প্রযুক্তি

স্কাইপের ২০: যে এস্তোনীয় অ্যাপ আন্তর্জাতিক কল ফ্রি করল, ৮৫০ কোটি ডলারে বিক্রি হলো, আর মহামারি হারাল জুমের কাছে—আর একই তারিখে ব্রিটেনের প্রথম হ্যাকিং আইন

২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট নিকোলাস জেনস্ট্রম, জেনাস ফ্রিস ও চার এস্তোনীয় প্রকৌশলীর ছাড়া স্কাইপ ইন্টারনেটকে ফোনলাইন বানাল, ইবে কিনল ২৬০ কোটি ডলারে আর মাইক্রোসফট ৮৫০ কোটিতে, জুম লকডাউন নেওয়ার আগে শীর্ষে ছিল মাসে ১০ কোটি ব্যবহারকারী। ১৯৯০ সালের ২৯ আগস্ট কার্যকর হয় যুক্তরাজ্যের কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট, দুজন প্রিন্স ফিলিপের মেইলবক্সে হ্যাক করার পর লেখা। দুটি বার্ষিকী, একটি খুবই বাংলাদেশি।

স্কাইপের ২০: যে এস্তোনীয় অ্যাপ আন্তর্জাতিক কল ফ্রি করল, ৮৫০ কোটি ডলারে বিক্রি হলো, আর মহামারি হারাল জুমের কাছে—আর একই তারিখে ব্রিটেনের প্রথম হ্যাকিং আইন

এক প্রজন্মের বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বিদেশের আত্মীয়ের শব্দ ছিল স্কাইপের রিংটোন। যে সফটওয়্যার তা সম্ভব করে, তা ছাড়া হয় বিশ বছর আগে আজ, ২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট, একজন সুইডিশ, একজন ড্যানিশ ও চার এস্তোনীয় প্রোগ্রামারের হাতে—আর স্কাইপের আগে লন্ডন থেকে ঢাকায় কলে মিনিটে লাগত এক পাউন্ড।

স্কাইপ যা করল

নিকোলাস জেনস্ট্রম ও জেনাস ফ্রিস তালিনের একটি দলের সঙ্গে গড়েছিলেন ফাইল-শেয়ারিং নেটওয়ার্ক কাজা—আহতি হেইনলা, প্রিত কাসেসালু, ইয়ান তালিন ও তোইভো আন্নুস। কণ্ঠের জন্য তাঁরা একই পিয়ার-টু-পিয়ার কৌশল নেন: স্কাইপ কলকে ইন্টারনেট প্যাকেট হিসেবে ব্যবহারকারীদের নিজের কম্পিউটারের মধ্যে পাঠাত, তাই প্রায় কোনো অবকাঠামো লাগত না আর কল ফ্রি দিতে পারত। সাধারণ ফোনে কল স্কাইপআউটে পয়সায়; ভিডিও এল ২০০৬ সালে। ইবে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে কেনে ২৬০ কোটি ডলারে, কী করবে কখনো বুঝল না, আর বেশির ভাগ ফেরত বেচল; মাইক্রোসফট ২০১১ সালের মে মাসে দেয় ৮৫০ কোটি ডলার, তখন তার বৃহত্তম অধিগ্রহণ, আর উইন্ডোজ লাইভ মেসেঞ্জারকে এতে মেলায়। ২০২০ সালের মার্চে স্কাইপের মাসে প্রায় ১০ কোটি আর দিনে ৪ কোটি ব্যবহারকারী। তারপর লকডাউন এল, আর দুনিয়া বাছল জুম—যোগ দেওয়া সহজ, বড় দলে ভালো—আর মাইক্রোসফট ব্যবসার ব্যবহারকারীদের ঠেলল টিমসে। স্কাইপের এখন দিনে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ব্যবহারকারী, আর মাইক্রোসফটের মনোযোগ অন্যত্র।

এখানে কেন জরুরি ছিল

বাংলাদেশের এক কোটি মানুষ বিদেশে কাজ করেন, আর স্কাইপের আগে ঘরে সাশ্রয়ী একমাত্র যোগ ছিল কলিং কার্ড আর কল শপের লাইন। স্কাইপ—আর পরে এর মডেল নকল করা ভাইবার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ—প্রবাসীর কলকে সাপ্তাহিক বিলাসিতা থেকে দৈনিক অভ্যাস করল, আর অভিবাসী শ্রমিকের পারিবারিক জীবনের জন্য যেকোনো নীতির চেয়ে বেশি করল। এটি সরাসরি রাষ্ট্রের মুখোমুখিও হলো: বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক কলের আয় রক্ষায় বাংলাদেশে বছরের পর বছর ভিওআইপি বেআইনি ছিল, আর ২০০০-এর দশকের ‘অবৈধ ভিওআইপি’ অভিযান কার্যত স্কাইপ যা করত তা করা মানুষের ওপর অভিযান।

১৯৯০ সালের ২৯ আগস্ট: প্রথম হ্যাকিং আইন

একই তারিখে ১৯৯০ সালে কার্যকর হয় যুক্তরাজ্যের কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট—কম্পিউটারে অননুমোদিত প্রবেশকে অপরাধ করতে বিশেষভাবে লেখা বিশ্বের প্রথম আইন। উসকে দেয় একটি বিব্রতকর ঘটনা: ১৯৮৪ সালে দুজন প্রেস্টেলের এক প্রকৌশলীর পরিচয়পত্রে ডিউক অব এডিনবরার মেইলবক্স পড়েছিলেন, আর আদালত পেল বিদ্যমান কোনো আইন তা ধরে না। আইনটির তিন অপরাধ—অননুমোদিত প্রবেশ, আরও অপরাধের অভিপ্রায়ে প্রবেশ, আর অননুমোদিত পরিবর্তন—হয় বিশ্বের বেশির ভাগ কম্পিউটার-অপরাধ আইনের ছাঁচ, বাংলাদেশের আইসিটি আইন ২০০৬ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-র হ্যাকিং সংক্রান্ত ধারাসহ। ওই আইনগুলোর বিতর্ক অন্য ধারা নিয়ে; হ্যাকিংয়ের বিধান ১৯৯০-এর আইনের অনুবাদ।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।