প্রযুক্তি

প্রথম সরবরাহের ছয় সপ্তাহ পর এক সাইবারট্রাক মালিক পোস্ট করলেন এর প্রথম ত্রুটি: অসমান প্যানেল আর গোলমেলে টার্ন সিগন্যাল

টেসলা প্রথম দশটির মতো সাইবারট্রাক হস্তান্তর করে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর। প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর ন্যান নামে পরিচিত এক মালিক জানালেন বেডের পাশে প্যানেলের ফাঁক আর ত্রুটিপূর্ণ ডান ইন্ডিকেটর—স্টিয়ারিং ও অ্যাক্সিলারেশনের প্রশংসা করেও। স্টেইনলেস-স্টিলের পিকআপটি কী প্রতিশ্রুতি দেয়, দাম কত, আর এত অস্বাভাবিক ট্রাকে শুরুর ত্রুটি কেন বরাবরই সম্ভাব্য ছিল।

প্রথম সরবরাহের ছয় সপ্তাহ পর এক সাইবারট্রাক মালিক পোস্ট করলেন এর প্রথম ত্রুটি: অসমান প্যানেল আর গোলমেলে টার্ন সিগন্যাল

টেসলা তার প্রথম সাইবারট্রাক—দশ থেকে বারোটির মতো—সরবরাহ করে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর, ইলন মাস্ক কৌণিক স্টেইনলেস-স্টিলের পিকআপটি উন্মোচন করে মঞ্চে এর ‘অভঙ্গুর’ জানালা ফাটানোর চার বছর পর। ছয় সপ্তাহ পর এক শুরুর মালিক প্রকাশ করলেন প্রথম ত্রুটির প্রতিবেদন, আর টেসলাকে নতুন মডেল ছাড়তে দেখেছেন এমন যে কেউ যা আশা করবেন, তা-ই।

মালিক যা পেলেন

ন্যান নামে পোস্ট করা মালিক প্রায় ৮০ কিলোমিটার চালানোর পর সমস্যা দেখতে পান। ট্রাকের বেডের পাশের বাইরের প্যানেলগুলো সারিতে নেই—প্যানেলের ফাঁক, টেসলার নির্মাণমান নিয়ে বারবার ফেরা অভিযোগ, যা সমতল, রংহীন স্টিলের শরীরে আরও দৃশ্যমান, যেখানে প্রতিটি অসামঞ্জস্য আলো ধরে। ডান টার্ন-সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণও গোলমাল করে। ন্যান সযত্নে যোগ করেছেন, স্টিয়ারিং ও অ্যাক্সিলারেশন চমৎকার; অভিযোগ সংযোজন নিয়ে, প্রকৌশল নিয়ে নয়।

ট্রাকটি কী

সাইবারট্রাকের শরীর স্টেইনলেস স্টিলের, যা টেসলার দাবি অনুযায়ী আঁচড় বা টোল পড়ে না আর কখনো রং লাগে না। বেড ছয় ফুট লম্বা, চার ফুট চওড়া; বহনক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ পাউন্ড আর টোয়িং ক্ষমতা ১১,০০০ পাউন্ড। তিন সংস্করণের দাম ৬০,৯৯০, ৭৯,৯৯০ ও ৯৯,৯৯০ ডলার, আর ২০ লাখের বেশি মানুষ জমা দিয়েছেন—যে সারি টেসলার বর্তমান নির্মাণ হারে খালি হতে বছর লাগবে। প্রথম সড়ক দুর্ঘটনাও এল দ্রুত: ২৮ ডিসেম্বর পালো অল্টোর স্কাইলাইন বুলেভার্ডে একটি সাইবারট্রাক টয়োটা করোলার সঙ্গে ধাক্কা খায়। করোলা ক্ষতিগ্রস্ত; ট্রাকটি—যে খুঁটিনাটি এর বিপণনের অংশ হবে—নয়।

শুরুর ত্রুটি কেন সম্ভাব্য ছিল

প্রতিটি নতুন টেসলা প্রথম মাসগুলোয় ফিট-ও-ফিনিশের সমস্যাসহ এসেছে—মডেল ৩ ও মডেল ওয়াই কুখ্যাতভাবে—আর সাইবারট্রাক দুটোর চেয়ে কঠিন নির্মাণ সমস্যা: সমতল স্টেইনলেস প্যানেল ক্ষমাশীল বাঁকে চাপা যায় না, প্রতি মিলিমিটার ভুল দেখায়, আর কারখানার লাইন নতুন। টেসলার ধরন উৎপাদনের প্রথম বছরে এমন সমস্যা সারানো আর শুরুর গাড়ি ওয়ারেন্টিতে মেরামত। ছয় অঙ্কের রিজার্ভেশন নম্বর যাঁর, তিনি কার্যত সেটির অপেক্ষা বেছে নিয়েছেন।

এখান থেকে দেখা

বহুদিন কোনো সাইবারট্রাক বাংলাদেশে নিবন্ধিত হবে না—এটি শুধু বাঁ-হাতি ড্রাইভ, ২.২ মিটার চওড়া, আর এক লাখ ডলারের গাড়িতে আমদানি শুল্ক দাম মোটামুটি দ্বিগুণ করবে। কিন্তু এর সমস্যাগুলো এখানে বিওয়াইডি, এমজি ও অন্যদের হাত ধরে আসা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য শিক্ষণীয়: ব্যাটারির রসায়ন নয়, নির্মাণমানই মালিক প্রতিদিন যা নিয়ে থাকেন, আর সই করার আগে সেটিই পরীক্ষা করার জিনিস।

স্টেইনলেস স্টিলে প্যানেলের ফাঁক কেন সম্ভাব্য

ফাঁকগুলো গাফিলতি যতটা, উপাদানের ফল তার চেয়ে বেশি; আর কারখানাকে বিচার করার আগে প্রকৌশলটি জানার মতো।

সাধারণ গাড়ির বডি মাইল্ড স্টিলের, যা চাপ দিয়ে বাঁকানো হয়—আর বাঁকই প্যানেলকে শক্ত করে—তারপর প্রাইমার, ফিলার ও রং; আর রং অনেক কিছুই আড়াল করে। সাইবারট্রাকের বডি কোল্ড-রোল্ড স্টেইনলেস, এতটাই শক্ত যে গভীর চাপ নেয় না; ফলে প্যানেলগুলো প্রায় সমতল আর জোড়া লাগে দৃশ্যমান কিনারায়। সমতল প্যানেল বেশি নড়ে, এক মিলিমিটার শুষে নেওয়ার জন্য ফিলার বা রং নেই, আর পেছনের কাঠামোর চেয়ে স্টেইনলেস তাপে বাড়ে-কমে আলাদাভাবে।

ফলে দাঁড়ায় এমন এক নকশা, যেখানে রং করা গাড়িতে অদৃশ্য থাকত এমন সহনসীমা তিন মিটার দূর থেকে দেখা যাওয়া একটি রেখা হয়ে ওঠে। এটি কারণ, অজুহাত নয়—তবে এর মানে ফাঁকগুলো উপাদান বাছাইয়েরই ধর্ম, আর অভ্যাসে তা মিলিয়ে যাওয়ার কথা নয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।