প্রযুক্তি

অন্য প্রতিষ্ঠানের নজরদারি থামানো সুইচটি বানিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপলের নিজের বিজ্ঞাপন যে সুইচে, সেটি আলাদা—আরও নিচে

অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি নিয়ন্ত্রণ করে অন্য অ্যাপকে। অ্যাপল অ্যাডভার্টাইজিং নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাপলকে, আর তা আলাদা মেনুতে, ডিফল্টে চালু। একটি বন্ধ করলে অন্যটিতে কিছু হয় না।

অন্য প্রতিষ্ঠানের নজরদারি থামানো সুইচটি বানিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপলের নিজের বিজ্ঞাপন যে সুইচে, সেটি আলাদা—আরও নিচে

নিজের জনপরিচয়ের বড় একটি অংশ অ্যাপল গড়েছে গোপনীয়তার ওপর, আর বিশেষভাবে একটি সুবিধাই তা এনে দিয়েছে: আইওএস ১৪.৫-এ আসা অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি, যা অ্যাপগুলোকে বাধ্য করেছে—অন্য অ্যাপ ও ওয়েবসাইটজুড়ে আপনাকে অনুসরণ করার আগে অনুমতি চাইতে।

বেশির ভাগ মানুষ যা বোঝেন না, তা হলো সেটিংটি অ্যাপলকে ঢাকে না। অ্যাপল নিজেও বিজ্ঞাপনের ব্যবসা চালায়, সেটি নিয়ন্ত্রিত হয় ভিন্ন একটি সুইচে, আর সুইচটি থাকে ভিন্ন মেনুতে।

প্রথম সুইচ: বাকি সবাই

সেটিংস → প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি → ট্র্যাকিং → অ্যালাউ অ্যাপস টু রিকোয়েস্ট টু ট্র্যাক।

এটি বন্ধ করলে কেবল অনুরোধের বার্তাগুলো লুকায় না। প্রতিটি অ্যাপকেই না জিজ্ঞেস করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে "ট্র্যাক করবেন না" উত্তর দিয়ে দেওয়া হয়—অর্থাৎ বারবার অনুরোধে আপনাকে ক্লান্ত করে রাজি করানো যাবে না, আর দুই বছর পর বসানো কোনো অ্যাপও আজকের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবে।

এ সেটিংটিই মোবাইল বিজ্ঞাপন শিল্পের চেহারা বদলে দিয়েছে, আর এটি যেমন বলা হয়েছিল তেমনই কাজ করে।

দ্বিতীয় সুইচ: অ্যাপল

সেটিংস → প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি → অ্যাপল অ্যাডভার্টাইজিং → পারসোনালাইজড অ্যাডস।

অ্যাপল বিজ্ঞাপন বিক্রি করে অ্যাপ স্টোর, অ্যাপল নিউজ আর স্টকস-এ। লক্ষ্য ঠিক করতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করে নিজের সেবাগুলোজুড়ে আপনার কর্মকাণ্ডের তথ্য। অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সির সেটিংটির এতে কোনো প্রভাবই নেই—আলাদা ব্যবসা, আলাদা নিয়ন্ত্রণ, আর তা ডিফল্টে চালু।

দুটি বিষয়ে নিখুঁত থাকা দরকার, কারণ অ্যাপলের সমালোচনা প্রায়ই এখানেই মাত্রা ছাড়ায়। অ্যাপলের লক্ষ্যনির্ধারণ গড়ে ওঠে তাদের হাতে আগে থেকেই থাকা তথ্যে, অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপজুড়ে আপনাকে অনুসরণ করে নয়—যা তারা যেটি বন্ধ করেছে তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল ধরনের নজরদারি। আর সেটিংটি বন্ধ করলে বিজ্ঞাপন সরে না; আপনার তথ্য দিয়ে সেগুলো বেছে নেওয়া বন্ধ হয়।

এক ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানই অন্য ধরনের বিজ্ঞাপনের পাহারাদার হবে কি না—প্রশ্নটি ন্যায্য। তবে এটিটির বদলটি পুরোপুরি স্বার্থপ্রণোদিত ছিল বলে যে চালু দাবিটি আছে, দুই সেটিং আসলে কী করে তা দেখলে সেটি টেকে না।

তৃতীয় সুইচ: অ্যানালিটিকস

সেটিংস → প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি → অ্যানালিটিকস অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্টস → শেয়ার আইফোন অ্যানালিটিকস।

আপনার ফোন ক্র্যাশ রিপোর্ট আর ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাপলকে পাঠায়। তিনটির মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম উদ্বেগের—তথ্যটি বিজ্ঞাপনে নয়, প্রকৌশলে ব্যবহার হয় আর সমষ্টিগতভাবে রাখা হয়—তবু এটি ডিফল্টে চালু, আর বন্ধ করলে কিছুই নষ্ট হয় না।

একই পর্দায় আছে শেয়ার উইথ অ্যাপ ডেভেলপারস, যা আপনার ক্র্যাশ তথ্য আলাদা অ্যাপ নির্মাতাদের কাছে পাঠায়, আর সিরি ও ডিকটেশনের উন্নয়ন-সেটিং।

তিনটিই করবেন যেভাবে

  1. সেটিংস → প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি → ট্র্যাকিং-এ গিয়ে অ্যালাউ অ্যাপস টু রিকোয়েস্ট টু ট্র্যাক বন্ধ করুন।
  2. এক ধাপ পিছিয়ে নিচে নেমে অ্যাপল অ্যাডভার্টাইজিং-এ গিয়ে পারসোনালাইজড অ্যাডস বন্ধ করুন।
  3. আবার পিছিয়ে অ্যানালিটিকস অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্টস খুলে শেয়ার আইফোন অ্যানালিটিকস আর শেয়ার উইথ অ্যাপ ডেভেলপারস বন্ধ করুন।

তিন মিনিট, আর আপনার ব্যবহারের কিছুই থেমে যায় না। শুধু বিখ্যাত সুইচটি নয়, তিনটিই জেনে রাখার কারণ হলো—এগুলোর মালিক একই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন অংশ, আর আপনাকে কেবল একটির কথাই বলা হয়েছিল।

সুইচগুলো বন্ধ করার পরও যা থেকে যায়

এই তিনটি সুইচ বিজ্ঞাপনের জন্য তথ্য দেওয়া কমায়। যা কমায় না, তা হলো অ্যাপগুলোর নিজের কাছে থাকা তথ্য—আর বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সেটিই বড় অংশ।

আপনি যে অ্যাপে লগইন করে আছেন, সেটি আপনাকে বিজ্ঞাপন-শনাক্তকারী ছাড়াই চেনে, কারণ আপনি নিজেই নিজের নাম বলে দিয়েছেন। ট্র্যাকিং বন্ধ করলে ওই অ্যাপ অন্য অ্যাপে আপনার আচরণ মেলাতে পারে না, কিন্তু নিজের ভেতরে আপনি কী দেখেছেন, কতক্ষণ ছিলেন, কোথা থেকে ঢুকেছেন—সব জানে।

তাই পরের ধাপটি সেটিংসে নয়, অনুমতিতে: কোন অ্যাপের কাছে অবস্থান, যোগাযোগ-তালিকা, ছবি ও মাইক্রোফোনের অনুমতি আছে তা দেখে নেওয়া, আর যেগুলোর ওই তথ্য দিয়ে কাজ নেই সেগুলোর অনুমতি সরিয়ে দেওয়া। অবস্থানের ক্ষেত্রে "সব সময়" বদলে "অ্যাপ ব্যবহারের সময়" করা একটিমাত্র পরিবর্তন, কিন্তু এটি তিনটি সুইচের চেয়েও বেশি কাজ করে।

সূত্র: অ্যাপলের নিজস্ব গোপনীয়তা নির্দেশিকা ও আইওএস সেটিংস; টমস গাইড; পায়েট ফরোয়ার্ড; আইগিকসব্লগ; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: Apple, iOS Settings documentation, Tom’s Guide, Payette Forward, iGeeksBlog, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।