প্রযুক্তি

মহাবিশ্বের মেয়াদ ১০¹¹⁰⁰ বছর থেকে নেমে এল ১০⁷⁸-এ—আর গবেষণাপত্রের সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় অংশই এই সংখ্যাটি

শ্বেত বামনের ক্ষেত্রে হকিং-ধাঁচের বাষ্পীভবন প্রয়োগ করেছেন রাডবাউডের পদার্থবিদেরা। শিরোনামের নিচের দাবিটি হলো, বাষ্পীভূত হতে কোনো বস্তুর কৃষ্ণগহ্বরের দিগন্ত লাগে না।

মহাবিশ্বের মেয়াদ ১০¹¹⁰⁰ বছর থেকে নেমে এল ১০⁷⁸-এ—আর গবেষণাপত্রের সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় অংশই এই সংখ্যাটি

নেদারল্যান্ডসের রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্র—প্রকাশিত জার্নাল অব কসমোলজি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোপার্টিকল ফিজিকসে, নেতৃত্বে জ্যোতির্পদার্থবিদ হাইনো ফালকে—মহাবিশ্বের আয়ুর হিসাব প্রায় ১০১১০০ বছর থেকে নামিয়ে এনেছে মোটামুটি ১০৭৮ বছরে।

শিরোনামগুলো একে শুনিয়েছে আগেভাগে আসা দুঃসংবাদের মতো। আসলে কী বদলাল, তা স্পষ্ট করা দরকার—কারণ সংখ্যাটিই সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গবেষণাটি যা করেছে

প্রশ্ন ছিল, মহাবিশ্বের সবচেয়ে টেকসই বস্তুগুলো কত দিন টেকে। শ্বেত বামন—সূর্যের মতো নক্ষত্র জ্বালানি ফুরিয়ে ফেললে পড়ে থাকা ঘন অবশেষ—এর চেনা উত্তর, আর ১০১১০০ বছরের পুরোনো হিসাবটি এসেছিল প্রচলিত উপায়ে সেগুলোর ক্ষয়ে যেতে কত সময় লাগে তা জিজ্ঞেস করে।

রাডবাউডের দলটি ভিন্ন প্রশ্ন করেছে: শ্বেত বামন কি বাষ্পীভূত হয়? হকিং-ধাঁচের বিকিরণ সেগুলোকে কত সময়ে নিঃশেষ করবে, তার হিসাব কষে তাঁরা পেয়েছেন প্রায় ১০৭৮ বছর।

এটি দাঁড়িয়ে আছে আগের একটি ফলের ওপর। ২০২৩ সালের একটি গবেষণাপত্রে ফালকে, মিখায়েল ভনড্রাক ও ওয়াল্টার ফন সাউলেকমের সঙ্গে যুক্তি দিয়েছিলেন, হকিং বিকিরণ কেবল কৃষ্ণগহ্বর থেকেই বেরোয় না—যথেষ্ট ঘন বস্তুও ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হতে পারে, কোনো ঘটনা-দিগন্ত ছাড়াই।

যে দাবিটি নিয়ে তর্ক হওয়ার কথা

কাজটির আসল বিষয়বস্তু এটিই, আর প্রায় কোনো প্রতিবেদনই এটি দিয়ে শুরু করেনি।

হকিংয়ের মূল ফল বাষ্পীভবনকে বাঁধে কৃষ্ণগহ্বরের ঘটনা-দিগন্তের সঙ্গে: ভার্চুয়াল কণার জোড়া সীমানার দুই পাশে আলাদা হয়ে যায়, একটি পালায়, আর কৃষ্ণগহ্বর ভর হারায়। রাডবাউডের অবস্থান হলো, দিগন্তটিই অপরিহার্য উপাদান নয়—স্থানকালের তীব্র বক্রতাই যথেষ্ট; অর্থাৎ যথেষ্ট ঘন যেকোনো বস্তুই যথেষ্ট দীর্ঘ সময়ে শক্তি হারায়।

এটি ঠিক হলে বাষ্পীভবন কৃষ্ণগহ্বরের বিশেষত্ব নয়, বক্র স্থানকালে পদার্থের সাধারণ ধর্ম—আর তখন সবকিছুরই আয়ু কমে যায়। মহাবিশ্বের নতুন তারিখটি ওই দাবির পরিণতি, আবিষ্কারটি নয়।

যা প্রতিষ্ঠিত হয়নি

তিনটি বিষয়, আর সেগুলো শিরোনামের পাশেই থাকা উচিত।

  1. হকিং বিকিরণ কখনো শনাক্ত হয়নি। কৃষ্ণগহ্বর থেকে নয়, কিছু থেকেই নয়। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যুক্তির ওপর দাঁড়ানো তাত্ত্বিক পূর্বাভাস, যা অস্তিত্বে থাকা কোনো যন্ত্রে ধরার পক্ষে বড্ড ক্ষীণ। গোটা হিসাবটিই দাঁড়িয়ে এমন একটি ঘটনার ওপর, কেউ যা মাপেনি।
  2. দিগন্তের বাইরে এর সম্প্রসারণ বিতর্কিত। এ সীমান্তে কাজের ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক, আর পদার্থবিদদের মধ্যে তর্কটি আসলে সেখানেই—পাটিগণিত নিয়ে নয়।
  3. কোনো সংখ্যারই স্বজ্ঞাত কোনো মানে নেই। ১০৭৮ আর ১০১১০০—দুটিই মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স, প্রায় ১০১০ বছর, থেকে এত দূরে যে একটিকে "আগে" বলা কারিগরিভাবে সত্যি আর ব্যবহারিকভাবে অর্থহীন। সূর্য তার অস্তিত্বের চেয়ে ১০৬৮ গুণ বেশি সময় ধরে বিলীন হয়ে থাকবে।

তবু এমন ফল কেন জানানোর মতো

সময়সীমা সরে গেছে বলে নয়। প্রশ্নটি যেভাবে করা হয়েছে, সে কারণে: এক চরম পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠিত একটি কৌশল নিন, সবাই যে শর্তটিকে অপরিহার্য ধরে নিয়েছিল তা আদৌ অপরিহার্য কি না জিজ্ঞেস করুন, আর হিসাব ধরে এগোন। উত্তরটি একটি সংখ্যাকে হাজার মাত্রায় বদলে দিয়েছে—সেটি মহাবিশ্ব খুব পুরোনো হওয়ার পরিণতি, পদার্থবিজ্ঞানটি কত নাটকীয় ছিল তার মাপ নয়।

আর ফলটির সৎ উপস্থাপন শর্তসাপেক্ষ, গবেষকেরা যেভাবে বলেছেন: হকিং-সদৃশ বিকিরণ এভাবে কাজ করলে তবেই কিছুই স্থায়ী নয়—আমরা যেসব বস্তুকে এখন কার্যত চিরস্থায়ী ধরি, সেগুলোসহ।

সূত্র: জার্নাল অব কসমোলজি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোপার্টিকল ফিজিকসে প্রকাশিত গবেষণাপত্র; রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়; স্পেস ডটকম; সায়েন্সঅ্যালার্ট; সাই নিউজ; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: Journal of Cosmology and Astroparticle Physics, Radboud University, Space.com, ScienceAlert, Sci.News, Prothom Alo

লিখেছেন

Tanmay Das

টেক বিডিতে বিজ্ঞান, মহাকাশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে লেখেন তন্ময় দাস — গবেষণার ফল, মহাকাশ অভিযান আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের খবর। কোনো গবেষণা আসলে কী মেপেছে, তিনি তা-ই পড়েন; আর লেখেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য নয়, ঢাকার পাঠকের জন্য তার মানে কী—তা নিয়ে।