চার শ বছর আগে আজ, ১৬২৩ সালের ১৯ জুন, ফ্রান্সের ক্লেরমঁ-ফেরাঁয় জন্ম ব্লেইজ প্যাসক্যালের। বেঁচেছিলেন মাত্র ৩৯ বছর আর তাতে দিয়েছেন সম্ভাব্যতার তত্ত্ব, হাইড্রলিক প্রেস, সিরিঞ্জ, শূন্যস্থানের প্রমাণ, এখনো পড়া একটি দর্শন, আর—প্রযুক্তির সাইটে তিনি যে কারণে—প্রথম কাজ করা যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর।
প্যাসক্যালাইন
বাবা এতিয়েন ছিলেন রুঁয়োর কর কমিশনার, আর ১৬৪০-এর দশকে কাজটি ছিল পাটিগণিত: লিভর, সু ও দেনিয়ের যোগফলের কলাম, হাতে করা আর হাতে যাচাই। ১৬৪২ সালে, ১৮ বছর বয়সে, প্যাসক্যাল তাঁকে একটি যন্ত্র বানিয়ে দেন। প্যাসক্যালাইন জুতার বাক্সের মাপের পিতলের বাক্স, ওপরে এক সারি সংখ্যা লেখা ডায়াল; কলমে ডায়াল ঘুরিয়ে অঙ্ক ঢোকান, আর গিয়ারের কৌশল দশক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়ে নেয়, যাতে যোগফল ওপরের ছোট জানালায় আসে। সরাসরি যোগ ও বিয়োগ করত আর বারবার যোগে গুণ করতে পারত। পরের দশক তিনি একে শোধরান আর নিজে প্রায় বিশটি বানান; সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশটি তৈরি হয়, আর আটটি টিকে আছে, চারটি প্যারিসের মুজে দেজার্ত এ মেতিয়েতে, দুটি ড্রেসডেনের ৎসভিঙ্গারে। সংখ্যায় বেচার মতো তা খুব দামি ছিল—হাতিয়ারের বদলে ধনীর মর্যাদার বস্তু—কিন্তু এর আনা ক্যারি কৌশলই সেই ধারণা, যার ওপর লাইবনিৎস, ব্যাবেজ আর ইলেকট্রনিক যুগ পর্যন্ত প্রতিটি যোগযন্ত্র গড়েছে।
১৯ জুন ২০০৯: ফার্মভিল
একই তারিখে ২০০৯ সালে নির্মাতা জিনগা ফেসবুকে ছাড়ে ফার্মভিল: খেতে হাল দিন, ফসল লাগান, ট্রাক্টর কিনুন, গরু পালুন, আর কাল ফিরে আসুন কারণ না এলে স্ট্রবেরি শুকিয়ে যাবে। ছিল ফ্রি, চলত ফ্ল্যাশে, আর সত্যিকারের টাকায় বেচত ‘ফার্ম ক্যাশ’—প্রথম গণবাজারের ফ্রিমিয়াম গেমগুলোর একটি। সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুকের সবচেয়ে খেলা গেম হয় আর দুই বছরের বেশি এক নম্বরে থাকে; ২০১০ সালের মার্চের শীর্ষে মাসে ৮ কোটি ৩৭ লাখ খেলোয়াড় আর দিনে ৩ কোটি ৪৫ লাখ। পতন শুরু ২০১১ সালে, ২০১৬-তে নামে ১১০তমে, আর ফেসবুক ফ্ল্যাশ ছাড়লে জিনগা ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসলটি বন্ধ করে। ফার্মভিল ২ ও ৩ মোবাইল অ্যাপ হয়ে বেঁচে আছে।
দুটির মিল
দুটিই পুনরাবৃত্তি থেকে মূল্য বের করার যন্ত্র। প্যাসক্যালেরটি একঘেয়ে কাজকে দ্রুত করে; জিনগারটি একঘেয়ে কাজকে নেশা করে, আর এর আসল উদ্ভাবন—টাইমার, এনার্জি বার, প্রতিবেশীর সাহায্য দরকার এমন নোটিফিকেশন—আজ বাংলাদেশের প্রতিটি ফোনের প্রতিটি ফ্রি গেমের নকশা, ফ্রি ফায়ার থেকে লুডো কিং। প্যাসক্যাল যন্ত্রটি দেন ক্ষমতাবানদের। জিনগা দেয় সবাইকে আর দাম নেয় স্ট্রবেরির।
তাঁর আরেক উদ্ভাবন, যার ওপর কম্পিউটিংও দাঁড়িয়ে
ক্যালকুলেটরটিই বিখ্যাত যন্ত্র, তবে প্যাসক্যালের আরও সুদূরপ্রসারী কাজটি হয়েছিল কাগজে। মাঝপথে থেমে যাওয়া বাজির খেলায় পণ কীভাবে ভাগ হবে—ফের্মার সঙ্গে এই চিঠি চালাচালিতে তিনি ভিত্তি গড়ে দেন সম্ভাব্যতার তত্ত্বের; যা এখনো ঘটেনি এমন কিছু নিয়ে যুক্তি করার গণিত।
আধুনিক কম্পিউটিংয়ের বড় অংশের ভিত্তি শেষ পর্যন্ত সেটিই। ত্রুটি-সংশোধনী কোড, ক্রিপ্টোগ্রাফি, সার্চের ক্রম, স্প্যাম ছাঁকনি আর আজ ব্যবহৃত প্রতিটি মেশিন লার্নিং মডেল—সবই প্রয়োগকৃত সম্ভাব্যতা। পরের টোকেন অনুমান করা একটি ভাষা মডেল বিপুল মাত্রায় সেই কাজটিই করছে, তাসের খেলার জন্য প্যাসক্যাল যা বের করছিলেন।
তাঁর নামে একটি প্রোগ্রামিং ভাষাও আছে, যা এক প্রজন্মের শিক্ষার্থীকে শিখিয়েছে কাঠামোবদ্ধ প্রোগ্রামিং—যে কিশোর বাবাকে হাতে হিসাব কষা থেকে বাঁচাতে যন্ত্র বানিয়েছিলেন, তাঁর জন্য মানানসই তৃতীয় অঙ্ক।




