নিজেদের রোবোট্যাক্সি সেবা সান দিয়েগো, লাস ভেগাস ও ডেট্রয়েটে নিয়ে যাচ্ছে ওয়েইমো; বহরে থাকবে পঞ্চম প্রজন্মের ওয়েইমো ড্রাইভারে চলা বৈদ্যুতিক জাগুয়ার আই-পেস আর ষষ্ঠ প্রজন্মে চলা পরবর্তী প্রজন্মের জিকার আরটি।
এর দুটি শহর গতানুগতিক। তৃতীয়টিই আকর্ষণীয়।
ওয়েইমো যে সংখ্যাগুলো প্রকাশ করে
প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা-দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট, আর মাইল বাড়ার সঙ্গে সেগুলোও বেড়েছে। ১০ কোটির বেশি সম্পূর্ণ স্বচালিত মাইলে ওয়েইমো জানিয়েছিল, মানুষচালিত গাড়ির তুলনায় গুরুতর আঘাতের দুর্ঘটনা ৮৮ শতাংশ কম। পরে ২২ কোটির বেশি স্বচালিত মাইল নিয়ে করা এক সমীক্ষায় এসেছে:
- গুরুতর বা প্রাণঘাতী আঘাতের দুর্ঘটনা ৯৪ শতাংশ কম
- এয়ারব্যাগ খুলেছে এমন দুর্ঘটনা ৮২ শতাংশ কম
- যেকোনো ধরনের আঘাতের দুর্ঘটনা ৮২ শতাংশ কম
পরিসরের হিসাব: এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে আড়াই লাখ যাত্রা ছাড়িয়েছিল, আর সহ-প্রধান নির্বাহী টেকেড্রা মাওয়াকানা বলেছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ লক্ষ্য সপ্তাহে দশ লাখ যাত্রা।
এই হিসাব যা প্রতিষ্ঠা করে, আর যা করে না
ফলটি সত্যিই শক্তিশালী আর তা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়—২২ কোটি মাইল বড় নমুনা, আর হ্রাসের মাত্রাগুলো এত বড় যে তা নিছক ওঠানামা হতে পারে না।
পাশে দুটি শর্ত রাখা দরকার। প্রথমত, এগুলো প্রতিষ্ঠানেরই প্রকাশ করা, নিজেদের পদ্ধতিতে, নিজেদের গড়া মানব-চালকের তুলনাসূত্রের বিপরীতে। এ শিল্পে এটি স্বাভাবিক, কারণ তুলনাযোগ্য উপাত্ত কোনো নিয়ন্ত্রক সংগ্রহ করে না—তবু এটি স্বাধীন যাচাই নয়।
দ্বিতীয়ত, আর এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ওই মাইলের প্রায় পুরোটাই জমেছে ফিনিক্স, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অস্টিনে। এগুলো মৃদু শীতের জায়গা, তুষার কম, আর টানা রাস্তার লবণ বা বরফ নেই। সান দিয়েগো ও লাস ভেগাস একই পরিস্থিতিরই সম্প্রসারণ।
ডেট্রয়েট নয়। তুষার লেন-চিহ্ন ঢেকে দেয়, আর এসব ব্যবস্থা পাশের অবস্থান ঠিক করে ওই চিহ্ন দিয়েই। গলা বরফ আর লবণের ছিটা সেন্সর ঢেকে ফেলে। বরফ থামার দূরত্ব এমনভাবে বদলায়, যা গাড়িকে আগেই আন্দাজ করতে হয়—টের পেলে চলে না। শুকনো পিচের ওপর গড়া নিরাপত্তা-রেকর্ড আপনাআপনি স্থানান্তরিত হয় না, আর প্রকৃত শীতে ওয়েইমোর প্রকাশ্য স্বচালিত মাইল অনেক কম।
এ কারণেই তালিকার সবচেয়ে তথ্যবহ মোতায়েন ডেট্রয়েট—আর তিন শহরের শিরোনামের চেয়ে নজর রাখার মতোও সেটিই।
নিয়ন্ত্রণের যে ধাপটি কেউ জানায়নি
নেভাদা বা মিশিগান—কোনোটিরই ছাড়পত্র এখনো মেলেনি। চালু করার আগে ওয়েইমোর দরকার নেভাদার মোটরযান বিভাগের পরীক্ষা-অনুমোদন আর মিশিগানে পরিবহন নেটওয়ার্ক কোম্পানির অনুমতি। ঘোষণাটি একটি অভিপ্রায়, চালুর তারিখ নয়—আর এ খাতে দুটি আগেও আলাদা হয়ে গেছে।
সপ্তাহে দশ লাখের লক্ষ্যটি আসলে যা বোঝায়
এক বছরের কম সময়ে আড়াই লাখ থেকে দশ লাখ সাপ্তাহিক যাত্রা মানে মোটামুটি চার গুণ বৃদ্ধি। এটি মূলত সফটওয়্যারের সমস্যা নয়। এটি গাড়ি, ডিপো, চার্জিং, পরিষ্কার, দূর-সহায়তার কর্মী আর রক্ষণাবেক্ষণ—সেই জৌলুশহীন পরিচালন স্তর, যা ঠিক করে স্বচালিত বহর একটি ব্যবসা না কি প্রদর্শনী। জাগুয়ারের পাশে জিকার আরটির আসা দেখিয়ে দেয় বাধাটি আসলে কোথায়: গাড়ি কিনে প্রস্তুত করার চেয়ে দ্রুত বহর বাড়ানো যায় না।
সূত্র: ওয়েইমোর নিরাপত্তা প্রতিবেদন; টেকক্রাঞ্চ; অটোমোটিভ ওয়ার্ল্ড; ইউইক; ক্লেইমস জার্নাল; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




