অস্ত্রোপচারের রোবট নতুন নয়: দ্য ভিঞ্চি সিস্টেম দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপারেশন থিয়েটারে আছে, আর ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল এখন রোবট-সহায়ক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞাপন দেয়। কিন্তু দ্য ভিঞ্চি ঠিক তা-ই করে, যা কনসোল থেকে সার্জনের হাত তাকে বলে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল যা দেখিয়েছে, তা ধরনে আলাদা—এমন একটি রোবট, যা সার্জনদের কাজ দেখেছে আর কাজগুলো নিজে করতে শিখেছে।
চ্যাটবটের মতো প্রশিক্ষণ, লেখার বদলে ভিডিওতে
পদ্ধতিটির নাম ইমিটেশন লার্নিং। প্রতিটি নড়াচড়া ধাপে ধাপে প্রোগ্রাম না করে গবেষকেরা মডেলটিকে খাইয়েছেন দ্য ভিঞ্চি রোবটের কবজিতে বসানো ছোট ক্যামেরার রেকর্ডিং—অভিজ্ঞ সার্জনদের সুচ সামলানো, টিস্যু তোলা ও সেলাইয়ের হাজারো উদাহরণ। মডেল শিখেছে ক্যামেরা যা দেখে, তার সঙ্গে যন্ত্রের যা করা উচিত, তার সম্পর্ক—লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলের মূল রেসিপিই, শব্দের জায়গায় ভিডিও। মিউনিখের রোবট লার্নিং সম্মেলনে উপস্থাপিত ফল: একটি রোবট, যা এই তিনটি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে, আর দলের দাবি, মানব সার্জনের দক্ষতার মাত্রায়।
‘যা আমরা শেখাইনি, তা শিখতেও মডেলটি দারুণ,’ বলেছেন কাজটির নেতৃত্ব দেওয়া যন্ত্র প্রকৌশলের সহকারী অধ্যাপক অ্যাক্সেল ক্রিগার। ‘যেমন সুচ পড়ে গেলে এটি নিজে থেকেই তুলে নিয়ে কাজ চালিয়ে যায়।’ এই সামলে ওঠাটাই চমকপ্রদ অংশ। প্রচলিত অস্ত্রোপচার স্বয়ংক্রিয়তা প্রথম অপ্রত্যাশিত ঘটনাতেই ব্যর্থ হয়; বাস্তব, এলোমেলো ফুটেজে প্রশিক্ষিত মডেল সার্জনদের জিনিস ফেলে চালিয়ে যেতে দেখেছে।
রোবটের সঙ্গে কথা
দলের সদস্য জি উং ‘ব্রায়ান’ কিম যোগ করেছেন, রোবটটি মৌখিক নির্দেশ নিতে তৈরি—‘বাঁয়ে যাও’, ‘ডানে যাও’, ‘এটা করো’—সার্জন যেভাবে জুনিয়রকে বলেন। এতে বাস্তবসম্মত নিকট-ভবিষ্যতের ব্যবহারের ইঙ্গিত: একা অস্ত্রোপচার করা রোবট নয়, বরং এমন একটি, যা প্রক্রিয়ার একঘেয়ে, পুনরাবৃত্ত অংশ সামলায়, আর সার্জন তদারকি করেন, দরকারে হাত দেন।
সীমা, আর বাংলাদেশের দিক
গবেষকেরা নিজেরাই জোর দিচ্ছেন, এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সেলাইয়ে ছোট ভুল গুরুতর আঘাত, আর মডেলটি যাচাই হয়েছে প্রশিক্ষণের কাজে, জীবন্ত রোগীর পূর্ণ অস্ত্রোপচারে নয়। নজরদারি ছাড়া এর কিছু চলার আগে নিয়ন্ত্রকেরা বছরের পর বছরের প্রমাণ চাইবেন। বাংলাদেশের জন্য, যেখানে ঘাটতি রোবটের নয়, প্রশিক্ষিত সার্জনের—বিশেষত ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে—প্রতিশ্রুতিটি দীর্ঘমেয়াদি আর সত্যিকারের: যে ব্যবস্থা প্রমিত ধাপগুলো ধারাবাহিক মানে করতে পারে, তা একজন বিশেষজ্ঞকে জন্মসূত্রে পাওয়া দুই হাতের চেয়ে বেশি প্রক্রিয়া, আর একসময় বেশি জায়গা, তদারকির সুযোগ দিতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রথম আলোর বরাতে।




