন জায়গায় থাকে এবং সামনের চেয়ে ভিন্নভাবে কাজ করে। গাড়ি থামানো অবস্থায় একবার নিজে চালিয়ে দেখুন, যাতে হাত জায়গাটা চিনে রাখে। তারপর পেছনে যাঁরা বসেন তাঁদের দেখিয়ে দিন — বেশির ভাগ পরিবারে এঁরাই নির্দেশিকা পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম, আর দরকার পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সূত্র: Bloomberg, Electrek, CleanTechnica, Carscoops, NHTSA filings, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।