প্রযুক্তি

৩০ জানুয়ারি: মাউসের উদ্ভাবকের জন্ম, কম্পিউটারের প্রথম মৌলিক সংখ্যা খুঁজে পাওয়া, আর উইন্ডোজ ভিসতার আগমন

১৯২৫ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া ডগলাস এঙ্গেলবার্ট ১৯৬৮ সালের একটি উপস্থাপনায় মাউস, হাইপারটেক্সট ও ভিডিও কনফারেন্সিং দেখান—শিল্প যাকে আজও বলে ‘মাদার অব অল ডেমোস’। একই তারিখে ১৯৫২ সালে এসডব্লিউএসি কম্পিউটার দুটি নতুন মৌলিক সংখ্যা পায় আর ২০০৭ সালে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ভিসতা ছাড়ে। তিনটি গল্প, একটি তারিখ।

৩০ জানুয়ারি: মাউসের উদ্ভাবকের জন্ম, কম্পিউটারের প্রথম মৌলিক সংখ্যা খুঁজে পাওয়া, আর উইন্ডোজ ভিসতার আগমন

কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসে কিছু তারিখ কাকতালে ভারী। ৩০ জানুয়ারি তেমনই একটি: এটি দিয়েছে পর্দায় জিনিস দেখানোর উপায় উদ্ভাবন করা মানুষটিকে, যন্ত্রের খুঁজে পাওয়া প্রথম মৌলিক সংখ্যাগুলোকে, আর মাইক্রোসফটের সবচেয়ে তর্কিত অপারেটিং সিস্টেমগুলোর একটিকে।

১৯২৫: ডগলাস এঙ্গেলবার্টের জন্ম

এঙ্গেলবার্টের জন্ম অরেগনের পোর্টল্যান্ডে, ১৯৪৮ সালে অরেগন স্টেট থেকে স্নাতক, বার্কলে থেকে স্নাতকোত্তর (১৯৫৩) ও পিএইচডি (১৯৫৫)। ১৯৬৮ সালের ৯ ডিসেম্বর সান ফ্রান্সিসকোর একটি কম্পিউটার সম্মেলনে তিনি ও স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তাঁর দল নব্বই মিনিটের একটি প্রদর্শনী দেন, যাতে জনসমক্ষে প্রথমবার দেখা যায় কম্পিউটার মাউস, উইন্ডো, হাইপারটেক্সট লিংক, সহযোগী সম্পাদনা ও ভিডিও কনফারেন্সিং—আধুনিক ডেস্কটপ যা করে তার প্রায় সব, বেশির ভাগ বাজারে আসার বিশ বছর আগে। উপস্থাপনাটিকে আজও বলা হয় ‘মাদার অব অল ডেমোস’। এঙ্গেলবার্ট গড়েন বুটস্ট্র্যাপ ইনস্টিটিউট, নামে বিশটির মতো পেটেন্ট, পেয়েছেন টুরিং পুরস্কার (১৯৯৭), যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি (২০০০), লেমেলসন–এমআইটি প্রাইজ ও বিসিএস লাভলেস মেডেল (২০০১)। মৃত্যু ২০১৩ সালে। মাউসটি—দুই চাকার একটি কাঠের টুকরো—তাঁকে কিছুই দেয়নি: যন্ত্রটি সর্বজনীন হওয়ার আগেই পেটেন্টের মেয়াদ ফুরায়।

১৯৫২: কম্পিউটার পেল দুটি মৌলিক সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যান্ডার্ডসের ১৯৫০ সাল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গড়া স্ট্যান্ডার্ডস ওয়েস্টার্ন অটোমেটিক কম্পিউটার ছিল বিশুদ্ধ গণিতে তাক করা প্রথম যন্ত্রগুলোর একটি। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, প্রথম চেষ্টাতেই, এটি চিহ্নিত করে দুটি নতুন মার্সেন মৌলিক সংখ্যা—২ⁿ−১ আকারের, কোনো ভাজকহীন সংখ্যা—হাতে পাওয়া যেকোনোটির চেয়ে বড়। বছরের মধ্যে আরও তিনটি। মৌলিক সংখ্যার খোঁজ তখন থেকে কম্পিউটারেরই; আজকের বৃহত্তম জানা মৌলিক সংখ্যায় কোটি কোটি অঙ্ক, খুঁজে পায় স্বেচ্ছাসেবকদের পিসি—এসডব্লিউএসির সেই বিকেলের সরাসরি উত্তরসূরি। যন্ত্রটি দুই সংস্করণে চলেছে ১৯৬৭ পর্যন্ত।

২০০৭: উইন্ডোজ ভিসতা বিক্রি শুরু

উইন্ডোজ এক্সপির পাঁচ বছর পর মাইক্রোসফট ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি ভিসতা সবার জন্য ছাড়ে (ব্যবসা পেয়েছিল ২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে), সঙ্গে অফিস ২০০৭। ডিস্কের পাশাপাশি ডিজিটাল ডাউনলোডে বিক্রি হওয়া প্রথম উইন্ডোজ এটিই। ভিসতা মাইক্রোসফটের নিজের পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো বিক্রি হয়—দুই বছরে ২০ কোটি ব্যবহারকারী—আর তবু অপছন্দের হয়, হার্ডওয়্যারের দাবি আর অন্তহীন অনুমতির প্রশ্নের জন্য। খুচরা বিক্রি শেষ ২০১০ সালের অক্টোবরে; উইন্ডোজ ৭ (২০০৯) ছিল ক্ষমাপ্রার্থনা। বাংলাদেশে, যেখানে মেয়াদ ফুরানোর অনেক পরেও বেশির ভাগ পিসিতে এক্সপি চলেছে, ভিসতা মূলত এড়িয়ে যাওয়া হয়—পেছন ফিরে দেখলে যা ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।

ডেমোতে মাউসই ছিল সবচেয়ে ছোট জিনিস

এঙ্গেলবার্ট মাউসের জন্য স্মরণীয়, কারণ সবার কাছে পৌঁছেছে ওই অংশটিই; অথচ ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোর মঞ্চে কাটানো তাঁর নব্বই মিনিট—যে আয়োজনকে এখন বলা হয় মাদার অব অল ডেমোস—দেখিয়েছিল আপনি যে কম্পিউটারে এটি পড়ছেন, তার প্রায় বাকি সবকিছুই।

এক বসাতেই দর্শক দেখলেন নথি থেকে নথিতে লাফ দেওয়া হাইপারটেক্সট লিংক, ত্রিশ মাইল দূরের সহকর্মীর সঙ্গে একই ফাইল সম্পাদনার শেয়ার করা পর্দা, লেখার পাশের উইন্ডোয় ভিডিও কনফারেন্স, অংশ গুটিয়ে ও খুলে দেওয়া আউটলাইন সম্পাদনা, আর সংস্করণের ইতিহাস। ১৯৬৮ সালে—যখন কম্পিউটার মানে ছিল পাঞ্চ কার্ড জমা দিয়ে পরদিন ফিরে আসা।

মাউসের পণ্য হতে লেগেছে পনেরো বছর, বাকিটার ত্রিশ। ডেমোটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না; ছিল চালু একটি ব্যবস্থা, যাকে ধরতে শিল্পের লেগেছে তিন দশক।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।