প্রযুক্তি

ব্যবহৃত যন্ত্রাংশে আইফোন সারাতে দেবে অ্যাপল—এই শরৎ থেকে পর্দা, ব্যাটারি ও ক্যামেরায় ক্রমিক নম্বর মেলানো লাগবে না, সঙ্গে চুরি-যাচাই

এ বছরের শেষ দিকে থেকে আইফোন ১৫ ও নতুন মডেল অন্য আইফোন থেকে নেওয়া আসল অ্যাপল যন্ত্রাংশ মেনে নেবে—প্রথমে ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও ক্যামেরা, পরে বায়োমেট্রিক সেন্সর—আজ যে জোড়া লাগানোর ধাপ সতর্কবার্তা দেখায় ও ফেস আইডি অচল করে, তা ছাড়াই। একই সঙ্গে অ্যাক্টিভেশন লক যন্ত্রাংশে বাড়ছে, তাই চুরি যাওয়া ফোনের যন্ত্রাংশ কাজ করা থামায়। ঢাকার মেরামতের দোকানের জন্য কী বদলায়।

ব্যবহৃত যন্ত্রাংশে আইফোন সারাতে দেবে অ্যাপল—এই শরৎ থেকে পর্দা, ব্যাটারি ও ক্যামেরায় ক্রমিক নম্বর মেলানো লাগবে না, সঙ্গে চুরি-যাচাই

বছরের পর বছর আইফোনের সবচেয়ে দামি তথ্য দাম নয়, মেরামত। অ্যাপল প্রধান যন্ত্রাংশকে ফোনের ক্রমিক নম্বরের সঙ্গে ‘জোড়া’ লাগায়, তাই এক আইফোন থেকে আরেকটিতে সরানো পর্দা বা ব্যাটারি—এমনকি আসল অ্যাপল যন্ত্রাংশও—সতর্কবার্তা দেখায় যে যন্ত্রাংশটি যাচাই করা নয়, আর টাচ আইডি ও ফেস আইডিসহ কিছু কাজ স্রেফ থেমে যেতে পারে। স্বাধীন মেরামতকারী ও মেরামতের অধিকার আন্দোলন এক দশক ধরে চর্চাটির বিরুদ্ধে লড়েছে। এ সপ্তাহে অ্যাপল নত হলো, আংশিক।

যা বদলায়

নিউজরুমের এক ঘোষণায় অ্যাপল জানাল, এ বছরের শেষ দিকে থেকে—যে সময়সীমা তারা দিয়েছে তা আগস্ট থেকে নভেম্বর—আইফোন ১৫ ও নতুন মডেল ব্যবহৃত আসল যন্ত্রাংশে সারানো যাবে আর পরে পুরোপুরি কাজ করবে। সেই যন্ত্রাংশে ক্রমিক নম্বর মেলানোর ধাপ উধাও। শুরুতে নীতিটি ধরে ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও ক্যামেরা; বায়োমেট্রিক সেন্সর—ফেস আইডি ও টাচ আইডি—পরে। এভাবে সারানো ফোন সতর্কবার্তার বদলে সেটিংসে যন্ত্রাংশের ইতিহাস দেখাবে, আর নতুন পর্দার ট্রু টোন ও ব্যাটারির স্বাস্থ্য পাঠ কাজ করানো ক্যালিব্রেশন অ্যাপলের হস্তক্ষেপ ছাড়া যন্ত্রেই চলবে।

মারপ্যাঁচ: যন্ত্রাংশও ট্র্যাক হয়

যন্ত্রাংশ কোথা থেকে আসে, অ্যাপল সে মাথাব্যথা থামায়নি; যাচাইয়ের উপায় বদলেছে। অ্যাক্টিভেশন লক—যে সুবিধা মালিকের অ্যাপল আইডি ছাড়া চুরি যাওয়া আইফোনকে অকেজো করে—এখন যন্ত্রাংশেও বাড়ছে। কোনো ডিসপ্লে বা ব্যাটারি যদি লস্ট মোডে বা অ্যাক্টিভেশন-লকড আইফোন থেকে এসে থাকে, গ্রহণকারী ফোন সেই যন্ত্রাংশের কাজ সীমিত করবে। লক্ষ্য চুরি যাওয়া ফোন থেকে খোলা যন্ত্রাংশের বাণিজ্য মারা, যা বরাবর জোড়া লাগানোর পক্ষে অ্যাপলের মূল যুক্তি। বৈধ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ পার হয়; ছিনতাই হওয়া ফোনের যন্ত্রাংশ নয়।

ঢাকায় এর মানে

বাংলাদেশে অ্যাপল স্টোর নেই, অল্প কয়েকটি প্রিমিয়াম রিসেলারের বাইরে অনুমোদিত মেরামত নেই, তাই এখানকার প্রায় প্রতিটি আইফোন সারে স্বাধীন দোকানে গ্রে-মার্কেটের যন্ত্রাংশে—যার অনেকটা অন্য আইফোন থেকে উদ্ধার করা। আজ সেই মেরামত ‘অজানা যন্ত্রাংশ’ সতর্কবার্তা তোলে, যা খদ্দেরকে দোকান সন্দেহ করায়। শরৎ থেকে আইফোন ১৫ ও পরের মডেলে বৈধভাবে মৃত ফোনের আসল ব্যবহৃত পর্দা পরিষ্কার কাজ করবে। দুটি জিনিস তবু সত্য থাকে: চুরি যাওয়া ফোনের যন্ত্রাংশ এখন অকেজোর চেয়েও খারাপ, কারণ ফোন তা চিহ্নিত করবে; আর অ্যাপলের নয় এমন তৃতীয় পক্ষের যন্ত্রাংশ এখনো স্কিমের বাইরে। সৎ দোকানের অবস্থান ভালো হয়; ছিনতাইকারীর কাছ থেকে পর্দা কেনা দোকান হারায় তার ব্যবসার মডেল।

সূত্র: দ্য ভার্জ, নিউজ১৮, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।