প্রযুক্তি

ডেট্রয়েট, লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোতে যাচ্ছে ওয়েমো—২০২৬ সালের শেষে সপ্তাহে ১০ লাখ চালকহীন যাত্রা চায়

ফিনিক্স, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা ও অস্টিনের ওপর আলফাবেটের রোবোট্যাক্সি ইউনিট এ সপ্তাহে আরও তিনটি মার্কিন শহরে পরীক্ষা শুরু করছে, আগামী বছর ডেনভার, মায়ামি, ন্যাশভিল, সিয়াটল, ওয়াশিংটন ও লন্ডন। এখন সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ চালকহীন পেইড যাত্রা, বলছে দশ লাখ করবে। বিস্তার কীভাবে চলে, কারা পেছনে ধাওয়া করছে, আর ঢাকার পাঠক এর থেকে কী নেবেন।

ডেট্রয়েট, লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোতে যাচ্ছে ওয়েমো—২০২৬ সালের শেষে সপ্তাহে ১০ লাখ চালকহীন যাত্রা চায়

গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান আলফাবেটের মালিকানাধীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ির কোম্পানি ওয়েমো এ সপ্তাহে জানাল, তাদের রোবোট্যাক্সি চলা শুরু করবে ডেট্রয়েট, লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোতে, পরীক্ষামূলকভাবে এখনই। কোম্পানিটি গবেষণা থেকে সময়সূচিওয়ালা বাণিজ্যিক বিস্তারে গেছে—এটি তার এ পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্ন। টেকক্রাঞ্চ ডিজরাপ্ট সম্মেলনে কো-প্রধান নির্বাহী টেকেড্রা মাওয়াকানা সংখ্যা দিলেন: ওয়েমো আজ সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ চালকহীন পেইড যাত্রা সম্পন্ন করে আর ২০২৬ সালের শেষে সপ্তাহে দশ লাখে পৌঁছাতে চায়।

একটি শহর যেভাবে চালু হয়

প্রক্রিয়াটি প্রতিটি শহরে এক আর ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর। প্রথমে মানব নিরাপত্তা-চালকসহ গাড়ি রাস্তার বিস্তারিত মানচিত্র আঁকে—লেন, সিগন্যাল, কার্ব, যেখানে ডেলিভারি ভ্যান সব সময় দুই সারিতে দাঁড়ায়। তারপর চালক সরিয়ে গাড়ি চলে খালি, পুরো স্বয়ংক্রিয়, প্রকৌশলীরা দেখেন। এরপর যাত্রা খোলে ওয়েমোর কর্মী, সাংবাদিক ও ছোট একদল আমন্ত্রিত ব্যবহারকারীর জন্য, তারপরই সাধারণের জন্য। নতুন তিন শহরে বহর হবে জাগুয়ার আই-পেস বৈদ্যুতিক এসইউভি ও নতুন জিকার আরটি ভ্যান, ক্যামেরা, রাডার ও লিডারসহ। ডেট্রয়েট বিশেষ পরীক্ষা: তুষারে ব্যবস্থা প্রমাণ করতে ওয়েমো সেখানে কয়েক শীত গাড়ি চালিয়েছে। লাস ভেগাসের মেয়র শেলি বার্কলি আগমনকে বলেছেন ‘পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়’, বরং বাসিন্দা ও শহরের লাখো দর্শনার্থীর জন্য নিরাপদ, আধুনিক পরিবহনের বিকল্প।

এ পর্যন্ত মানচিত্র

ওয়েমোর প্রথম বাণিজ্যিক সেবা খোলে ফিনিক্সে, তারপর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলেস। গত বছর উবারের সঙ্গে অংশীদারত্বে যোগ হয় আটলান্টা ও অস্টিন—উবারের অ্যাপ ওয়েমোর গাড়ি পাঠায়। ২০২৬ সালের তালিকায় ডেনভার, মায়ামি, ন্যাশভিল, সিয়াটল, ওয়াশিংটন ডিসি আর—যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম শহর—লন্ডন। গতির কৃতিত্ব কোম্পানি দেয় শহর ধরে ধরে নয়, সাধারণীকৃত একটি চালনা ব্যবস্থাকে।

প্রতিযোগিতা

ওয়েমো অনেক এগিয়ে, তবে একা নয়। অ্যামাজনের মালিকানাধীন জুক্স লাস ভেগাসে নিজেদের বিশেষ নকশার পডে বিনা মূল্যে যাত্রা দিচ্ছে। টেসলা অস্টিনের কিছু অংশে সীমিত রোবোট্যাক্সি সেবা চালায়, গাড়িতে এখনো নিরাপত্তা-পর্যবেক্ষকসহ, আর অনেক বেশি কিছুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনের ব্যবধান মাপা হয় মানুষ ছাড়া পেইড যাত্রায়, আর সেই মাপে কেবল ওয়েমোর কাছে উদ্ধৃত করার মতো সংখ্যা আছে।

ঢাকার দৃষ্টিকোণ

এর কিছুই শিগগির ঢাকায় আসছে না; যে ব্যবস্থার দরকার আঁকা লেন, চালু সিগন্যাল ও পূর্বানুমেয় পথচারী, তা ফার্মগেটের দেখা পায়নি। কিন্তু লাস ভেগাসে প্রমাণিত হতে থাকা প্রযুক্তিই একসময় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বাস বা পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কে ট্রাক চালাবে, আর ব্যবসার মডেল—প্ল্যাটফর্মের মালিকানার বহর, চালককে দেওয়ার কিছু নেই—এমন, যার হিসাব পাঠাও ও উবারের স্থানীয় কার্যক্রমকে এই দশকের মধ্যেই করতে হবে।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।