চীনের গোপন রোবোটিক স্পেসপ্লেন শেনলং—অর্থাৎ ‘ডিভাইন ড্রাগন’—এর প্রথম স্পষ্ট ছবি বলে বর্ণনা করে সেগুলো প্রকাশ করেছে মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)। ২০২০ সাল থেকেই যানটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে গোপন অভিযান চালিয়ে আসছে।
ডিআইএ বলছে, ছবিগুলো তোলা হয় ২০২৪ সালে, যানটি কক্ষপথে থাকা অবস্থায়—তুলেছে বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর, যার আগের নাম ম্যাক্সার টেকনোলজিস। ছবিগুলো নিয়ে ভ্যান্টর এক্সে পোস্টও দিয়েছে।
ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে
স্পেসপ্লেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ ফুট। এর পেলোড বে-র দরজা আংশিক খোলা। পেছনে যুক্ত আছে একটি স্যাটেলাইট বা সার্ভিস মডিউল।
নকশাটি অনেকটাই মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক্স-৩৭বি-র মতো। প্রতিবেদনে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা জোনাথন ম্যাকডাওয়েল বলেছেন, এটি তৈরি হয়েছে অনেকটা মার্কিন যানটির ধাঁচেই।

পর্যবেক্ষণ থেকে আগেই যা জানা ছিল
ছবি ছাড়াও শেনলং অদৃশ্য ছিল না। রাডার পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি অজ্ঞাত পেলোড বা কিউবস্যাট ছাড়ে, আর অভিযানগুলো মিলিয়ে মহাকাশে কাটিয়েছে কয়েক শ দিন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রমাণিত সক্ষমতা হলো ফিরিয়ে আনা: মাস কয়েক আগে নিজেই কক্ষপথে ছাড়া একটি স্যাটেলাইট যানটি উদ্ধার করে এনেছে। অর্থাৎ এটি কক্ষপথে বস্তু রাখতে পারে, রেখে আসতে পারে, ফিরে গিয়ে নিয়ে আসতে পারে, আর পৃথিবীতে নেমে আসতে পারে।
এই সমন্বয়—ছাড়া, অপেক্ষা, উদ্ধার, অবতরণ, পুনর্ব্যবহার—ই স্পেসপ্লেনকে রকেট থেকে কৌশলগতভাবে আলাদা করে। রকেট পৌঁছে দিয়ে শেষ। এটি ফিরে আসে, আর সঙ্গে কিছু নিয়েও আসতে পারে।
নীরবতাও খবরের অংশ
যানটি নিয়ে চীন কোনো ছবি বা তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্য নথিতে যা আছে, তার সবই বিদেশি পর্যবেক্ষণ, বিদেশি ছবি আর এখন বিদেশি এক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে থাকা জিনিস প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকে আসা।
সেই সিদ্ধান্তটিও পড়ার মতো। ডিআইএর এগুলো প্রকাশ করার দরকার ছিল না। প্রকাশ করে তারা একদিকে দেখিয়ে দিল মার্কিন স্যাটেলাইট কী দেখতে পায়, অন্যদিকে বিষয়টিকে একটি কাঠামোয় বসাল—ডিআইএ বলছে, চীনের দ্রুত বেড়ে ওঠা মহাকাশ কর্মসূচি সামরিক আধিপত্যের লক্ষ্যে নেওয়া কৌশলগত অগ্রাধিকার।
প্রতিবেদনটিকে কীভাবে মাপবেন
এখানে তথ্যের হাতবদলের শৃঙ্খলটি গুরুত্বপূর্ণ, আর তা স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা। ছবিগুলোর উৎস একটি বাণিজ্যিক ইমেজিং প্রতিষ্ঠান; প্রকাশ করেছে এমন এক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, চীনের সক্ষমতা কীভাবে দেখা হবে তাতে যার প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ আছে; আর এ অঞ্চলে খবরটি এসেছে এক ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের প্রতিবেদন হয়ে।
এতে ছবিগুলো মিথ্যা হয়ে যায় না—পেলোড দরজা খোলা অবস্থায় স্পেসপ্লেনের ছবি নিয়ে তর্ক করা কঠিন। কিন্তু সেগুলোকে ঘিরে ব্যাখ্যাটি পুরোপুরি এসেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক পক্ষ থেকে, আর বিপরীতে রাখার মতো কোনো চীনা বক্তব্য নেই। ছবি হলো প্রমাণ। ব্যাখ্যা হলো পক্ষ নেওয়া—দুটিকে আলাদা করেই পড়া উচিত।
স্পেসপ্লেন আসলে কী কাজে লাগে
সামরিক মূল্যটি গতি বা আড়ালে থাকা নয়—নিম্ন কক্ষপথে যা-ই থাকুক, কেউ না কেউ তা পর্যবেক্ষণ করে। মূল্যটি হলো দীর্ঘ সময় ওপরে থাকা আর অক্ষত অবস্থায় নেমে আসার সমন্বয়ে।
যে যান কয়েক শ দিন ভেসে থাকতে পারে, সে বারবার কক্ষপথ বদলাতে পারে; ফলে আজ কোথায় আছে দেখে বলা যায় না আগামী মাসে সে কোথার ওপর দিয়ে যাবে। আর যে যান নেমে আসতে পারে, সে যন্ত্রপাতি ফিরিয়ে এনে পরীক্ষা, মেরামত ও আবার ওড়াতে দেয়—তাতে পরীক্ষাগুলো বারবার করা সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে।
আর যে যান অন্যের স্যাটেলাইট উদ্ধার করতে পারে—নিজের যন্ত্রেই শেনলং যা দেখিয়ে ফেলেছে—সেটিই অন্য দেশগুলোকে অস্বস্তিতে ফেলে, কারণ পরিদর্শন আর সরিয়ে দেওয়া—দুটিতেই লাগে একই বাহু।




