মহাবিশ্ব কত দিন টেকে, তা ব্যবহারিক পরিণতির প্রশ্ন নয়, কিন্তু গত বছরের চেয়ে ভালো উত্তর পদার্থবিদেরা এখন দিতে পারেন, আর নতুন উত্তরটি ছোট। নেদারল্যান্ডসের র্যাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের হিসাবে মহাজগতের শেষ বস্তুগুলো ক্ষয় হবে প্রায় ১০⁷⁸ বছরে—১-এর পর ৭৮ শূন্য—আগে ধরে নেওয়া ১০¹¹⁰⁰ বছরে নয়। মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১.৪ × ১০¹⁰ বছর, তাই কোনো সংখ্যাই দুশ্চিন্তার নয়। আগ্রহের জায়গা যুক্তিটি।
হকিং বিকিরণ কী
১৯৭৪ সালে স্টিফেন হকিং যুক্তি দেন, কৃষ্ণগহ্বর পুরোপুরি কালো নয়। ঘটনা দিগন্তে কোয়ান্টাম ওঠানামা অবিরত কণার জোড়া তৈরি করে; মাঝেমধ্যে একটি ভেতরে পড়ে আর অন্যটি সামান্য শক্তি নিয়ে পালায়। বিপুল সময়ে এতে কৃষ্ণগহ্বরের ভর চুইয়ে যায়, শেষে সে উধাও। বিকিরণটি পর্যবেক্ষণের জন্য বড্ড ক্ষীণ, কিন্তু তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত পূর্বাভাসগুলোর একটি।
নতুন ধারণা
হাইনো ফ্যালকে, মাইকেল ওন্ড্রাক ও ওয়াল্টার ভ্যান সুইজলেকম প্রশ্ন করলেন, প্রভাবটির জন্য আদৌ ঘটনা দিগন্ত লাগে কি না। তাঁদের আগের কাজের ইঙ্গিত, লাগে না—শক্তিশালী মহাকর্ষ ক্ষেত্রের যথেষ্ট ঘন যেকোনো বস্তু একই রকম বিকিরণ তৈরি করে। জার্নাল অব কসমোলজি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোপার্টিকল ফিজিকসে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় তাঁরা তা প্রয়োগ করলেন নিউট্রন তারা ও শ্বেত বামনে—সাধারণ তারা মরলে যে ঘন অবশেষ থাকে। শ্বেত বামন আগে ছিল মহাবিশ্বের দীর্ঘতম আয়ুর বস্তু, ১০¹¹⁰⁰ বছর টেকার কথা; হকিং-সদৃশ প্রক্রিয়ায় বাষ্পীভূত হলে তারা শেষ ১০⁷⁸ বছরে। বাকি সব ক্ষয় হয় তার আগে। তাতেই নতুন শেষের তারিখ।
সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব কেন
‘এটি জ্যোতিপদার্থবিদ্যা, কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা ও গণিতের সুন্দর সমন্বয়,’ বলেছেন ভ্যান সুইজলেকম। গুরুত্ব তারিখে নয়, তার নিচের দাবিতে: হকিং বিকিরণ মহাকর্ষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য, কৃষ্ণগহ্বরের বিশেষ গুণ নয়। তা টিকলে সব পদার্থের পরিণতি নিয়ে পদার্থবিদদের ভাবনা বদলায়, আর তত্ত্ব পরীক্ষার জন্য একগুচ্ছ নতুন চরম বস্তু মেলে। ‘একদিন আমরা হকিং বিকিরণের রহস্য উন্মোচন করতে চাই,’ তিনি যোগ করেন। মহাবিশ্ব কীভাবে শেষ হয়, তা নিয়ে এখনো জানার অনেক বাকি—কিন্তু একসময় বিকিরণে মিলিয়ে যাওয়া বস্তুর তালিকা সবে লম্বা হলো, আর তাতে এখন সূর্যের নিজের অবশেষও আছে।
সংখ্যাটি কত বড়
১০⁷⁸ কল্পনার বাইরে হলেও একটি তুলনা কাজে আসে: মহাবিশ্বের সব পরমাণুর সংখ্যা প্রায় ১০⁸⁰। অর্থাৎ নতুন আয়ু বছরের হিসাবে মোটামুটি মহাজগতের পরমাণুসংখ্যার সমান—আর পুরোনো ১০¹¹⁰⁰ ছিল তার চেয়ে এত বড় যে লেখার জন্য শূন্যের সংখ্যাই এই অনুচ্ছেদের চেয়ে দীর্ঘ হতো। সময়সীমা ‘এগিয়ে আসা’ তাই একটি অসীমতা থেকে আরেকটিতে যাওয়া; পার্থক্য মানুষের নয়, পদার্থবিজ্ঞানের।
সূত্র: এনডিটিভি, প্রথম আলোর বরাতে।




