প্রযুক্তি

পরের বছর যুদ্ধক্ষেত্রে চালকহীন ট্রাক পাঠাবে জাতিসংঘ: সুদানে ডব্লিউএফপির তিন কর্মী নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ সুদানে খাদ্যসহায়তা যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয় যানে

ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চে, আর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্ভাবন প্রধান জেনেভায় আইটিইউ সম্মেলনে বললেন সংস্থাটি ২০২৪ থেকে দক্ষিণ সুদানের পথে দূর থেকে চালিত, এআই-নির্দেশিত যান পরীক্ষা করবে—অবরুদ্ধ আলেপ্পোয় জন্মানো ধারণা, যেখানে আকাশ থেকে ত্রাণ খুব ব্যয়বহুল ছিল আর নামানোর জায়গা ছিল না। ট্রাক কীভাবে কাজ করে, দক্ষিণ সুদান কেন, আর বাংলাদেশের নিজের দুর্যোগ লজিস্টিকসে প্রযুক্তিটি কোথায় খাটে।

পরের বছর যুদ্ধক্ষেত্রে চালকহীন ট্রাক পাঠাবে জাতিসংঘ: সুদানে ডব্লিউএফপির তিন কর্মী নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ সুদানে খাদ্যসহায়তা যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয় যানে

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তিন কর্মী এপ্রিলে সুদানে নিহত হন, সেখানকার যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোয়। তাঁরা প্রথম নন: মানবিক কর্মীদের ওপর হামলা এক দশক ধরে বেড়েছে আর এখন, জাতিসংঘ বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চে। সংস্থার উত্তর, এ সপ্তাহে জেনেভায় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের এআই ফর গুড সম্মেলনে ঘোষিত, ট্রাক থেকে চালককে সরানো। ২০২৪ থেকে ডব্লিউএফপি পরীক্ষা করবে স্বয়ংক্রিয় যান, যেখানে মানুষ পাঠানো খুব বিপজ্জনক সেখানে খাবার পৌঁছাতে।

ধারণাটি কোথা থেকে এল

‘কখনো কখনো আমাদের কর্মী বা চালককে এসব জায়গায় পাঠানো বিপজ্জনক হয়ে পড়ে,’ বলেন ডব্লিউএফপির উদ্ভাবন অ্যাক্সিলারেটরের প্রধান বার্নহার্ড কোওয়াটস। ভাবনা শুরু আলেপ্পোয়, তিনি বলেন, ২০১২–২০১৬-র অবরোধে, যখন জাতিসংঘের কর্মীরা শহরে আটকা পড়েন আর খাবার ঢোকাতে পারছিলেন না। আকাশ থেকে ত্রাণ—চিরাচরিত উত্তর—খুব ব্যয়বহুল আর নামাতে বড় খোলা জায়গা লাগে, অবরুদ্ধ শহরে যা ছিল না। দরকার ছিল এমন ট্রাক, যা বিতর্কিত এলাকা দিয়ে জানা পথে কেউ না থেকেই চলতে পারে।

ট্রাক যেভাবে কাজ করবে

ডব্লিউএফপি ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুদানে সরবরাহ পথে প্রায় ৫০টি যান চালায়, যেখানে ৭৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিশ্চয়তায় আর বন্যা বছরের বেশির ভাগ রাস্তা কেটেছে। দুটি প্রকল্পে সংস্থা যানগুলো দূর থেকে চালানোর উপযোগী করবে: এআই ব্যবস্থা স্যাটেলাইট ছবি ও যানের সেন্সর মিলিয়ে পথ আঁকে ও চালানো সামলায়, আর মানব অপারেটর নিরাপদ দূরত্ব থেকে তদারকি করে দরকারে হাল ধরে। কেবিনে কেউ থাকে না। পরীক্ষা শুরু পরের বছর; কাজ করলে মডেলটি অন্য মিশনে ছড়ায়।

কেন শোনায় যতটা তার চেয়ে কঠিন

সান ফ্রান্সিসকোর চালকহীন গাড়ির আছে উচ্চ-রেজল্যুশনের মানচিত্র, লেনের দাগ ও নেটওয়ার্ক; জংলেই রাজ্যে ডব্লিউএফপির পথে তিনটির কোনোটি নেই, আর বন্যায় ডোবা মাটির পথ সপ্তাহে আকার বদলায়। স্যাটেলাইট লিংক দুর্বল অংশ—বৈরী এলাকায় সংযোগ হারানো ট্রাক মূল্যবান মালসহ স্থির লক্ষ্য। আর চালকহীন ট্রাক মানে চেকপোস্টে দরকষাকষি করার কেউ নেই এমন ট্রাকও, যা দক্ষিণ সুদানে কাজের বেশির ভাগ।

বাংলাদেশের কোণ

বাংলাদেশে যুদ্ধক্ষেত্র নেই, কিন্তু ডব্লিউএফপির সমস্যার অন্য অর্ধেক আছে: যেখানে ট্রাক পৌঁছায় না। ঘূর্ণিঝড়ের পর সাতক্ষীরা ও ভোলার উপকূলের ইউনিয়ন দিনের পর দিন দ্বীপ, আর যমুনার চর সব সময় দ্বীপ। এখানে প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি চালকহীন ট্রাক নয়, এর জ্ঞাতি—কার্গো ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় নৌকা—আর কক্সবাজারে নিজের বৃহত্তম কার্যক্রমগুলোর একটি চালানো ডব্লিউএফপি ২০১৮ থেকে সেখানে মানচিত্রে ড্রোন পরীক্ষা করেছে। বন্যার নদী পেরিয়ে ২০ কেজি শুকনো খাবার নেওয়া ড্রোন সুদান দিয়ে স্বচালিত ট্রাকের চেয়ে ছোট ধারণা, আর কাছের।

ঝুঁকিটি কোথায়

পরীক্ষাটি একটি নির্দিষ্ট ঝুঁকির জবাব: মানবিক সরবরাহে সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ গন্তব্য নয়, সেখানে পৌঁছানোর রাস্তা। ত্রাণের গাড়িবহর চেনা পথে চলে, চেনা সময়ে—আর সেটিই তাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। চালকহীন ট্রাকে বিপদের মুখে পড়া গাড়িটি থাকে, মানুষটি থাকে না; প্রশ্নটি হলো, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কিংবা পথ আটকে দিলে যন্ত্রটি কী করবে।

সূত্র: রয়টার্স, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।