প্রযুক্তি

এটুআই থেকে সাত উদ্ভাবক পেলেন সাড়ে ১৮ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকার সিডমানি—চারজন স্মার্ট পানির মিটারে, দুজন গর্ভাবস্থা পর্যবেক্ষণে, একজন সরকারি চিঠিতে

বিএএফ শাহীন হলে সরকারের অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট কর্মসূচি উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জের সাত বিজয়ীকে অনুদান দিল: বাড়ির আইওটি পানির মিটারিং, সেবাদাতার জন্য দূর থেকে এএমআই মিটারিং, বস্ত্র ও চামড়া কারখানার পানির ড্যাশবোর্ড, শিল্পের পানি-বিশ্লেষণ টুল, গর্ভাবস্থা পর্যবেক্ষণের দুটি ব্যবস্থা—সবচেয়ে বড় পুরস্কার, ৯০ লাখ টাকা—আর সরকারি অফিসের চিঠি-নির্মাতা। কে কী পেলেন, আর পানির মিটারিং কেন প্রাধান্য পেল।

এটুআই থেকে সাত উদ্ভাবক পেলেন সাড়ে ১৮ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকার সিডমানি—চারজন স্মার্ট পানির মিটারে, দুজন গর্ভাবস্থা পর্যবেক্ষণে, একজন সরকারি চিঠিতে

সাত বাংলাদেশি উদ্ভাবক তাঁদের ধারণা গড়তে পেলেন প্রত্যেকে সাড়ে ১৮ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা, বৃহস্পতিবার ঢাকার বিএএফ শাহীন হলে সরকারের অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট কর্মসূচি এটুআইয়ের অনুষ্ঠানে। টাকাটি পুরস্কারের বদলে বীজ তহবিল—কাজ করা সংস্করণ গড়ার মতো—আর সাতজন বাছাই হয়েছেন যে সংস্থাগুলো শেষমেশ তাঁদের গড়া জিনিস ব্যবহার করবে তাদের সঙ্গে চালানো উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ থেকে।

বিজয়ীরা

  1. আশিকুর রহমান—বাড়ির আইওটি-ভিত্তিক স্মার্ট মিটারিং ও সাব-মিটারিং, পানির মান ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণ আর এআই ও বিশ্লেষণে পরিবারকে কম অপচয়ে উৎসাহ। ১৮.৫ লাখ টাকা।
  2. আহমেদ নাসিফ হোসাইন—অ্যাডভান্সড মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারে স্মার্ট পানি পর্যবেক্ষণ, সেবাদাতাকে দূর থেকে গ্রাহকের ব্যবহার পড়তে ও সঠিকভাবে সরবরাহ বণ্টন করতে দেওয়া। ২০ লাখ টাকা।
  3. মো. খালেদ হাসান মোর্শেদুল বারি—বস্ত্র ও চামড়াশিল্পের জন্য ড্যাশবোর্ড, চাহিদামতো পানির ব্যবহার, পরিশোধন, পুনর্ব্যবহার ও অপচয় দেখানো। ২৮.৩২ লাখ টাকা।
  4. এএইচএম রেজওয়ানুল ইসলাম—কারখানার জন্য ডিজিটাল মিটার ও ‘ওয়াটার টুল অ্যানালিটিকস’ প্ল্যাটফর্ম: দূর থেকে পর্যবেক্ষণ, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড বিল, ব্যবহার বিশ্লেষণ। ২৫ লাখ টাকা।
  5. খালিদ আশরাফ—গর্ভাবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাদাতা, ড্যাশবোর্ড ও ডেটা আইল্যান্ড যুক্ত করা ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও রোগীর দ্বিমুখী যোগাযোগসহ। ৯০ লাখ টাকা, সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
  6. মেহেদী হাসান—স্মার্টওয়াচে গর্ভাবস্থার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্যসেবাদাতাকে সতর্ক করা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ৬০ লাখ টাকা।
  7. হাসিব উদ্দীন—সরকারি অফিসের জন্য ওয়েবভিত্তিক ডায়নামিক লেটার বিল্ডার, নথি, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মাইগভের সঙ্গে যুক্ত পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেমপ্লেটসহ। ৩৩.২ লাখ টাকা।

পানি কেন, চারবার

ঢাকা ওয়াসা, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান মঞ্চে ছিলেন, উৎপাদিত পানির বড় অংশ হারায় ফুটো ও মিটারহীন ব্যবহারে, আর দেশের পোশাক ও ট্যানারি গুচ্ছ এমন হারে ভূগর্ভের পানি টানে, যা সাভার ও গাজীপুরের নিচের পানির স্তর ডোবাচ্ছে। মিটারিং দুটিরই নিরাভরণ সমাধান, আর চারটি পানি প্রকল্প কার্যত ওয়াসা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবহারের অভিপ্রায়ে টুল ফরমাশ। গর্ভাবস্থার প্রকল্প একই যুক্তিতে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যার মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন, মাতৃমৃত্যু কমাতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চায়, যা এখনো প্রতি লাখ জন্মে প্রায় ১৬০।

মন্ত্রীরা যা বললেন

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্পে পৌঁছাতে উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দিতে হবে, যাতায়াত, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও পানিকে দরকারি ক্ষেত্র হিসেবে তালিকা করে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন সরকার সরকারি-বেসরকারি-একাডেমিক অংশীদারত্বে উদ্ভাবনে উৎসাহ দিচ্ছে আর প্রতিটি উদ্ভাবককে বাণিজ্যিক সাফল্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করবে; তিনি বলেন নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, পানির মান ও সরবরাহের ড্রোন বাংলাদেশেই বানানো হবে। উপস্থিত আরও: এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ এস এম ফখরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ ও এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।

পরীক্ষা

সিডমানি সহজ অংশ। বাংলাদেশে সরকারি উদ্ভাবন অনুদানের রেকর্ড এমন প্রোটোটাইপের, যা প্রদর্শনীতে কাজ করে আর কখনো কেনা হয় না। সাতজনের বিচার হবে বৃহস্পতিবারের চেকে নয়, বরং দুই বছরে ওয়াসার একজন মিটার রিডারের জায়গায় তাঁদের কেউ বসেছেন কি না তাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tanmay Das

টেক বিডিতে বিজ্ঞান, মহাকাশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে লেখেন তন্ময় দাস — গবেষণার ফল, মহাকাশ অভিযান আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের খবর। কোনো গবেষণা আসলে কী মেপেছে, তিনি তা-ই পড়েন; আর লেখেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য নয়, ঢাকার পাঠকের জন্য তার মানে কী—তা নিয়ে।