বিশ্ব

টুইটারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁর উসকানিমূলক আচরণের জন্য টুইটার কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফ্লোরিডার আদলতে মামলা দায়ের করে টুইটারে তাঁর অ্যাকাউন্ট আবার চালু করার ব্যাপারে আদালতের নির্দেশ কামনা করেছেন।

টুইটারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা

হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অপরিবর্তিত। মামলাটি খারিজ হয়েছিল, কিন্তু এর উল্টো প্রশ্নটিতে আদালত ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছে—আর সেই পার্থক্যটিই আজকের কাজের আইন। কীভাবে শেষ হলো, তা মূল প্রতিবেদনের নিচে।

ট্রাম্পের আইনজীবী জন কোয়েইল গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, টুইটারের আইন অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অ্যাকাউন্ট ফিরে পাবেন। তবে টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন রয়েছে। এ আইনে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আরোপিত শর্ত সরকারি লোকজনের বেলায় প্রযোজ্য নয় বলে উল্লেখ আছে।

কোয়েইল আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে ট্রাম্প চেয়েছিলেন তাঁর অ্যাকাউন্টে কিছু লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য। সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য বিষয়টি অনুমোদিত হলেও সরকারি অ্যাকাউন্টের বেলায় সে সুযোগ নেই। আবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল সরকারের আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগের এমন পথ টুইটার বন্ধ করে দিতে পারে না বলে মামলায় বলা হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারের অ্যাকাউন্ট চালু করেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তাঁর অ্যাকাউন্ট সরকারি হয়ে যায়। এর মাধ্যমেই ট্রাম্প জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যকে দায়ী করা হয়। এর জের ধরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে নিষিদ্ধ হয়ে আছেন ট্রাম্প। পরে নিজেই সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম গড়ে তুলবেন বলে ঘোষণা দেন। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর এ নিয়ে তাঁর পক্ষের একাধিক উদ্যোগ সাফল্যের মুখ দেখেনি।

ফ্লোরিডার আদালতে বেশ কৌশলেই মামলা দায়ের করা হয়েছে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে। টুইটারের প্রধান কার্যালয় ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও এখন ফ্লোরিডায় বসবাস করেন ট্রাম্প। মামলাটি যাতে স্থানান্তরিত না হতে পারে, এ জন্যই নিজের এলাকাতেই মামলা করেছেন ট্রাম্প।

আইনজীবী কোয়েইল বলেছেন, এখন সময় এসেছে আইনের মাধ্যমে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বশে নিয়ে আসার। তাদের ইচ্ছামাফিক কাজকর্ম করতে দেওয়া যায় না।

এরপর যা হলো

হালনাগাদ, সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলাটি টেকেনি। ২০২২ সালের মে মাসে সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল বিচারক জেমস ডোনাটো তা খারিজ করেন এই যুক্তিতে যে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারের ওপর প্রযোজ্য, টুইটারের মতো বেসরকারি কোম্পানির ওপর নয়—কোম্পানি নিজের প্ল্যাটফর্ম থেকে কাকে বাদ দেবে, তা তার নিজের সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প এর মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল চালু করেন। অ্যাকাউন্টটি ফেরে আদালতের নয়, মালিকানা বদলের পথে: ইলন মাস্ক ২০২২ সালের অক্টোবরে টুইটার কেনার পর নভেম্বরে এক টুইটার ভোটের ভিত্তিতে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট পুনর্বহাল করেন। ট্রাম্প তবু প্রায় দুই বছর ট্রুথ সোশ্যালেই থাকেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে, নির্বাচনী প্রচারের সময়, এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিয়মিত পোস্ট শুরু করেন। ফেসবুক ও ইউটিউবও ২০২৩ সালে তাঁর অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেয়।

যে পার্থক্যটি আদালত টেনেছে

মামলার যুক্তি ছিল, সরকারি কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট রাখার কারণে টুইটার কার্যত রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে, কাজেই তার ওপর প্রথম সংশোধনী খাটে। আদালত তা মানেনি। বেসরকারি প্ল্যাটফর্ম কাকে রাখবে আর কাকে বাদ দেবে, সেটি তার নিজের সিদ্ধান্ত।

অথচ কাছাকাছি একটি প্রশ্নে ফল হয়েছে উল্টো। যখন কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে নাগরিকদের ব্লক করেন, আদালত সেটিকে রাষ্ট্রীয় কাজ হিসেবেই দেখেছে—কারণ সেখানে ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন কর্মকর্তা নিজে, প্ল্যাটফর্ম নয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এর জন্য একটি পরীক্ষা দাঁড় করায়: কর্মকর্তা অ্যাকাউন্টটি দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন কি না, আর তা করার এখতিয়ার তাঁর ছিল কি না।

দুটি সিদ্ধান্ত একসঙ্গে পড়লে রেখাটি পরিষ্কার। প্ল্যাটফর্মের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত। একই পর্দায় ঘটলেও দুটি আইনত আলাদা।

বাংলাদেশে প্রশ্নটি কোথায় দাঁড়ায়

এ দেশে সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয় ও জনপ্রতিনিধিদের ফেসবুক পেজই অনেক ক্ষেত্রে নোটিশ প্রকাশের প্রধান জায়গা। সেখান থেকে মন্তব্য মুছে দেওয়া বা কাউকে ব্লক করা হলে প্রশ্নটি একই: এটি কি একটি পেজের ব্যবস্থাপনা, নাকি নাগরিকের কাছ থেকে সরকারি তথ্য আটকানো?

বাংলাদেশে এ নিয়ে কোনো নজির নেই, কারণ প্রশ্নটি আদালতে ওঠেনি। তবে যত বেশি সরকারি যোগাযোগ বেসরকারি প্ল্যাটফর্মে সরছে, ততই এটি কল্পনার প্রশ্ন থাকছে না—আর কোনো দপ্তর নিজের পেজের বাইরে একই নোটিশ প্রকাশ না করলে, ব্লক করা নাগরিকের কাছে তথ্যটি পৌঁছানোর আর কোনো পথ থাকে না।

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।