বুকের সিটি স্ক্যানে প্রায়ই দেখা যায় একটি নডিউল—ফুসফুসে ছোট একটি ছায়া, যা হতে পারে দাগ, সংক্রমণ, বা প্রাথমিক ক্যানসার। কোনটি ঠিক করা রেডিওলজিস্ট ও একটি স্কোরিং ব্যবস্থার কাজ, আর দুটিই এত ঘন ঘন ভুল করে যে রোগীদের হয় অকারণে বায়োপসি হয়, নয়তো এক বছর পর আসতে বলা হয় আর বছরটি হারান। লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একটি দল এখন এমন মডেল প্রকাশ করেছে, যা কাজটি মাপার মতো ভালো করে।
তাঁরা যা করলেন
লিব্রা গবেষণা প্রায় ৫০০ রোগীর ফুসফুসের নডিউলের সিটি স্ক্যান নিয়ে রেডিওমিক্স—ছবি থেকে শত শত মাপার মতো বৈশিষ্ট্য বের করা, টেক্সচার, গ্রেডিয়েন্ট ও আকৃতি যা চোখ ধরে না—ব্যবহার করে অ্যালগরিদমকে প্রশিক্ষণ দেয় ক্যানসারযুক্ত নডিউলকে নিরীহ থেকে আলাদা করতে। এর কর্মক্ষমতা মাপা হয় এইউসি, বক্ররেখার নিচের এলাকায়, যেখানে ১.০ নিখুঁত শ্রেণীকারক আর ০.৫ কয়েন টস। মডেলের স্কোর ০.৮৭। ক্লিনিশিয়ানরা আজ যে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করেন সেই ব্রক স্কোর একই ঘটনায় ০.৬৭। এটি সামান্য লাভ নয়; কাজের পরীক্ষা আর অনুমানের চেয়ে সামান্য ভালো পরীক্ষার পার্থক্য। ‘আমরা আশা করি এটি ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্ত বাড়াবে আর চিকিৎসা সফল করতে সাহায্য করবে,’ বলেন রয়্যাল মার্সডেনের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি রেজিস্ট্রার ডা. বেঞ্জামিন হান্টার। গবেষণার প্রধান তদন্তকারী ডা. রিচার্ড লি বলেন লক্ষ্য এআই দিয়ে শনাক্তের ‘সীমারেখা ঠেলে সামনে নেওয়া’।
যা এটি নয়
এটি রোগনির্ণয় নয়, আর এখনো পণ্যও নয়। মডেল প্রশিক্ষিত ও পরীক্ষিত একটি হাসপাতাল ব্যবস্থার স্ক্যানে; পরের ধাপ অন্য যন্ত্র ও অন্য জনগোষ্ঠীর স্ক্যানে যাচাই, যেখানে এ ধরনের মডেল প্রায়ই নির্ভুলতা হারায়। ০.৮৭ এইউসি মানে এখনো ভুয়া সতর্কতা ও ফসকানো ঘটনা। আর এটি একটি সংকীর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয়—এই নডিউল কি ক্যানসারের সম্ভাবনায়—ক্লিনিশিয়ান যে বহু অন্য প্রশ্ন করেন তা নয়। একই সপ্তাহে টরন্টো থেকে সম্পর্কিত ফল, যেখানে ইনসিলিকো মেডিসিন কোম্পানির সঙ্গে গবেষকেরা এআই ওষুধ-আবিষ্কার প্ল্যাটফর্মে ৩০ দিনে লিভার ক্যানসারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অণু নকশা করেন; সেটিও শুরু, চিকিৎসা নয়।
বাংলাদেশের ঘটনা
ফুসফুসের ক্যানসার দেশে পুরুষের সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার আর বেশির ভাগ ঘটনায় ধরা পড়ে তিন বা চার পর্যায়ে, যখন সামান্যই করার থাকে। কারণ সিটি স্ক্যানারের ঘাটতি নয়—ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে প্রচুর—বরং রেডিওলজিস্টের ঘাটতি, ১৭ কোটি মানুষের জন্য কয়েক শ, আর স্ক্রিনিংয়ের অনুপস্থিতি। নির্ভরযোগ্যভাবে স্ক্যান পড়া যাচাইকৃত মডেল ঠিক সেই প্রযুক্তি, যা যন্ত্র আছে বিশেষজ্ঞ নেই এমন দেশকে সাহায্য করে, যদি তা এখানকার আসল স্ক্যানার ও রোগীর জন্য গড়া হয়। লিব্রা মডেল এখনো তা নয়। এটি থেকে রংপুরের জেলা হাসপাতালের পথ যায় স্থানীয় যাচাই, নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন ও নেটওয়ার্ক সংযোগের স্ক্যানার দিয়ে—কোনোটি অসম্ভব নয়, কোনোটি শুরু হয়নি।
গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের; বড় পরিসরে ও ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে যাচাই ছাড়া এটি ক্লিনিকে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান, প্রথম আলোর বরাতে।




