প্রযুক্তি

৮২-তে স্ট্যানলি মাজর: যে প্রোগ্রামার পুরো কম্পিউটারকে একটি চিপে বসাতে সাহায্য করলেন—জাপানি ক্যালকুলেটরের জন্য গড়া ইনটেল ৪০০৪, আর তারপরের সবকিছু

১৯৪১ সালের ২২ অক্টোবর শিকাগোয় জন্মানো মাজর সান ফ্রান্সিসকো স্টেটে গণিত পড়েন, ১৯৬৪ সালে প্রোগ্রামার হিসেবে ফেয়ারচাইল্ডে ও ১৯৬৯ সালে ইনটেলে যোগ দেন, আর টেড হফ ও ফেদেরিকো ফ্যাগিনের সঙ্গে এক ক্যালকুলেটর নির্মাতার বারোটি কাস্টম চিপের ফরমাশকে বদলান ৪০০৪-এ, প্রথম বাণিজ্যিক মাইক্রোপ্রসেসর। পরে স্ট্যানফোর্ড, কেটিএইচ ও স্টেলেনবশে পড়ান আর চিপ-নকশার ভাষার পাঠ্যবই সহলেখেন। চিপটির গল্প, আর একটি ক্যালকুলেটর কোম্পানি কেন প্রায় এর মালিক হয়েছিল।

৮২-তে স্ট্যানলি মাজর: যে প্রোগ্রামার পুরো কম্পিউটারকে একটি চিপে বসাতে সাহায্য করলেন—জাপানি ক্যালকুলেটরের জন্য গড়া ইনটেল ৪০০৪, আর তারপরের সবকিছু

স্ট্যানলি মাজরের জন্ম ১৯৪১ সালের ২২ অক্টোবর শিকাগোয়, যাতে আজ তিনি ৮২। মাইক্রোপ্রসেসরের উদ্ভাবনে যে চারজনকে কৃতিত্ব দেওয়া হয় তিনি তাঁদের একজন—যে ধারণা, এখন এত স্পষ্ট যে ধারণা হিসেবে দেখা কঠিন, যে পুরো কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণ সিলিকনের একটি চিপে গড়া যায়—আর চারজনের মধ্যে তিনিই প্রকৌশলীর বদলে প্রোগ্রামার হিসেবে এতে এসেছেন।

ফেয়ারচাইল্ড থেকে ইনটেল

মাজর সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গণিত পড়ে ১৯৬৪ সালে প্রোগ্রামার হিসেবে ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টরে যোগ দেন, এর গবেষণা দলে গিয়ে কাজ করেন সিম্বল কম্পিউটারে, উচ্চস্তরের ভাষাকে হার্ডওয়্যারে বসানোর চেষ্টা করা উচ্চাভিলাষী যন্ত্র। ১৯৬৯ সালে ফেয়ারচাইল্ডের প্রতিষ্ঠাতাদের অনুসরণ করে যান তাঁদের নতুন কোম্পানি ইনটেলে, যা তখন প্রসেসরে আগ্রহহীন একটি মেমোরি-চিপ নির্মাতা।

যে ক্যালকুলেটর কম্পিউটার হলো

সে বছর জাপানি কোম্পানি বুসিকম একটি ডেস্কটপ ক্যালকুলেটরের জন্য বারোটি কাস্টম চিপের সেট ফরমাশ দেয়। ইনটেলের টেড হফ প্রস্তাব করেন অন্যভাবে: প্রতিটি একটি কাজে তার করা বারোটি চিপের বদলে একটি সাধারণ-উদ্দেশ্যের প্রসেসর চিপ, যা প্রোগ্রাম চালাবে, ক্যালকুলেটরের কাজ সফটওয়্যারে লেখা। মাজর হফের সঙ্গে কাঠামোয় কাজ করেন আর ইনস্ট্রাকশন সেট ও তা প্রমাণ করা সফটওয়্যারের অনেকটা লেখেন; ১৯৭০ সালে যোগ দেওয়া ফেদেরিকো ফ্যাগিন বুসিকমের মাসাতোশি শিমার সঙ্গে করেন সেই সার্কিট নকশা, যা একে গড়ার মতো করে। ফল, ইনটেল ৪০০৪, সরবরাহ ১৯৭১: ২,৩০০ ট্রানজিস্টর, ৪-বিট, ৭৪০ কিলোহার্টজে, নখের মাপের চিপে মোটামুটি এনিয়াকের শক্তি। নকশার মালিক বুসিকম। ইনটেল, হাতে কী আছে দেখে, ৬০ হাজার ডলারে স্বত্ব ফেরত কেনে আর ১৯৭১ সালের নভেম্বরে ৪০০৪-কে বিজ্ঞাপন দেয় ‘সমন্বিত ইলেকট্রনিকসের নতুন যুগ’ হিসেবে। তারপরের প্রতিটি প্রসেসর—৮০৮০, এক্স৮৬ সারি, এআরএম, আপনার ফোনের চিপ—সেই সিদ্ধান্তের বংশধর।

শিক্ষক

মাজর ১৯৭৭ সালে ইনটেলের কারিগরি প্রশিক্ষণ দলে যান আর বাকি ক্যারিয়ার কাটান মূলত শিক্ষক হিসেবে: স্ট্যানফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব সান্তা ক্লারা, স্টকহোমের কেটিএইচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৪ সালে সিলিকন কম্পাইলার সিস্টেমসে আর ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সিনোপসিসে, যেখানে সহলেখেন হার্ডওয়্যার বর্ণনা ভাষার মানক পাঠ্যবই—যে ভাষায় এখন চিপ নকশা হয়। ১৯৯৫ সালে আইইইই তাঁকে কার্যবিবরণীর জন্য মাইক্রোকম্পিউটারের ইতিহাস লিখতে ডাকে; ১৯৯৭ সালে হফ, ফ্যাগিন ও শিমার সঙ্গে কিয়োটো পুরস্কার আর ২০১০ সালে ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি পান।

পাদটীকা

বাংলাদেশে চিপশিল্প নেই, কিন্তু ক্রমেই আছে চিপ নকশাকার: ঢাকায় কয়েক শ প্রকৌশলী এখন ক্যালিফোর্নিয়া ও তাইওয়ানের ডিজাইন হাউসের জন্য হার্ডওয়্যার বর্ণনা কোড লেখেন—ভেরিলগ ও ভিএইচডিএলে, মাজরের বইয়ের ভাষা—আর সরকার সেমিকন্ডাক্টর নকশা খাত নিয়ে কথা শুরু করেছে। তাঁদের প্রত্যেকে এমন শাখায় কাজ করেন, যা একটি মেমোরি কোম্পানির প্রোগ্রামার একটি ক্যালকুলেটরে বারোটি চিপ কেন লাগে জিজ্ঞেস করে উদ্ভাবনে সাহায্য করেছেন।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।