ভার্জিনিয়ার অপারেশন ব্লুবার্ড ইনকরপোরেটেড নামের একটি স্টার্টআপ যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক দপ্তরে আবেদন করেছে—টুইটার ও টুইট মার্কে এক্স করপের স্বত্ব বাতিল করতে, এই যুক্তিতে যে সেগুলো পরিত্যক্ত। তারা ওই নাম ব্যবহার করে twitter.new ঠিকানায় একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক চালু করতে চায়।
এক্স করপ ডেলাওয়্যারের ফেডারেল আদালতে স্বত্ব লঙ্ঘনের মামলা করেছে; তারা বলছে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর একটির ওপর বেআইনিভাবে দাবি তোলার চেষ্টা।
স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হলো—স্টার্টআপটি সুযোগসন্ধানী। কথাটি সম্ভবত সত্যি, আর তা ভুল হওয়ার সমান নয়।
পরিত্যাগ প্রমাণে আসলে কী লাগে
মার্কিন ট্রেডমার্ক আইন কোনো নামকে রক্ষা করে না কারণ সেটি আপনার। রক্ষা করে কারণ আপনি নিজের পণ্য চেনাতে বাণিজ্যে সেটি ব্যবহার করেন। ব্যবহার বন্ধ করুন, আর ফেরার অভিপ্রায় না থাকুক—স্বত্ব লোপ পায়; মার্কটি আবার সবার জন্য খালি হয়ে যায়।
এ নিয়ম আছে যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো অব্যবহৃত শব্দভান্ডার গুদামে আটকে রাখতে না পারে। এটি না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের খাতের সম্ভাব্য সব নাম নিবন্ধন করে অনির্দিষ্টকাল বসে থাকতে পারত।
তাই ট্রেডমার্ক দপ্তরের সামনে প্রশ্নটি সরু ও তথ্যনির্ভর: এক্স কি উৎস-পরিচায়ক হিসেবে টুইটার ব্যবহার বন্ধ করেছে, আর ফেরার অভিপ্রায় কি আছে? জনগণ নামটি মনে রেখেছে কি না, তা নয়; স্টার্টআপটির উদ্দেশ্য সাধু কি না, তা-ও নয়।
পরিত্যাগের পক্ষে যুক্তি
অপারেশন ব্লুবার্ডের জেনারেল কাউন্সেল স্টিফেন কোটস আগে টুইটারেই ট্রেডমার্ক আইনজীবী ছিলেন—অর্থাৎ আবেদনটি লিখেছেন এমন একজন, যিনি ঠিক জানেন প্রতিষ্ঠানটির মার্কগুলো কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হতো; আর এটি তুচ্ছ খুঁটিনাটি নয়।
যুক্তিটি হলো, এক্স নিজের পণ্য, সেবা ও বিপণন থেকে ব্র্যান্ডটি সরিয়ে দিয়েছে। অ্যাপ এক্স। লোগো এক্স। প্রতিষ্ঠান এক্স করপ। পোস্ট এখন পোস্টই। পুরোনো ব্র্যান্ডটিকে ইচ্ছাকৃত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মুছে ফেলা—তখন যা দৃঢ়তা হিসেবে দেখানো হয়েছিল—এখন সেটিই প্রমাণ।
বিপক্ষে যুক্তি
এক্সের অবস্থান, "রিব্র্যান্ড মানে ট্রেডমার্ক স্বত্ব পরিত্যাগ নয়"; এর পক্ষে তিনটি নির্দিষ্ট যুক্তি:
- twitter.com এখনো চলে আর লাখ লাখ মানুষ সেটি দিয়েই প্ল্যাটফর্মে পৌঁছান—যা বাণিজ্যে মার্কটির ব্যবহার।
- মানুষ ও ব্যবসা এখনো একে টুইটার বলে, অর্থাৎ জনমনে মার্কটি এখনো সেবাটিকেই চেনায়।
- এক্স নিবন্ধনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োগ করে, যা ছেড়ে দেওয়ার নয়—ধরে রাখার অভিপ্রায়ের প্রমাণ।
প্রথমটিই সবচেয়ে শক্ত। লাখ লাখ মানুষ ব্যবহার করেন এমন একটি রিডাইরেক্ট জীবন্ত বাণিজ্যিক ব্যবহার, আর যে নাম এখনো সেবাটির দিকে ট্রাফিক পাঠাচ্ছে তাকে পরিত্যক্ত বলা কঠিন।
এটি অনুসরণ করার মতো কেন
ফলাফলের জন্য নয়—তা সম্ভবত আপসেই মিটবে—বরং এটি যে প্রশ্নটি তুলতে বাধ্য করছে তার জন্য।
করপোরেট রিব্র্যান্ড এখন ঘন ঘন আর আগ্রাসী—মেটা, অ্যালফাবেট, এক্স, ব্লক। অবসরে পাঠানো নামগুলো বিপুল মূল্যবান আর বাজারে একেবারেই অব্যবহৃত। তৃতীয় কেউ সেগুলোর একটি তুলে নিতে চাইলে কী হয়, তা কখনো পরীক্ষিত হয়নি; আর যেকোনো দিকে স্পষ্ট রায় বদলে দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্র্যান্ড অবসরে পাঠায়।
রিব্র্যান্ডে পুরোনো মার্ক হারানোর ঝুঁকি থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ব্যবহার টিকিয়ে রাখতেই নামমাত্র পণ্য চালু রাখবে। না থাকলে পরিত্যাগের নীতিতে এত বড় ফাঁক তৈরি হবে যে ভালো পরামর্শ পাওয়া যেকোনো প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকাল ট্রেডমার্ক আটকে রাখতে পারবে।
এটি যা নয়
এটি টুইটার ফিরে পাওয়ার পথ নয়। বাতিলের আবেদন সফল হলেও তাতে হাতবদল হবে একটি নাম—সেবা, ব্যবহারকারী বা আর্কাইভ নয়। twitter.new-এ নতুন নেটওয়ার্ক মানে একটি বিখ্যাত শব্দ হাতে থাকা স্টার্টআপ, আর শব্দটিকে অর্থবহ করে তোলা জিনিসগুলোর কিছুই না থাকা—পরিকল্পনার এ অংশটিই সবচেয়ে বেশি সংশয় ডাকে, আর ট্রেডমার্ক দপ্তরের তা বিবেচনা করার কোনো কারণ নেই।
সূত্র: অপারেশন ব্লুবার্ডের ইউএসপিটিও আবেদন; ডেলাওয়্যার জেলা আদালতে এক্স করপের অভিযোগ; মন্ডাক; ম্যান্ডুর অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষণ; স্টোরিবোর্ড১৮; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




